১৫ জুলাই ২০২৪

এস আলম সুগার মিল

আগুন পুরোপুরি নেভাতে ব্যবহার হচ্ছে রোবট ‘লুফ-৬০’

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম রিফাইন্ড সুগার মিলের আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে এখন ব্যবহার হচ্ছে অগ্নিনির্বাপক রোবট ‘লুফ-৬০’। এ যন্ত্র দিয়ে মিনিটে এক হাজার লিটার স্পিডে পানি ছিটানো হচ্ছে। গুদামে লাগা আগুন এখনও পুরোপুরি নেভেনি।

চিনির কাঁচামালে দাহ্য পদার্থ থাকায় গুদামের ভেতরের আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগে যেতে পারে আরো তিন দিন মানে ৭২ ঘন্টা।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক এম ডি আবদুল মালেক।

তিনি বলেন, বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে যতটুকু ফায়ার সেফটি প্রয়োজন ততটুকু এস আলম সুগার মিলে ছিল না। বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফায়ার সেফটি আরও বেশি ভালো থাকার দরকার ছিল।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, চিনির কাঁচামালগুলো দাহ্য পদার্থ। সেগুলো না সরানো পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব নয়। ফলে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে তিনদিন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের এসব কর্মকর্তারা আরও বলেন, কারখানার আশেপাশে ফায়ার হাইড্রেন্ট দরকার। ফায়ার হাইড্রেন্টগুলো থাকলে এতো বেগ পেতে হতো না। আগুন নেভাতে আরও সহজ হতো। এখানে ফায়ার সেফটি ইনসিকিউরড।

কেননা, গোডাউনের ভেতরে ১২০০ থেকে ১৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আগুন জ্বলছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঢুকতে পারছেন না। কারণ আগুনের তাপমাত্রা বেশি। ফলে আগুনে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি আগুন কিভাবে লেগেছে তাও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অগ্নিকান্ডে কোনো হতাহত নেই। ফায়ার সার্ভিসের ১৪ টি ইউনিট কাজ করে বাহিরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এস আলম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত কুমার ভৌমিক ও এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের পাওয়ার প্লান্টের সহকারী ফিটার মনির বলেন, গোডাউনে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা এক লাখ টন চিনির কাঁচামাল ছিল। এর পুরোটাই পুড়ে গেছে।

তথ্যে জানা যায়, এস আলম রিফাইন্ড সুগার মিলসের দুটি প্লান্টে পরিশোধন করা হয়। এর মধ্যে প্লান্ট-১ এর উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৯০০ টন। প্লান্ট-২ এর উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ টন। থাইল্যান্ড এবং ফ্রান্সের প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তায় কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে।

কর্ণফুলী ইউএনও মাসুমা জান্নাত জানান, আগুন লাগার ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন