১৩ জুলাই ২০২৪

এখনো স্বাভাবিক হয়নি টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ যোগাযোগ

https://bangladhara.com/%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0/

মিয়ানমারের রাখাইন স্ট্যাটের নাইক্যংদিয়া এলাকায় গোলাগুলি বন্ধ না হওয়ায় পক্ষকাল পরও স্বাভাবিক হয়নি টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-যোগাযোগ। নাফ নদের কিনারা নাইক্যংদিয়া দিয়ে নৌ-যান চলাচলে গুলির শিকার হয়ে সেন্টমার্টিনগামী সার্ভিস বোটসহ সব ধরনের যান চলাচল থমকে গেছে। ফলে প্রয়োজনের তাগিদে বিকল্প পথ হিসেবে উত্তাল সাগর ডিঙিয়ে সেন্টমার্টিন হতে চলাচল করছে নৌযান। যাত্রী ও জরুরি পণ্য আনা-নেয়ায় নৌযান যাচ্ছে শাহপরীরদ্বীপ হয়ে সেন্টমার্টিন। ফিরছেও একই পথে। তবে, বর্ষায় সাগর উত্তাল থাকায় বিকল্প এ পথটি পাড়ি দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

শনিবার (২২ জুন) সকালেও শাহপরীরদ্বীপ থেকে জরুরি পণ্য এবং কিছু যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন গেছে দুইটি ট্রলার। একই সঙ্গে সেন্টমার্টিন থেকে রোগীসহ ১৫ যাত্রী নিয়ে শাহপরীরদ্বীপ এসেছে দুইটি স্পিডবোট।

স্বাভাবিক রুটের চেয়ে বিকল্প রুটটিতে উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে হলেও নৌযান চলাচল করায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান। তবে, টেকনাফ দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় হতাশ দ্বীপের মানুষ।

চেয়ারম্যান মুজিব জানান, শনিবার সকালে শাহপরীরদ্বীপের বদরমোকাম এলাকা হয়ে দুইটি ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে। ট্রলার দুইটি বেলা ১২টার দিকে দ্বীপে পৌঁছায়। ট্রলার দুইটিতে ৩০০ গ্যাস সিলিন্ডার, কিছু খাদ্যপণ্য ও ৩০-৪০ জন যাত্রী ছিল। এর আগে বৃহস্পতিবার দুইটি ট্রলারযোগে দ্বীপের ৩৫ শিক্ষার্থীসহ ৯২ জন যাত্রী নিয়ে দুইটি ট্রলার নিরাপদে শাহপরীরদ্বীপে পৌঁছে। কিন্তু দ্বীপের মানুষ চান, আগের মতো নাফনদী হয়ে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-যান চলাচল স্বাভাবিক হউক।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্পীড বোট মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম জানান, শনিবার প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে দ্বীপ থেকে রোগীসহ ১৫ যাত্রী নিয়ে দুইটি স্পিডবোট উত্তাল ঢেউ পাড়ি দিয়ে নিরাপদে শাহপরীরদ্বীপে পৌঁছে।

জনপ্রতিনিধি ও দ্বীপের সচেতন নাগরিকদের জানান, একেবারে বন্ধ থাকার চেয়ে বিকল্প পথে সীমিত পরিসরে হলেও নৌযান চলাচল করায় আমরা স্বস্তি পাচ্ছি। কোস্টগার্ড, বিজিবি, নৌ বাহিনীর সার্বিক নজরদারি ও নিরাপত্তায় দ্বীপে আসা-যাওয়া সচল থাকলে আমরা শংকাহীন থাকতে পারি। যদিও বিকল্প পথটিতে উত্তাল ঢেউ পাড়ি দিতে হয়। এতে কিছুটা ঝুঁকি এবং আতংকও থাকে। তবু দ্বীপবাসী প্রয়োজনে এটি নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো-এমনটি বলা যায়।

মিয়ানমারে সরকারি বাহিনীর সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতের মাঝে গত ১জুন বিকালে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যাবার পথে পণ্যসহ ১০ জন যাত্রীর ট্রলারকে নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একই স্থানে আরও তিনবার একই পথের নৌযানে গুলির ঘটনা ঘটে। ফলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বঙ্গোপসাগরকে ব্যবহার করে যাত্রীর আসা যাওয়া ও পণ্য নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। সেভাবেই চলছে এখনো।

আরও পড়ুন