২৫ এপ্রিল ২০২৪

এ বছর ডেঙ্গু রোগী ১১ হাজার ছাড়াল

দেশে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৬৬১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের। এ নিয়ে দেশে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়াল। জুলাই মাসের প্রথম ৬ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হলেন ৩ হাজারের বেশি রোগী। আরও দুজনের মৃত্যুতে কেবল জুলাই মাসেই মৃত্যু হল ১৭ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যে ৬৬১ জন ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে ৪৩৩ জন ঢাকার এবং ২২৮ জন ঢাকার বাইরের।

নতুন ভর্তি রোগীদের নিয়ে এ বছর সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ হাজার ১১৬ জনে। আর এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জন হল।

বর্তমানে সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২,১২৯ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় ১,৪৯০ জন এবং ঢাকার বাইরে ৬৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি।

এবার বর্ষা শুরুর আগে থেকেই এইডিস মশাবাহিত এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। ৪ জুন দেশে ৬৭৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, যা এ বছরের সর্বোচ্চ।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২,১২৯ জন রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় ১,৪৯০ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৩৯ জন।

মাসের হিসাবে জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন, এপ্রিলে ১৪৩ জন, মে মাসে ১০৩৬ জন এবং জুন মাসে ৫৯৫৬ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তাদের মধ্যে জানুয়ারিতে ছয়জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে দুজন, মে মাসে দুজন এবং জুন মাসে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ বছর এইডিস মশা শনাক্তে চালানো জরিপে ঢাকায় মশার যে উপস্থিতি দেখা গেছে, তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় সামনে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছেন তারা।

গত মঙ্গলবার বর্ষা পূববর্তী জরিপের ফল প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকার ১১৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৭টিতে ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এইডিস মশার ঝুকিপূর্ণ উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ফলে ঢাকায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখন অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিলেন এবং শক সিনড্রোমে মারা গেছেন।

এইডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বছর ৬২ হাজার ৩৮২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে রেকর্ড ২৮১ জনের মৃত্যু হয়।

এর আগে ২০১৯ সালে দেশের ৬৪ জেলায় এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। সরকারি হিসাবে সে বছর মৃত্যু হয়েছিল ১৭৯ জনের।

আরও পড়ুন