১৪ জুন ২০২৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-

কক্সবাজারে চার আসনে ৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, স্থগিত-১

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে সোমবার। কক্সবাজারে চারটি আসনের মধ্যে ঋণখেলাপির অভিযোগে কক্সবাজার-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি’র মনোনয়নসহ ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। অসম্পূর্ণ কাগজপত্র জমা দেয়ায় একজন প্রার্থীর মনোনয়ন রাখা হয়েছে স্থগিত। বাকি ২৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান।

দুই দিনব্যাপী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার (৪ডিসেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি (রিটার্নিং কর্মকর্তা)।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, মনোনয়ন পত্রের সাথে দাখিলকৃত কাগজপত্রে অসঙ্গতি ও ত্রুটি থাকায় ৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, আচারণবিধি বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করছেন একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আচারণবিধি লঙ্গনের মতো কেউ অপরাধ করলে ছাড় দেয়া হবেনা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রার্থীদের লাগানো ব্যানার-পোস্টার ও পেস্টুন অপসারন করা হয়েছে। আমরা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

জেলা রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্ধীতার আশায় আওয়ামী লীগ মনোনীত ৪জনসহ ৫১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে ৩৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তফসিল অনুযায়ী দুইদিনব্যাপী যাচাই-বাছাই শেষে ২৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, ৯ জনের বাতিল ও একজন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)আসন:-
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১৩ জন মনোনয়ন পত্র জমাদেন। এদের মাঝে ৮ জনরে মনোনয়ন বৈধ ও ৫ জনের বাতিল করা হয়।

বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া প্রার্থীরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলম, তার ছেলে তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী তুহিন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, একই পার্টির সদস্য সচিব আব্দুল আওয়াল মামুন, জাতীয় পার্টি (জেপি) এএইচ সালা উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের বেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির আবু মো. বশিরুল আলম এবং জাতীয় পার্টির (এরশাদ) হোসনে আরা।

আর বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমদ, শফিকুল ইসলাম, কমর উদ্দিন, শাহেনেওয়াজ চৌধুরী, শামসুদ্দিন মো. ইলিয়াছ। সালাহ উদ্দিন ছাড়া বাকিরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনসহ উচ্চতর আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন:
এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীসহ ৭ জন তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কাগজপত্র সঠিক থাকায় সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)’র মাহাবুবুল আলম, জাকের পার্টির মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. জিয়াউর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মো. ইউনুস, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির (বিএসপি) মো. খায়রুল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)’র মো. শরিফ বাদশা।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসন:
এ আসনে ৯জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও ৬ জন তাদের মনোনয়নপত্র জমা করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। অসম্পূর্ণ তথ্য দেয়ায় এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয় ও একজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।

বৈধ প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বর্তমান সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির আবদুল আওয়াল মামুন, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মোহাম্মদ তারেক ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মজিদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এক পারসেন্ট ভোটের তালিকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির শামীম আহসানের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। কাগজপত্রে অসঙ্গতি ও ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শাহিন আকতার, এনপিপি প্রার্থী ফরিদ আলম, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) নুরুল আমিন সিকদার ভূট্টো, তৃণমূল বিএনপির মুজিবুল হক মুজিব, ইসলামী ঐক্যজোটের মোহাম্মদ ওসমান গনি চৌধুরী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস’র মো. ইসমাইল।

আর মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক। তিনি আবদুর রহমান বদিকে পিতা দাবি করে আদালতে মামলা দায়েরকারি। এছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর এবং টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল বশর।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুল বশর বলেন, সামান্য বিষয়ে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অথচ আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। তাই আমি আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছি। একই কথা জানালেন সোহেল আহমেদ বাহাদুরও।

আরও পড়ুন