২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ইয়াবা ডন ‘এসকে’র দেড় যুগের উত্থান-পতন

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার »

আধুনিক নেশা দ্রব্য ইয়াবা বিস্তারের অন্যতম ডন বলে খ্যাত কক্সবাজার জেলার টেকনাফের সাইফুল ইসলাম ওরফে হাজী সাইফুল করিম ইয়াবা চোরাচালানের জগতে ‘এসকে’ নামেই সমধীক পরিচিত ছিল। সেই ‘এসকে’ পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন শুক্রবার ভোররাতে। দেশব্যাপী ইয়াবা সাম্রাজ্য সৃষ্টির পর দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা আলোচিত ইয়াবা ডন সাইফুল করিম হঠাৎ ‘কুপোকাত’ হওয়ায় তার উত্তাণ-পতন নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই।

কিভাবে ইয়াবার সাথে তার সম্পর্ক, অতিঅল্প সময়ে বিশাল বিত্তবৈভবের ভান্ডার কিভাবে গড়া হলো এসব জানতে বিভিন্নজন গণমাধ্যমে চোখ বোলাচ্ছেন। ঘেটে জানার চেষ্টা করছেন তার অজানাসব তথ্য। এসবের পাশাপাশি ক্ষুদ্র মাদক ইয়াবার উপর ভর করে নামে-বেনামে গড়া হাজার কোটি টাকার সম্পদ তার কি কাজে এসেছে এসব নিয়েও চুলছেরা বিশ্লেষণ চালাচ্ছেন কৌতূহলী লোকজন। নানাজন নানা মন্তব্য লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করছেন নিজের অনুভূতিও।

তার বিষয়টি আলোচনায় বেরিয়ে আসছে, তার সাম্রাজ্য নির্বিঘ্ন করতে আইন শৃংখলা বাহিনীর বড় বড় কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক থেকে শুরু করে নানা পেশার ব্যক্তিদের সাথে তার দহরম সম্পর্কের কথাও। তার অপকর্মের জন্য শাস্তি পেলেও, সুবিধার বিনিময়ে তাকে সহযোগিতা করা ‘সেইফ গার্ডরা’ কি শাস্তি পাচ্ছেন সে দিকে নজর রাখছেন কৌতূহলী চোখ।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিলবুনিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হানিফ ওরফে হানিফ ডাক্তারের ছেলে সাইফুল করিম। পল্লী চিকিৎসক পিতার সংসারে ৬ ভাই ২ বোনের মাঝে সাইফুল করিম মেজ ছেলে। ১৯৯৪ সালের দিকে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় টেকনাফ হাই স্কুলের সামনে পিতার ফার্মেসীতে বসে পিতাকে সহায়তা করতেন সাইফুল। ১৯৯৬ সালের দিকে এসএসসি পাশের পর উচ্চ শিক্ষার আশায় চলে যান চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম মহসিন কলেজ পড়াকালীন ১৯৯৮ সালের দিকে চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জ এলাকায় টেকনাফের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের পণ্য বেচা-কেনায় সহায়তা করে খরচ যোগাতেন তিনি। খাতুনগঞ্জের বাণিজ্যিক প্রসারতা তার ভেতর বাসা গেড়ে যাওয়ায় অভাব-অনটনে তাকে বেশী দিন থাকতে হয়নি। ক্ষুদ্র ব্যবসার পাশাপাশি ধীরে ধীরে ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে দেড় যুগে হয়ে উঠেন দেশের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি।

উত্থান কাহানী:
মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু থানায় রয়েছে তার দাদার বাড়ি। সে সুবাধে মংডু এলাকার ইয়াবা ডন খ্যাত মিয়ানমারের মোস্ট ওয়ান্টেড ‘মগা সুইবিন’ নামক এক আন্তর্জাতিক ইয়াবা কারবারির সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে সাইফুল করিমের। তার পৃষ্টপোষকতায় ২০০০ সালের কাছাকাছি সময়ে টেকনাফ স্থল বন্দরে এসকে ইন্টারন্যাশনাল নামে আমদানিকারক ও ‘সিএন্ডএফ’ ব্যবসা শুরু করে সাইফুল। সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে বেশিরভাগ কাঠ আমদানি করতেন।

কাঠের বিশাল চালানের আড়ালে ইয়াবার প্রথম চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসে সাইফুল। ওই সময়ে ইয়াবা ট্যাবলেট সম্পর্কে আইনশৃংখলা বাহিনীর তেমন ধারণা ছিলনা। ফলে বিনা বাধায় দেশময় ছড়িয়ে যায় ইয়াবার কারবার। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়ে উঠেন মাফিয়া সাইফুল। ২০০১ সালে সরকারের পালাবদল হয়। চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে টেকনাফের বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহর সাথে সখ্যতা গড়ে তার বোনকে বিয়ে করেন সাইফুল। ফলে আগের মতোই টেকনাফ স্থল বন্দর তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। প্রভাবশালী বিএনপি নেতা আবদুল্লাহর ভগ্নিপতি হিসেবে আধিপত্য কাজে লাগিয়ে মিয়ানমার থেকে পণ্য অমদানির আড়ালে বিনাবাধায় ইয়াবার চালান আনতে থাকেন তিনি।

সরকারের সাথে চলা:
চারদলীয় জোটের মেয়াদান্তে তত্বাবধায়ক সরকার ও পরবর্তী ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে নিজেকে সরকারের সাথে চালানোর পদ্ধতি আবিস্কার করেন সাইফুল। দেশের আলোচিত-সমালোচিত উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদির সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন তিনি। সরকারি দলের প্রভাবশালী এমপি বদির পৃষ্টপোষকতায় আগের নিয়মে ইয়াবার চালান আনা অব্যহত থাকলেও কেউ টু-শব্দ করেনি। সিএন্ডএফ ব্যবসায় দিন দিন লাভের মুখ দেখে সাইফুল বিত্তবৈভবের মালিক হচ্ছে বলে প্রচার পায়।

সেসময় বদির নির্দেশে সাইফুল টেকনাফ উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় টন টন চাউলসহ নানা প্রয়োজনীয় পন্য সাহায্য হিসেবে দিয়েছে। সুবিধার আশায় এ সময়ে আইন শৃংখলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদরা সাইফুল করিমকে কাছে টেনে নিয়ে সহযোহিগতা দেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কারণে স্থল ও নৌপথে পাচার হওয়া সাইফুলের ইয়াবার চালান আইন শৃংখলা বাহিনীর কোন সংস্থা আটকের সাহস পেত না। এভাবে সেসময় থেকে তিনি প্রতিবছর সেরা করদাতা হিসেবে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) মর্যাদা পান সাইফুল করিম। এরপর থেকে দেশে-বিদেশে তার অবাধ যাতায়ত শুরু হয়। বাড়ে বাণিজ্যিক প্রসারতা।

ইয়াবা চালান আসত যেভাবে:
টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে কাঠ আমদানির আড়ালে ইয়াবার চালান আসার বিষয়টি ধীরে ধীরে প্রকাশ হতে শুরু করে। তখন রুট পরিবর্তন করে সাগরপথে মাছ ধরার ট্রলারে ইয়াবার চালান আনার প্রচলন চালু করে হাজী সাইফুল সিন্ডিকেট। ওসব ইয়াবার চালান খালাস করা হতো চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে। শুরু থেকে ইয়াবা তার নিয়ন্ত্রণে আসলেও ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল সময়ে বেশি পরিমাণ ইয়াবার চালান আনে সাইফুল করিম।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের কিছু কর্মকর্তা নিরাপত্তা দিয়ে হাজী সাইফুলের ইয়াবার চালান গন্তব্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একের পর এক চালান সফল ভাবে পৌঁছাতে সক্ষম হওয়ায় মিয়ানমারের ইয়াবা উৎপাদনকারিদের কাছে বিশ্বস্ত হয়ে উঠে ‘এস.কে’ (সাইফুল করিম) এস.কে নামেই সাইফুল করিম মিয়ানমারসহ সারা দেশে মাদক পার্টনারদের কাছে পরিচিত) এ কারণে মিয়ানমারে স্থাপিত ৩৮টি ইয়াবা কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবা বিক্রির বাংলাদেশের একমাত্র এজেন্টে পরিণত হন এস.কে। অন্যকেউ ইয়াবার চালান আনলেও টাকা উসুলের জিম্মাদার খাকতেন এস.কে। এজন্য মিয়ানমারের ওসব ফ্যাক্টরি থেকে চালান আসে হাজি সাইফুলের নামে।

কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও অঢেল টাকা জমানো ছাড়াও ইয়াবা ব্যবসার সুবিধার্থে হাজি সাইফুল মিয়ানমার-বাংলাদেশ চলাচলের জন্য একাধিক জাহাজ কিনেছে বলেও প্রচার আছে। চট্টগ্রামে ইয়াবা সাম্রাজ্য বিস্তারে সাইফুল নিউমার্কেট ও রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার বেশকিছু ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, এলাকার মাস্তান, বেকার যুবক, ছাত্রী সংস্থার নেতা-কর্মীসহ একটি বিশাল চক্র তৈরী করে।

বন্দরনগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদে ইয়াবার চালান পৌঁছাতে ছাত্রী সংস্থার চিহ্নিত নেত্রী-কর্মীদের ব্যবহার করতেন। অতিরিক্ত পর্দার কারণে ছাত্রী সংস্থার নেত্রী-কর্মীরা বেশ সমীহ পেত, এটাকে কাজে লাগিয়ে সঠিক জায়গায় চালান পৌঁছে দিত তারা। এভাবে আলিশান জীবন জাপন করতো অনেক নেত্রী-কর্মী।

যেভাবে পতন:
সারাদেশে ইয়াবার আগ্রাসন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে। স্বল্প সময়ে কাড়ি কাড়ি টাকা আয়ের সহজতম পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় ইয়াবা কারবার। তাই এর বাহক ও গ্রাহক বেড়েছে কল্পনাতীত ভাবে। টিনেজার আসক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ঘরে ঘরে অশান্তির দাবানল বাড়তে থাকে। প্রজন্ম ধ্বংস হচ্ছে দেখে রাষ্ট্রযন্ত্র ইয়াবা প্রতিরোধে কঠোর হয়ে উঠে। গত বছরের মে মাসে ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ নামে অভিযান শুরু করে আইন-শৃংখলা বাহিনী।

এরপরও ইয়াবার বড় বড় চালান আসা বন্ধ হয়নি। তাই, গোয়েন্দা সংস্থার নানা বিভাগের করা তালিকায় সাইফুল করিম, সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদিসহ বেশ কয়েকজনকে গডফাদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ব্যবসা থামাতে ক্ষুদ্র কারবারি নিধনে নামে প্রশাসন। এরপরও থামানো যায়নি ইয়াবা আসা। প্রশাসনের নানা স্থরের কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা থাকায় আইনশৃংখলা বাহিনীর ওসি এবং এসপি সমমানের কোন অফিসার সাইফুল করিম, সাবেক এমপি বদিসহ অন্য গডফাদারকে গ্রেপ্তারে করার সাহস করেনি। এসব কারণে তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা সংক্রান্ত কোন মামলা তো দূরের কথা, কোন ধরণের প্রমাণও ছিল না।

তবে বিপত্তি দেখা যায় ২০১৭ সালের দিকে। হঠাৎ করে কয়েকটি মাদক মামলায় আসামী হয়ে পড়ে সাইফুল করিম। ২০১৮ সালে কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়ে করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকায় ১ হাজার ১৫১জনের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সাইফুল করিমের নাম। সেই তালিকা ধরেই ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ ঘোষনায় সারাদেশে জোরালো অভিযান শুরু করে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি থেকে শুরু করে আইনশৃংখলা বাহিনী।

এরপর কোন উপায় না দেখে সাইফুল করিম গা ঢাকা দেয়। কৌশলে পালিয়ে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। অবশ্য, তখন পরিবারের পক্ষ থেকে গুজব ছড়িয়ে দেয় মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে অবস্থানের বিষয়টি। যাতে করে আইনশৃংখলা বাহিনীর দৃষ্টি ইয়াঙ্গুনে থাকে। পরে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি প্রথম দফায় ১০২জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করার সময়ে সাইফুল করিম আত্মসমর্পণের বিষয়টি জোরালো হয়ে উঠে। কিন্তু, সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেনি আলোচিত হাজি সাইফুল করিম।

প্রথম দফা আত্মসমর্পণের পর ইয়াবা কারবারিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দ্বিতীয় দফা আত্মসমর্পণের সুযোগের ঘোষনা দেয় আইন শৃংখলা বাহিনী। এই ঘোষনায় সর্বশেষ (২৬ মে) শনিবার রাত ১১টার দিকে দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নেমে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায় সাইফুল। অবশ্য, পুলিশের পক্ষ থেকে বার বার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ইয়াবা ডন সাইফুল করিমকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের কাছে স্বীকার করে যে, গত কয়েক দিন পূর্বে ইয়াবার একটি বড় চালান ইঞ্জিন চালিত বোট যোগে মিয়ানমার থেকে এনে টেকনাফের সদর স্থলবন্দরের সীমানা প্রাচীরের শেষ প্রান্তে নাফ নদীর পাড়ে মজুদ করেছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াবা উদ্ধারে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে উক্ত স্থানে পৌঁছলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার অস্ত্রধারি সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। এতে আটক সাইফুল করিম (৪৫) গুলিবিদ্ধ হয়। পরে হাসপাতালে মারা যায়। এসময় ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশী করে ৯টি এলজি, ৪২টি রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ৩৩ রাউন্ড কার্তুজের খোসা এবং ১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, পুলিশের সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইয়াবা ডন সাইফুলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে যা পরবর্তীতে আইনশৃংখলা বাহিনীর কাজে আসবে। ইয়াবা ডন সাইফুল করিমকে কারা পৃষ্টপোষকতা করেছে, কারা আর্থিক সুবিধা নিয়েছে প্রত্যেকের নাম বলেছে। এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীও রয়েছেন। আমরা এসব ব্যক্তিদের ধীরে ধীরে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, আইন আইনের পথে হাটছে। যাদের কারণে ইয়াবা দেশময় ছড়িয়েছে তাদের সবাইকে ক্রমান্বয়ে আইনের আওতায় আনা হবে। ইয়াবায় সম্পৃক্তদের রেহায় নেই।

উল্লেখ্য, হাজী সাইফুল করিম ছাড়াও চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন ৭১জন মাদককারবারি। এরমধ্যে পুলিশের সঙ্গে ২১জন, বিজিবি’র সঙ্গে ১৫জন, র‌্যাবের সঙ্গে ১৬ ও ইয়াবা কারবারি দু’গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে ১৯জন নিহত হয়েছেন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন