২৫ এপ্রিল ২০২৪

কর্তৃপক্ষ বলছে- লোকবল সঙ্কট

অযত্ন-অবহেলায় কুবির শহীদ মিনার

শহীদ মিনার আমাদের গর্ব। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ-অনুভূতি। এই শহীদ মিনার আমাদের কাছে বড়ই স্পর্শকাতর। অথচ সেই স্মৃতির মিনারজুড়ে আজ কেবলই অযত্ন-অবহেলার ছাপ। বলছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কথ। শিক্ষার্থীদের অসচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে শহীদ মিনারটি অযত্নে থেকে যায় বেশিরভাগ সময়। দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার থাকায় নানা স্থানে শ‍্যাওলা জমেছে আবার কোথাও পোকার উপদ্রবে বসা যায় না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ মিনারের সিঁড়িগুলোতে জমে আছে ময়লা আবর্জনা, ছোট-বড় ঘাস, পাতা, বাদামের খোসা ও পশুপাখির মলমূত্র। এছাড়া প্রায়ই শহীদ মিনার হয়ে উঠে শিক্ষার্থীদের জন্মদিন পালনের স্থান। অনেক সময় জন্মদিন পালনের পর ময়লাগুলো শহীদ মিনার প্রাঙ্গণেই ফেলে রাখা হয়। ফলে মশা ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গের উপদ্রব বাড়ে।

এছাড়া বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকে ঘুরতে আসেন। শহীদ মিনার অপরিষ্কার থাকায় জুতা পায়েই উঠে যান অনেকে। প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে ঘটে এমনি এক ঘটনা। এ ব্যাপারে সেই বহিরাগতদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, সিঁড়ি অপরিচ্ছন্ন দেখায় তারা জুতা খুলেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম ব্যাচের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান বলেন, ‘শহীদ মিনারে বিভিন্ন মানুষ তাদের অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বাদাম খেয়ে খোসাগুলো ফেলে যাচ্ছে। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ জায়গা থেকে ময়লা ফেলার ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত। অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে এখানে বসতে চায় না অনেকেই। আর যারা পর্যটকরা আসে তাদের কাছে দেখতেও ব্যাপারটি দৃষ্টিকটু লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে আমার চাওয়া- যেন শহীদ মিনার দ্রুত পরিষ্কার করা ও রাখার ব্যবস্থা নেয়।’

একই ব্যাচের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জীবন বলেন, ‘শহীদ মিনারের এই অপরিচ্ছন্নতার জন্য দায়ী আমরা শিক্ষার্থীরাই। সবার উচিত নিজ সচেতনতাই নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা, কিন্তু প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে যথেষ্ট পরিমাণ ডাস্টবিন না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে না পেরে- যেখানে সেখানে ফেলছে। যার কারণে শহীদ মিনার অপরিচ্ছন্ন থাকে। প্রশাসনের উচিত যথেষ্ট পরিমাণ ডাস্টবিন এবং শহীদ মিনারের আশেপাশে পোস্টারিং করে দেয়া- যাতে সবাই নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলে।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরের প্রধান ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান বলেন, ‘এত বড় ক্যাম্পাসে কম লোকবল নিয়ে কাজ করতে হয় আমাদের। ভাগে ভাগে আমাদের কর্মীরা পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই পরিচ্ছন্নতার কাজ করে আসছে। নিয়মিত পুরো ক্যাম্পাস আমরা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করি, লোকবল যথেষ্ট না হওয়ায় প্রতিদিন পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদেরও আমাদের সহায়তা করতে হবে। অনেকেই বাদাম খেয়ে, টিস্যু ব্যবহার করে শহীদ মিনারে ফেলে রেখে যায়। এই বিষয়ে আমাদের ভিসি স্যারও অনেকবার কথা বলেছেন বিভিন্ন প্রোগ্রামে। তারা যদি এগুলো নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে, তাহলে শহীদ মিনারসহ বাকি জায়গাগুলোও দেখতে ভালো লাগবে এবং আমাদের কাজ করতেও সহজ হবে।’

আরও পড়ুন