২৫ এপ্রিল ২০২৪

ঋতুরাজ বসন্তের শুরু

বাংলাধারা প্রতিবেদক »

আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। শীতের পত্রঝড় কাটিয়ে নতুন ফুলে-পাতায় সেজে উঠছে প্রকৃতি। কেবল বসন্ত উৎসব নয়, এদিনে একই সাথে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও। ভালোবাসার মানুষকে বিশেষভাবে ভালোবাসার দিন এটি। যেটি পাশ্চাত্যে বহু আগে থেকে পালিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে তাই নগরবাসীর মধ্যে প্রস্তুতির কমতি নেই। দুটি উৎসব আয়োজনের অন্যতম অনুষঙ্গই হলো ফুল। প্রিয়জনকে যাই উপহার দিন না কেন, ফুল না দিলে যেন চলেই না। তাই ফুল ব্যবসায়ীদেরও ফুলের চাহিদা অনুযায়ী এ দিনকে কেন্দ্র করে পোহাতে হয় বাড়তি চাপ। নগরীর চেরাগি পাহাড়ের পাদদেশে ফুলের দোকানগুলো তাই ভরে উঠেছে দেশি-বিদেশি ফুলের সম্ভারে।

এসব ফুলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জাতের গোলাপ ,গাঁদা, জারবেরা, কার্নিংশান, অর্কিড, গ্ল্যাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জিপসি, লিলি, চন্দ্রমল্লিকা। তবে চাহিদা বেশি গোলাপের। প্রতিটি দেশি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ইন্ডিয়ান গোলাপ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চায়নিজ গোলাপ ১৫০-১৭০ টাকা পর্যন্ত। মেয়েদের মাথার টিয়ারা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিটি বাকেট বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। বাড়তি চাহিদার কারণে অন্যদিনের তুলনায় প্রায় সবগুলো ফুলেরই বেশি দাম হাঁকা হচ্ছে। তবে তাই বলে প্রিয়জনের জন্য ফুল কিনতে পিছপা হচ্ছেন না ক্রেতারা।

মাহমুদ রশিদ নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ফুল কিনতে আসলাম প্রিয় মানুষের জন্য। বাঙালির প্রিয় ঋতু বসন্তের প্রথম দিন তো, সেই সাথে ভালোবাসা দিবসও। এ দিনটি প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের আনন্দমাখা। তাই ফুল ছাড়া এসব দিনের সব আয়োজন আসলে ফিকে হয়ে যায়। তাই ফুল নিচ্ছি।’

ফুল ব্যবসায়ী তৌসিফ উদ্দিন বলেন , ‘আমরা থাইল্যান্ড থেকে অনেক ফুল এনেছি। দেশিফুলের সাথে সাথে বিদেশি ফুলের চাহিদাও বেশি। তাছাড়া যশোর ও চকরিয়া থেকে প্রচুর ফুল এসেছে। ইতোমধ্যে অনেক ফুল বিক্রিও হয়ে গেছে । আশা করি আশানুরূপ বিক্রি হবে।’ মোহাম্মদ ফারুক নামের অন্য ব্যবসায়ী বলেন, ‘গোলাপের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ভালোবাসা দিবসে এ ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। তাই আমরা অনেক গোলাপ এনেছি। আশা করি, সব ফুলই বিক্রি হয়ে যাবে।’

চেরাগী ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রায় ৬০ লাখের বেশি টাকার ফুল এনেছি এবার। আজ ও কাল মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুরো দিনের বিক্রির ওপর এটি নির্ভর করছে। এখন পর্যন্ত আমরা ক্রেতাদের ভালোই সাড়া পাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম নগরীর যেসব স্থানে বসন্ত উৎসব

বসন্তরঙে নগরবাসীকে মাতিয়ে রাখতে নগরের বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করেছে নানা উৎসব। জেনে নেয়া যাক তবে আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) কোথায় কি আয়োজন থাকছে।

অমর একুশে বইমেলা

নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে অমর একুশে বইমেলায় প্রথমবারের মতো বসন্ত উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে। থাকছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি মেলায় আসা দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা। এখানে আজ শিশুসহ ৬ দর্শনার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

প্রমা আবৃত্তি সংগঠন

প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের আয়োজনে প্রতি বছরের মতো নগরীর সিআরবি শিরীষতলায় থাকছে ‘প্রমা বসন্ত উৎসব’।

এই আয়োজনে আবৃত্তির পাশাপাশি প্রমাসহ বিভিন্ন সংগঠন ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীত, নাচ, কবিতাপাঠ, যন্ত্রসংগীত পরিবেশন ও আল্পনা উৎসব অন্তর্ভুক্ত আছে। চলবে সকাল ৮টা হতে রাত ৯টা পর্যন্ত।

বোধন আবৃত্তি পরিষদ

বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে আন্দরকিল্লা সিটি করপোরেশনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আজ সারাদিন থাকছে বসন্ত উৎসব। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে বর্ণিল এ অনুষ্ঠানমালা। আয়োজনে থাকবে শোভাযাত্রা, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও ঢোলবাদন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি

জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বিকাল ৫টা থেকে একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বসন্ত উৎসব। এখানে থাকছে একক ও সমবেত সঙ্গীত, আবৃত্তি ও দলীয় নৃত্য। সমবেত সংগীতে অংশগ্রহণ করবে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত দলসহ অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গন, সংগীত ভবন। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবে ওড়িশী এন্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, সঞ্চারী নৃত্যকলা একাডেমি, চারুতা নৃত্য একাডেমি, প্রাপন একাডেমি, স্কুল অব ক্ল্যাসিকাল এন্ড ফোক ডান্স।একক সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশ বেতার-টেলিভিশনের শিল্পীবৃন্দ।

আরও পড়ুন