২৫ এপ্রিল ২০২৪

তাহমিনা নিশার ‌‘কিছুটা ভৌতিক বাদবাকি রহস্য’ নিয়ে আমার কিছু কথা

ড. অনুপ দত্ত »

রহস্য কথাসাহিত্য এর যদিও ধারাটির উৎপত্তি প্রাচীন সাহিত্য এবং ওয়ান থাউজেন্ড অ্যান্ড ওয়ান নাইটস থেকে, আধুনিক রহস্য গল্প আমরা জানি উনিশ শতকের মাঝামাঝি এডগার অ্যালান পো তার ছোট গল্প, দ্য মার্ডারস ইন দ্য রু মর্গের মাধ্যমে আবিষ্কার করেছিলেন। যেটি তর্কযোগ্যভাবে বিশ্বের প্রথম কাল্পনিক রহস্য কথাসাহিত্য। যাইহোক, রহস্য কথাসাহিত্য অগ্রণী এবং জনপ্রিয় হয়েছিল উনিশ শতকের শেষের দিকে, স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের শার্লক হোমস গল্প দ্বারা, যা অপরাধ কল্পকাহিনীতে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

অবশেষে, গোয়েন্দা গল্পগুলি গোয়েন্দার উপর ফোকাস করে এবং কীভাবে অপরাধের সমাধান হয়েছিল, যখন রহস্য কল্পকাহিনী অপরাধীর পরিচয় এবং কীভাবে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল তার উপর মনোনিবেশ করে, একটি পার্থক্য যা আগাথা ক্রিস্টির অন্যান্য কাজ থেকে আলাদা করে এবং তারপরে সেখানে কেউ ছিল না।

রহস্য কাহিনীর সবচেয়ে পুরনো ও জানা দৃষ্টান্ত হলো, তিনটি আপেল, আরব্য রজনীর (আলিফ লায়লা) শেহেরজাদের বলা কাহিনীগুলোর একটি। গল্পে এক জেলে কোনও এক নদীতে একটি তালাবন্ধ ভারী সিন্দুক খুঁজে পায়। সে এটি বিক্রি করে দেয় আব্বাসী খলিফা হারুনুর রশীদের কাছে। সিন্দুক ভেঙ্গে পাওয়া যায় টুকরো টুকরো করে কাটা এক তরুণীর মরদেহ। হারুন তার উজির জাফর ইবনে ইয়াহিয়াকে নির্দেশ দেন অপরাধের তদন্ত করে ৩ দিনের মধ্যে খুনিকে খুঁজে বের করতে, নাহলে জাফরের শিরশ্ছেদ করা হবে। গল্পের এগিয়ে যাবার সাথে কাহিনী বিভিন্ন দিকে মোড় নেয়, রোমাঞ্চ সৃষ্টি হয়। গল্পটিকে তাই রহস্য কাহিনীর একটি আদিরূপ বলা যেতে পারে।

এবার আসি আলোচ্য রহস্য ও ভৌতিক কাহিনী,‘কিছুটা ভৌতিক বাদবাকি রহস্য’ বইটির কথা ও আলোচনা নিয়ে। ‘কিছুটা ভৌতিক বাদবাকি রহস্য’ গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো পড়লে পাঠক ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ পাবে ৷ তাহ্ মিনা নিশা এতো চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন যা পাঠকের হৃদয়ে আলোড়ন জাগাবে।

পৃথিবীর আলো অন্ধকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ রহস্য। মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর মতো প্রহেলিকা অনিশ্চয়তার হাত ধরে মানুষকে ঘিরে রাখে রহস্যময়তায়। যেসব ঘটনা ইতিমধ্যে সমাপ্ত অথবা আসন্ন- সেসবেরও কিছু কল্পনা, অদেখা ভয় আর কৌতূহলকে পাশে নিয়ে রহস্যঘন হয়ে ওঠে। রহস্য সবসময়ই উদ্ঘাটিত হয়- একথা বলা যাবে না; বরং অনুদ্ঘাটিত রহস্য চিরকালই অপার আগ্রহের বিষয় হয়ে থাকে। সমকালীন বাস্তবতায় যেমন, ইতিহাসের অনিবার্য নানা অনুষঙ্গে রহস্য ছড়িয়ে থাকে। কৌতূহলী মনের চির আগ্রহের বিষয় তাই রহস্য গল্প…(প্রকাশক)।

মোট ১৪টি গল্পের সমাহারে ‘কিছুটা ভৌতিক বাদবাকি রহস্য’ বইটির উপস্থাপনা বা গ্রন্থনা করেছেন নিশা জী৷ প্রকাশনার দায়দায়িত্ব ণৃ প্রকাশন, তেজগাঁও, ঢাকা, বাংলাদেশ। বইটির প্রথম প্রকাশ মহান এবং অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২৪।

আগেই বলেছি, মোট ১৪টি রহস্য বা ভৌতিক গল্প স্থান পেয়েছে৷সবগুলো মোটামুটি একই আকারের তবে ‘চৈতালীর আড়ালে’ রহস্য গল্পটি বেশ বড় সড় এবং নামের মাহাত্যে মনে হতে পারে প্রেমের গল্প৷কিন্তু না৷মোটেই তা নয়৷নায়ক বর্ষণ আহমেদ আর চৈতালীর ডায়ালগগুলি বেশ রহস্যময় এবং উপভোগী৷শেষ লাইনটা চমৎকার… ‘মেঘেরা (অর্থাৎ যেখানে বর্ষণ থাকে) সবসময়ই চৈতালীর আড়ালে থেকে যায়।’

তাহ্ মিনা নিশা ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাহ্ মিনা নিশা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ বাংলাদেশজুড়ে প্রতিবন্ধী নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন।গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, লতিফাসহ তার প্রকাশিত মোট বইয়ের সংখ্যা ২৩টি (একক ৮টি ও যৌথ ১৫টি বই)।

তাহ্ মিনা নিশা আমার অনেক পরিচিত লেখিকার মাঝে অরূপ রতন৷ পরিচয় হয়েছিল খুব বেশি দিন নয়। আমি তাকে নিশা জী বলেই সম্বোধন করি৷নিশা ও তার স্বামী ডক্টর আনিসুজ্জামান একে অপরের পরিপূরক মনে হয়। এসেছিলেন সপরিবারে কলকাতা বইমেলাতে প্রধান ও সম্মানিত অতিথি হয়ে আমার সম্পাদিত ‘Passion Bangla latifa Translated in English’ উন্মোচন অনুষ্ঠানে।

আমি সর্বান্তকরণে বইটি প্রচুর পাঠক সমাগমে বিবেচিত হোক এবং বামপার সেলস কামনা করি।

আরও পড়ুন