১৪ জুন ২০২৪

সিজেকেএস সাব কমিটি-২০২৪

কারাতে’কে ঢেলে সাজাতে চায় সিজেকেএস

কারাতে! শব্দটা শুনলে সবার আগে যে কথাটি মাথায় আসে তা হলো- ব্রুসলি, জেকি চেন অথবা কোনো চাইনিজ সিনেমার মারামারির দৃশ্যপট। তবে প্রথমেই বলে রাখা ভালো, এটি কোনো চাইনিজ মার্শাল আর্ট না, কারাতে একটি জাপানিজ মার্শাল আর্ট। বর্তমানে কারাতে একটি আন্তর্জাতিক খেলা। বাংলাদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। এরই লক্ষ্যে কারাতের প্রচার ও প্রসার বাড়াতে বেশ আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন কারাতে কমিটি। ২০২৪ সালের জুন মাসে গঠিত এই কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের কারাতে অঙ্গনের সময়ের আলোচিত মুখ তুলু উশ শামস।

চট্টগ্রাম কারাতের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে কথা হয় চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কারাতে কমিটির সম্পাদক তুলু উশ শামসের সাথে। কারাতেতে দীর্ঘ ২৮ বছররের ক্যারিয়ার এই ক্রীড়া সংগঠকের। তিনি বয়সভিত্তিক কারাতে প্রশিক্ষণ এবং বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছেন। তার মূল ফোকাস হচ্ছে বিগত সময়গুলোর ব্যর্থতা থেকে বের করে এনে চট্টগ্রামের জন্য জাতীয় পর্যায়ে পদক আনতে নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি করা। এছাড়া কারাতে খেলোয়াড় ও প্রশিক্ষকদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার বিষয়টি নিয়ে কাজ করাও তার অন্যতম এজেন্ডা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এক লাফেই কখনো অনেক উপরে ওঠা সম্ভব নয়, ছোট ছোট লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করে সামনে এগুতে হবে। তবে অর্জনের দিক থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারাতের অবদান কোনো অংশে কম নয়।

তুলু উশ শামস বলেন, মানুষের ইচ্ছা শক্তির উপরে কিছু নেই। আমরা যে সময়টাতে কারাতে করেছি, তখন ক্রিড়া হিসেবে কারাতে অতটা জনপ্রিয় ছিল না। তবে বর্তমান সময়ে কারাতে শুধু মাত্র আত্মরক্ষার কৌশলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, কারাতে এখন একটি খেলা হিসেবে পরিচিত। কারাতের একটা বড় দিক হচ্ছে, কারাতে ছেলে মেয়েদের অনেক বেশি সংযমি, ধীরস্থির এবং সুশৃঙ্খল করে তোলে।

বাংলাদেশে যে পরিমাণ ছেলে মেয়ে কারাতের চর্চা করে তা ক্রিকেট ফুটবলের তুলনায় অনেক বেশি। কারাতে একটা ইনস্টিটিউশনাল ট্রেনিং। ক্রিকেট ফুটবল যেকোনো জায়গায় খেলতে পারবেন তবে কারাতে প্রশিক্ষনের জন্য একটা ইনস্টিটিশনের প্রয়োজন। প্রয়োজন সংগঠিত প্রশিক্ষনের। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার স্কুল-কলেজগুলোতে কিছু খেলা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। যার মধ্যে কারাতে অন্যতম।

তিনি বলেন, আমি প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সংগঠক হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থার সাথে জড়িত। চট্টগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থায় এখন পর্যন্ত কারাতের যে কার্যক্রমগুলো হয়েছে তার বেশির ভাগই আমার হাত ধরে হয়েছে। বর্তমানে আমি চট্টগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থার সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত আছি। আমি মনে করি, চট্টগ্রাম কারাতেতে বড়ো পরিবর্তন আনার একটা সুযোগ আছে আমার হাতে। বর্তমানে আমাদের কমিটি আগের যেকোনো কমিটির চাইতে অনেক বেশি ডায়নামিক। সেক্ষেত্রে আমরা কারাতে অঙ্গনে বিশাল এক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবো।

পেশা হিসেবে কারাতেকে বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গে তুলু উশ শামস বলেন, কারাতেকে ক্রিকেট ফুটবলের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন একটা কাজ। তবে বিভিন্নভাবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্রিড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে কারাতেকে পেশাগত ভাবে ইস্টাব্লিশ করতে না পারলে তা দীর্ঘ মেয়াদিভাবে টিকে থাকতে পারবে না। আমাদের বাস্তবিক লক্ষ্য মাত্রা হচ্ছে আগামী ৩ বছরের মধ্যে কারাতে অঙ্গনে বাংলাদেশ সাউথ এশিয়ান লেভেলে এক নম্বরে থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন থেকে উঠে খুব অল্প সময়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে সংগঠক, প্রশিক্ষক এবং আন্তর্জাতিক লাইসেন্সধারী বিচারক হিসেবে দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের কাছে স্বীকৃত হয়েছেন তুলু উশ শামস। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জাতীয় ফেডারেশনের রেফারী কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বরত আছেন। তাঁর ব্যাপক সাংগঠনিক তৎপরতায় বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় কারাতে রেফারীদের লাইসেন্সিং চালু হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে কারাতে ফেডারেশনের সকল লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া আটোমেশনের আওতায় এসেছে যা কারাতে ফেডারেশনকে তৃণমূলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত করেছে।

তিনি বাংলাদেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক লাইসেন্সধারী বিচারক। তাঁর সরাসরি প্রশিক্ষণে দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশী সময় পর চট্টগ্রামের কারাতে খেলোয়াড়েরা জাতীয় কারাতে প্রতিযোগীতায় তিনটি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি সাউথ এশিয়ান কারাতে প্রতিযোগিতার মতো সম্মানজনক প্রতিযোগীতায় রৌপ্য ও তাম্র পদক পেয়েছে। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বনেদী এবং প্রভাবশালী কারাতে সংগঠন ‘জাপান কারাতে এসোসিয়েশন’র বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং জাপান থেকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কারাতে প্রশিক্ষকও বটে। তাঁর কাঁধে চট্টগ্রাম কারাতের উন্নয়নের দ্বায়িত্ব পড়াকে সাধারণ খেলোয়াড় ও প্রশিক্ষকরা অত্যন্ত আশার দৃষ্টিতে দেখছেন।

আরও পড়ুন