২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

অন্য কারখানা থেকে রড বানাতে লাইসেন্স লাগে, জানতোই না জিপিএইচ!

মিজানুর রহমান ইউসুফ »

ইস্পাত পণ্য রড তৈরির ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার বিষয়ে ‘গ্রাহকের সাথে জিপিএইচ ইস্পাতের প্রতারণা’ শিরোনামে ‘বাংলাধারা‘য় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবার পর বিএসটিআই জিপিএইচ ইস্পাতক কর্তৃপক্ষকে ‘কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না’ জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। তবে, জিপিএইচ ইস্পাত কর্তৃপক্ষ জবাব পাঠালেও বিএসটিআইয়ের তা পছন্দ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চট্টগ্রাম অফিসের উপ-পরিচালক (সিএম) নুরুল আমিন।

গত ২৭ মার্চ ‘গ্রাহকের সাথে জিপিএইচ ইস্পাতের প্রতরণা’ শিরোনামে ‘বাংলাধারা‘য় প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ৭ এপ্রিল বিএসটিআইয়ের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। এতে বলা হয়, জিপিএইচ ইস্পাতের উৎপাদিত স্টিল ফর দি রি-ইনফোর্সমেন্ট অব কনক্রিট (রিবড বার) গ্রেড-৪০০ সাইজ-১০ মিলি, ১২ মিলি, ১৬ মিলি, ২০ মিলি, ২৫ মিলি ও ৩২ মিলি এবং ৫০০ ডবলু সাইজ- ৮ মিলি, ১০ মিলি, ১২ মিলি, ১৬ মিলি, ২০ মিলি, ২৫ মিলি ও ৩২ মিলি এর অনুকূলে বিএসটিআই‘র অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু গত ১ এপ্রিল সার্ভিল্যান্স অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, মেসার্স সালেহ স্টিল এবং মেসার্স সীমা অটো স্টিল চট্টগ্রাম থেকে আইন বহির্ভূতভাবে চুক্তিভিত্তিক জিপিএইচ ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করছে।

বিএসটিআই হতে পণ্যের গুণগতমান পরীক্ষণপূর্বক আইন বহির্ভূতভাবে জিপিএইচ ব্র্যান্ড নামে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান দুটি হতে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করায় লাইসেন্স বাতিলসহ কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা এই মর্মে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়।

কারণ দর্শানোর নোটিশ জবাব দেয় জিপিএইচ কর্তৃপক্ষ। জবাবে বলা হয়, নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে অন্যকোন প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িকভাবে পণ্য উৎপাদন করতে গেলে বিএসটিআই থেকে সাময়িক লাইসেন্স নিতে হয় তা জিপিএইচ কর্তৃপক্ষের জানাই ছিল না। এজন্য তারা বিএসটিআইয়ের কাছে ক্ষমাপ্রার্থণা করে এবং অন্য কারখানা থেকে রড বানানোর কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে বলে অবহিত করে।

বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক (সিএম) নুরুল আমিন বাংলাধারাকে জানান, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে জিপিএইচ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে অন্য কারখানা থেকে রড বানিয়ে নিতে যে একটি লাইসেন্স লাগে সেটি তাদের জানা ছিল না। জবাবটি খুবই অগ্রহণযোগ্য এবং হাস্যকর। আমাদের কাছে তাদের এই জবাব পছন্দ না হওয়ায় আমরা তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা তলব করেছি।

নুরুল আমিন আরও বলেন, জিপিএইচ কর্তৃপক্ষ যদি ভালভাবে ব্যাখ্যা দিতে না পারে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন:

গ্রাহকদের সাথে জিপিএইচ ইস্পাতের প্রতারণা

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

আরও পড়ুন