১৪ জুন ২০২৪

কর্ণফুলীতে সুপারিশের ১১ মাস পর ঘুম ভাঙল পিডিবি’র

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর গ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে করা দুই ইউপি সদস্যের আবেদনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এমপি’র সুপারিশের দীর্ঘ ১১ মাস ১দিন পর টনক নড়ে কর্ণফুলী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পিডিবি’র।

জানা যায়, ভূমিমন্ত্রী সুপারিশ করার পরও দীর্ঘ ১১ মাস আবেদনটি ফেলে রাখেন পিডিবি অফিসে। কোন ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।সম্প্রতি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে উঠে আসে পুনরায়।

যদিও যখন মন্ত্রী পটিয়া বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ‘ব্যবস্থা নিন’ বলে সুপারিশ করেছিলেন তখন সাইফুজ্জামান চৌধুরী ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানেও তিনি ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সংসদ। অথচ তিনি সুপারিশ করার পরও পিডিবি অফিস খুঁটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কচ্ছপ গতি অবলম্বন করেছিলেন।

জানা যায়, ইছানগর গ্রাম থেকে বিদ্যুৎ এর এই খুঁটি পেতে স্থানীয়দের পক্ষে আবেদন করেছিলেন চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সুমন ও ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের। এ আবেদনে আরো সুপারিশ করেছিলেন চরপাথরঘাটার ইউপি চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমদ।

গত বছরের ১৮ জুন দেওয়া আবেদন সূত্রে জানা যায়, মইজ্জ্যারটেক পিডিবির অফিসের বিদ্যুৎ সেক্টর ৩ নং ফিডার এর আওতাধীন চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নং ইছানগর এলাকায় বেশ কিছু পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ অনেক দুরে। এতে তাঁদের অনেক কষ্টে পোহাতে হয়। এসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহারে যে তার ব্যবহার করা হয়েছে তাও অত্যন্ত নিম্নমানের। ফলে, সামান্য বাতাস আর বৃষ্টিতেও ছিঁড়ে যায়। এসব থেকে প্রতিকার পেতে এলাকার স্বার্থে দুই ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৩০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি প্রয়োজন বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

এমনকি জনস্বার্থে বিষয়টি বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের শতভাগ বিদ্যুতায়ন এর মিশন ভিশন সফল করার লক্ষ্যে এসব এলাকার লোকজনের বৈদ্যুতিক খুঁটির আবেদনে ভূমিমন্ত্রীও একাত্ম হয়ে সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ১১ মাসও কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখেনি বলে দাবি দুই ইউপি সদস্য সুমন ও তাহের এর।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিডিবির কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক উপ-কেন্দ্রের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ও বিদ্যুৎ সেক্টর ৩ নং ফিডার এর উপ-সহকারি প্রকৌশলী রাজু মন্ডল বলেন, ‘কাজটি মইজ্জ্যারটেক বিদ্যুৎ অফিসের নয়। এটি প্রজেক্টের অধীনে হচ্ছে। আমি যতটুকু জানি অনেক আগেই এটি পাঠিয়েছেন। কিছুটা এলাকার সার্ভেও হয়েছে। পুরোপুরি হয়নি। হয়তো প্রজেক্টের লোকজন ছুটিতে থাকায় কাজ এগিয়ে নেয়া যায়নি। আপনি প্রজেক্টের অফিসারের সাথে কথা বলতে পারেন।’

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রণয় আচার্য্য বলেন, ‘এ ধরনের কোন আবেদন আমার চোখে পড়েনি। হয়তো কাজটি অন্য প্রজেক্টের লোকজন দেখছেন। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।’

পটিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী আ. স. ম. রেজাউন নবী বলেন, ‘মন্ত্রীর সুপারিশ করার পরও কাজটি থেমে থাকার কথা নয়। হয়তো কোন কারণে ভুলে ছুটে গেছে কাজটি করতে। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এ/ই প্রজেক্টের সহকারি প্রকৌশলী কিশোর কুমার কান্ত বলেন, ‘কাজটি আমরা কিছুটা করেছি। ছুটিতে থাকায় করা হয়নি। আজকেই আবেদনটি আবারো আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আগামী বুধ-বৃহস্পতিবারে এলাকায় যাবো। তারপর ড্রয়িং করে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।’

আরও পড়ুন