২৫ এপ্রিল ২০২৪

সিএ প্রফেশনাল হওয়ার পরিবর্তে উপস্থাপিকা হয়ে গেছি : স্মিতা চৌধুরী

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় মুখ স্মিতা চৌধুরী। রিয়েলিটি শো, কর্পোরেট হোস্ট কিংবা নিউজ প্রেজেন্টেশন সবখানেই তার অবাদ বিচরণ। চট্টগ্রামে বেড়ে উঠা সেই ভাইরাল গার্ল স্মিতা চৌধুরীর গল্প আজ আমরা জানবো তার মুখ থেকেই।

হাসান সৈকত: সাম্প্রতিক সময়ে আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আলোচিত নাম। এতো এতো মানুষের মাঝে জনপ্রিয় হওয়ার যে অনুভূতি, তা আপনি কিভাবে অনুভব করেন?
স্মিতা চৌধুরী: হাজার হাজার মানুষ আমাকে চিনে এবং আমাকে পছন্দ করে, ভালোবাসে এই ব্যাপারটা ভাবতেই আমার ভীষণরকম ভালো লাগে। কিছু কিছু অনুভূতি আছে যা কখনো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তারমধ্যে এটাও একটা যা আমি অনুভব—করি তবে অনুভবের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারি না। মানুষ চিনছে এই ব্যাপারটা খুবই ভালো লাগে। যেহেতু অনেক মানুষ আমায় চেনে সে কারণে আমার কাজ করার তাগিদ আরো অনেকটা বেড়ে যায়।

হাসান সৈকত: আপনার মিডিয়াতে আসার প্রথম ধাপটা কি ছিল?
স্মিতা চৌধুরী: ভার্সিটিতে আমি যখন ফাস্ট সেমিস্টারে পড়ি ওই সময় রিহ্যাব নামের একটা রিয়েলএস্টেট হাউজিং এসোসিয়েশনের ফেয়ারে এনাউন্সমেন্টের দায়িত্ব পাই। এবং আমার লাইফের প্রথম উপার্জনটা আমি ওখান থেকেই করি। বলা যায় ওটাই আমার ক্যারিয়ারের শুরু। কারণ ওই ব্যাপারটা আমাকে খুব গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তবে আমার বলার শুরুটা স্কুল জীবন থেকেই। স্কুলে আমি ডিবেটিং করতাম। সেই থেকে যে বলা শুরু করেছি তা এখনো অবিরাম চলছে।

হাসান সৈকত: ক্যারিয়ারের শুরুটা কেমন ছিল? মসৃণ না দুর্গম?
স্মিতা চৌধুরী: আমি বিভিন্ন কর্পোরেট প্রোগ্রামগুলোতে হোস্টিং করতাম। পাশাপাশি এশিয়ান টিভিতে আমি বেশ কিছু কাজ করেছি এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও আমি ছিলাম। এরপর লাস্ট ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে একটা শো করি এবং ওই শো-এর মাধ্যমে আমি মানুষের মনের গভীরে জায়গা করে নিতে পেরেছি।

হাসান সৈকত: মিডিয়া নিয়ে অথবা মিডিয়া পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর কি কি করতে চান বা করার ইচ্ছে আছে?
স্মিতা চৌধুরী: আমার ইচ্ছে ভবিষ্যতে আমার নিজের ফিক্স একটা শো থাকবে। যেখানে মানুষ গেস্ট হিসেবে আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে। তখন বড় বড় সেলিব্রিটিরা যাতে বলে, আমি স্মিতার ইন্টারভিউতে যেতে চাই।

হাসান সৈকত: আপনি বিজনেস রিলেটেড সাবজেক্ট নিয়ে গ্রাজুয়েশন করে মিডিয়ায় কেন?
স্মিতা চৌধুরী: আমার সব সময় প্ল্যান ছিল যে আমি কোন একটা ব্যাংকে জব করবো এবং হ্যান্ডসাম একটা ছেলেকে বিয়ে করবো। সারাদিন অফিস করবো এবং সন্ধ্যায় বাসায় এসে ঘর সংসার সামলাব। তবে সময়ের সাথে সাথে মানুষের ইচ্ছের পরিবর্তন ঘটে। আমার বেলায়ও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

হাসান সৈকত: বিয়ে নিয়ে আপনার প্ল্যান কী এবং কেমন ছেলে পছন্দ আপনার?
স্মিতা চৌধুরী: বিয়ে নিয়ে মোটামুটি সব কিছু আমার গুছানো আছে। কোনো কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে হবে, কারা কারা আসবে, কে কে নাচবে, কোন পার্লারে যাবো সব কিছু। তবে একটাই আফসোস বিয়ের জন্য পাত্রটা খুঁজে পেলাম না।

হাসান সৈকত: পাত্র হিসেবে আপনার কেমন ছেলে পছন্দ?
স্মিতা চৌধুরী: আমার একজন সাহসী পুরুষ চাই। এমন একটা সাহসী মানুষ দরকার যে কখনো বলবে না তুমি সব সময় আমার পাশে বসে থাক, আমার জন্য ভাত রান্না করে দাও, ঘর মুছে দাও, কাপড় ধুয়ে দাও। কারণ আমার পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাকেই পালন করতে হয়। সো প্রচুর পরিমাণে পরিশ্রম করতে হয়। সেকারণে আমি চাই আমার মানুষটা যেন আমার কাজগুলোতে আমাকে সাপোর্ট দেয়। সকল ব্যক্তি দায়িত্ব নিতে ভয় পায় তাদের আমি কখনোই পছন্দ করি না।

হাসান সৈকত: আপনার জীবনে প্রেমের অভিজ্ঞতা কেমন?
স্মিতা চৌধুরী: আমার জীবনে প্রেমের অভিজ্ঞতা ফেন্টাস্টিক। আমার প্রেমের সময়টা, প্রেমে পড়ার মুহূর্তটা খুবই সুন্দর ছিল। এই যে প্রথম প্রথম প্রেমে পড়ার যে আনন্দটা, যা তোমার কাজের উদ্দীপনাকে আগের চাইতে অনেকটা বাড়িয়ে দেয় ওই মুহূর্তটা সুন্দর। তবে বিচ্ছেদ নয়। প্রেমে পড়ার মুহূর্তটা যেমন সুন্দর বিচ্ছেদের সময়টা তার চাইতেও বেশি বেদনাদায়ক। জীবনটা ছোট, এই জীবনটার মধ্যে একটা সম্পর্কে জড়িয়ে সেই সম্পর্কের জন্য কান্না করে করে বাকি জীবনটা নষ্ট করার কিছু নাই।

হাসান সৈকত: আপনার ফ্যান-ফলোয়াররা যখন আপনার সাথে সেলফি নিতে চায় তখন কিভাবে তাদের হ্যান্ডেল করেন? নাকি বিরক্ত হন?
স্মিতা চৌধুরী: না, এতে আমি কখনো বিরক্ত হইনি। কারণ ওরা আছে বলেই কিন্তু আমি আছি। ওরা আমাকে চায় বলেই আজ আমি সেলিব্রিটি। মানুষ যদি আমায় না চিনতো তাহলে আজ আমি এই স্মিতা চৌধুরী হয়ে উঠতে পারতাম না। ওরা সেলফি তুলতে আসলে আমার অনেক ভালো লাগে। অনেক সময় আমি যখন রাস্তা দিয়ে হেটে যাই দেখি অনেকেই তাকায়, আর বলে ওই যে স্মিতা যাচ্ছে বা বলে একে অপরকে বলে ওইটা স্মিতা। তবে কাছে এসে ছবি তুলতে চাওয়ার সাহসটা অনেকের কাছে থাকে না। আমি যখন এই ব্যাপার টা বুঝতে পারি তখন আমি নিজেই তাদের কাছে যাই এবং তাদের সাথে ছবি তুলি।

সমস্যা একটাই, এখন আর আগের মতো হুট করে বেরিয়ে যাওয়া যায় না। সব সময় একটা গর্জিয়াস, টিপটপ সেলিব্রিটি লুক নিয়ে বের হতে হয়।

আরও পড়ুন