বাংলাধারা ডেস্ক »
দেশে করোনার টিকার কোনো চালান আসেনি গত দুই মাসেও। কবে নাগাদ আসবে, তা কেউ বলতেও পারছে না।
এমন পরিস্থিতিতে দেশে তৈরি গ্লোব বায়োটেকের টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’-কে নৈতিক অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
এক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে সায় মিলবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী।
রোববার (২৫ এপ্রিল) তিনি সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের তৈরি করা তিনটি ভ্যাকসিনকে গত বছরের অক্টোবরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভ্যাকসিন প্রি-ক্লিনিক্যাল ক্যান্ডিডেটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এদিকে চুক্তির পর ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে এ পর্যন্ত দুটি চালানে ৭০ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম দুই মাসে ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ টিকা এসেছে ভারত থেকে।
এখনো পর্যন্ত দেশে যে সংখ্যক মানুষ প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাতে দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ লাখ ডোজের ঘাটতি। এতে প্রথম ডোজ নিতে পারলেও ১০ লাখ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা আনতে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে গত বছরের ৫ নভেম্বর বাংলাদেশের চুক্তি হয়। আর সেই চুক্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশে রপ্তানি করবে। সে অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা মিলছে না। অথচ অগ্রিম দেড় কোটি ডোজ টিকার মূল্য বাবদ আগেই ৫১০ কোটি টাকা নিয়ে রেখেছে সিরাম ইনস্টিটিউট।
দেশে এ পর্যন্ত ২১ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৬ লোক করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩০ এবং নারী ৭ লাখ ৩৭ হাজার ২৬৬ জন। টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫৭ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮০ জন। এর মধ্যে ৩৫ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৬ জন পুরুষ এবং নারী ২২ লাখ ২ হাজার ৫৭৪।
একদিকে টিকার ঘাটতি, অন্যদিকে করোনার সংক্রমণের বিস্তার— সব মিলিয়ে বিকল্প পথগুলোর কথাই চিন্তা করছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের করোনার টিকা উদ্ভাবনের একমাত্র দাবিদার গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন ‘বঙ্গভ্যাক্স’ অনুমোদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি অপারেশন্সের ম্যানেজার ও ইনচার্জ এবং টিকা আবিষ্কার গবেষক দলের সদস্য মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘যে প্রযুক্তিতে আমাদের টিকা তৈরি করেছি, মডার্না ও ফাইজারের টিকার প্রযুক্তি প্রায় একই। এ দুটা ভ্যাকসিন জরুরি অনুমোদন নিয়ে তাদের দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। তারা যে নকশা করেছিল, সেটা করোনার প্রথম দিকে। এগুলোকে বলা যায় প্রথম জেনারেশনের ভ্যাকসিন। আমাদের যে নকশাটা সেটা সেকেন্ড জেনারেশন ভ্যাকসিন। কারণ আমরা এটা গত বছর মার্চ থেকে শুরু করেছি।’
তিনি বলেন, ‘গেল বছর আমরা দেখেছি, ভাইরাসের যে মিউটেশনের কারণে মানুষ বেশি সংক্রমিত হতো, সেটা হচ্ছে ডি৬১৪জি। আমরা কিন্তু এটাকেও বিবেচনায় নিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেটের ইঞ্জিনিয়ারিংটা এমনভাবে করেছি যে, যেকোনো ধরনের মিউটেশন হলেও আমাদের ভ্যাকসিন কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কিন্তু আমরা তো এখন পর্যন্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালটাই শুরু করতে পারি নাই। ফলে আমরা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবো না যে, এটি বর্তমান করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে কি, করবে না।’
বাংলাধারা/এফএস/এআই