২০ মে ২০২৪

করোনায় কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছে ফুডপান্ডা

শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত »

করোনার ভয়াল থাবায় চাকুরীর বাজারে যেমন বেড়েছে ভাঁটা ঠিক তেমনি অনেক পরিবার হারিয়েছে তার একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অভাব সে সাথে বেড়েছে বেকারত্ব।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান ‘গ্যালাপ’ বলছে বিশ্বে প্রায় ১৬০ কোটি মানুষের ৮০ কোটি মানুষ হারিয়েছে চাকুরী। করোনা মহামারির কারণে বিশ্বে প্রতি দুজনে একজনের আয় কমেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া গ্যালাপের জরিপ আরও বলছে, করোনার কারণে প্রতি তিনজনে একজন চাকরি অথবা ব্যবসা হারিয়েছেন। বিশ্বে এ রকম মানুষের সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশী।

স্থবির এই পরিস্থিতিতে কর্মহীন মানুষ হাঁটছে ভিন্ন কর্মপথে। ফুডপান্ডাকে সেই কর্মপথের অন্যতম একটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রাখা যেতেই পারে। যেখানে অ্যাপ ব্যবহার করে মানুষ ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারে খাবার আবার সে খাবার মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়ে আয়ের মাধ্যমে সৃষ্টি হচ্ছে অনেকের কর্মসংস্থান।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে রাজধানী ঢাকায় যানজটের কারণে অস্বস্তিতে ভুগতে থাকা ভোজনরসিক মানুষের পছন্দের রেস্টুরেন্টের খাবারের চাহিদাকে ঘরে বসে পাওয়ার লক্ষ থেকে যাত্রা শুরু করে ফুডপান্ডা। যাদের লক্ষ ছিলো যানজট পেরিয়ে রেস্টুরেন্ট মুখী মানুষের খাবার বাসায় পৌঁছে দেওয়া। বিশ্বব্যাপী চলছে তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব আর তাই অনলাইন সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে খাবার সরবরাহকে আরো সহজ ও সুবিধাজনক করার জন্যই যাত্রা শুরু করে ফুডপান্ডা।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ফুডপান্ডার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আম্বারিন রেজা ও জুবায়ের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় কার্যক্রম চালু রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ২০১৩ সালে শুরুর দিকে ঢাকার কয়েকটি জায়গায় খাবার সরবরাহ করলেও ধীরে ধীরে বিস্তৃতি বাড়তে থাকে পুরো রাজধানীতে। এরপর বন্দর নগরী চট্টগ্রাম এবং সিলেটে পরিধি বিস্তৃত করে ফুডপান্ডা। ২০২০ সালের শেষের দিকে পুরো দেশের সব নগর ও শহরগুলোতে একযোগে খাবার সরবরাহকারী জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করে ফুডপান্ডা। সে সুবাধে দেশের ৬৪ জেলায় অবস্থিত রেস্টুরেন্ট, হোম শেফ এবং দোকান সংযুক্ত রয়েছে ফুডপান্ডার সাথে।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে ফুডপান্ডায় কাজ করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৭’শর বেশী মানুষের। যাদের বেশীরভাগই তরুণ এবং যুবক। এছাড়া ৫০ বছর বয়সী অনেক মানুষও সম্পৃক্ত এই মুক্ত পেশার সাথে। তাছাড়া ফুডপান্ডার খাবার সংগ্রহকারক হিসেবে চট্টগ্রামে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ জন তৃতীয় লিঙ্গের।

ফুডপান্ডায় দিনে খণ্ডকালীন সময় কাজ করে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন চট্টগ্রাম সরকারি মডেল কলেজের ছাত্র ওয়ালী সাঈদ। তিনি বাংলাধারাকে জানান, ‘করোনা পরিস্থিতিতে বাবার চাকুরী না থাকায় আয়ের পথ খুঁজতে যুক্ত হয়েছেন ফুডপান্ডায়।’ বর্তমানে এখান থেকে আয় করে পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের হাল টানছেন তিনি।

চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট ধনিয়ালাপাড়া এলাকার আকবর হোসেন বাংলাধারাকে জানান, গ্রেজুয়েশন শেষ করার পর চাকুরী না পেয়ে যুক্ত হয়েছেন ফুডপান্ডায়। ফুল টাইম কাজ করে মাসিক আয় করছেন প্রায় করছেন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে গ্রাহকের খাবারের চাহিদা ছিলো অত্যাধিক। সে সাথে পাল্লা দিয়ে গত এক বছরে সারাদেশে ফুডপান্ডায় রাইডারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছ প্রায় ৭০ শতাংশ।

সাইকেল কিংবা মোটর বাইক চালিয়ে ১৮ বছর থেকে শুরু থেকে কর্মক্ষম যেকোনো বয়সের মানুষ ফুডপান্ডায় সারাদিন কিংবা খণ্ডকালীন কাজ করে ৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

ফুডপান্ডা থেকে বাংলাধারাকে জানানো হয়, আশেপাশে ৩ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত যেকোনা খাবারের দোকান থেকে খাবার সরবরাহ করতে পারবেন গ্রাহকরা। খাবারের সরবরাহের সময় এবং খাবারের গুণগত মান যাতে বজায় থাকে সেজন্য এই দূরত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আরো জানানো হয়, যেকোনো গ্রাহক খাবার অর্ডারের সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে খাবার সরবরাহ করে থাকেন ফুডপান্ডা।

চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার মুনতাহা চৌধুরী জানান, ‘করোনা পরিস্থিতিতে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার খাওয়াটা অনেকটা ঝূঁকির্পূণ। তাই বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ফুডপান্ডার মাধ্যমে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারছি আমরা।’

ফুডপান্ডার চট্টগ্রাম সিটি ম্যানেজার হোসেন মুহাম্মদ মিশু বাংলাধারাকে জানান, ‘করোনা পরিস্থিতিতে যখন মানুষ প্রতিনিয়ত চাকুরী হারাচ্ছে ঠিক সে সময় ফুডপান্ডায় কাজ করে সৃষ্টি হয়েছে আত্মকর্মসংস্থান। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের খাদ্য সরবরাহ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিষয় এবং ঝূঁকির বিষয়টিও থেকে যায়। আমরা প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষটি নিশ্চিত করে খাবার পাঠিয়ে থাকি।’

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ