২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ক্রমবর্ধমান বন্দির চাপ সামলাতে কক্সবাজার কারাগার সম্প্রসারণের উদ্যোগ

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার »

বৃটিশ আমলের শেষদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ৫০ জন বন্দির ধারণ ক্ষমতা নিয়ে কক্সবাজারে প্রথম কারাগার নির্মিত হয়। বাংলাদেশ আমলে সেই কারাগারকে সম্প্রসারিত করে ধারণ ক্ষমতা উন্নীত করা হয় দেড়শ’ জনে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে কক্সবাজার শহরতলীর বাইপাসে ১২ একর জমির উপর নির্মিত হয় ৫৩০ জনের ধারণ ক্ষমতার জেলা কারাগার।

সেই কারাগারে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে বন্দির পরিসংখ্যান ৪ হাজারের নিচে নামছে না। ১৯ জুন ৪ হাজার ১৩৪ জন পুরুষ ও ২৫০ নারী মিলিয়ে সর্বমোট বন্দি রয়েছে ৪ হাজার ৩৮৪ জন। ধারণ ক্ষমতার প্রায় ৯ গুণ বন্দি। এ কারাগার প্রতিষ্ঠার পর হতে আড়াই হাজারের নিচে বন্দি না আসায় দেড় যুগের ব্যবধানে আবারো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জেলা কারাগারের।

এজন্য কারা অভ্যন্তরে ছয়তলা নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বাইরের অধিগ্রহণের আওতায় আনা হচ্ছে আরো ৭ দশমিক শূণ্য ৬ একর জমি। এ জমির মাঝে ২ দশমিক ৫৪ একর খাস ও ৪ দশমিক ৫২ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। ২০০১ সালে শহরতলীর কলাতলী বাইপাসে উদ্বোধন হওয়া জেলা কারাগারের জমির বর্তমান পরিমাণ ১২ দশমিক ৮৬ একর। যার মধ্যে কারাগারে অভ্যন্তরে ৮ একর ৯ শতক ও বাইরের জমির পরিমাণ ৪ একর ৭৭ একর।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্বাবধায়ক মো. বজলুর রশিদ আখন্দ বলেন, চলতি বছরের শুরু হতে কারাগারে গড়ে বন্দী থাকছে ৪ হাজারের অধিক। প্রতিদিনই আসছে নতুন নতুন বন্দি। বিগত একযুগের সমীকরণে দেখেছি কারাগারটি শুরুর পর থেকে ২ হাজার পাঁচশ জনের নিচে কখনো আসেনি। এটি দিন দিন বাড়তে থাকায় কারাভ্যন্তরে নতুন ৬ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ১২ কক্ষ বিশিষ্ট এ ভবনের ধারণ ক্ষমতা ২শ’ জন। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ ভবনটির কাজ চলতি বছরের শেষদিকে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, নতুন ভবন হলেও চলমান বন্দিদের ভোগান্তি কমবে না জানান তিনি।

জেল সুপার বলেন, ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব কক্সবাজার কারাগার পরিদর্শন করেন। এসময় বন্দিদের গাদাগাদি করে অবস্থান এবং বাড়তি কারা রক্ষীদের আবাসন সমস্যার বিষয়টি নজরে এলে তিনি কারাগারের পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক কারাগারের বাইরে কারা সম্প্রসারণের জন্য আশেপাশের আরো ৭ দশমিক শূণ্য ৬ একর জমি বন্দোবস্ত ও অধিগ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জমিগুলো বন্দোবস্ত ও অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন করে দিতে ২০১৮ সালের ১০ জন মাঝামাঝি সময়ে কারা মহাপরিদর্শকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সেই আবেদন পাশ হয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে এসেছে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, কারাগারের সম্প্রসারিত প্রস্তাবণা নিয়ে আমরা ক্রমে এগুচ্ছি। সময়মতো সকল বিষয় সম্পন্ন হবে বলে উল্লেখ করেন ডিসি।

জেলা কারাগারের নতুন অধিগ্রহণের প্রস্তাবণায় পড়া জমির এক মালিক আলহাজ্ব এখলাছুর রহমান বলেন, বাড়ি করতেই জমিটুকু নেয়া হয়েছিল। কিন্তু কারাগারে ধারণ ক্ষমতার ৯গুণ বন্দি অবস্থানের কথা গণমাধ্যমের বরাতে গত এক বছর ধরে জেনে আসছি। বন্দিরা মানুষ, কারো না কারো স্বজন। এভাবে একজনের জায়গায় ৯জন অবস্থান কষ্টসাধ্য। কারা সম্প্রসারণের প্রয়োজনে জমিটি ছেড়ে দিতে হলে খুশি মনে দেব। রাষ্ট্রীয় ভাল কাজে যুক্ত হতে পারলে ভালই লাগবে।

স্বাধীনতার পর কক্সবাজারে মামলা ও বন্দীর সংখ্যা বৃদ্ধির এ পরিসংখ্যান অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিরও কারণ বলে মনে করেন সমাজ বিজ্ঞানীরা।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোস্তাক আহমদ বলেন, সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির হার আশংকাজনক হারে বেড়েছে। তাই কারা সম্প্রসারণ করেও এর সুরাহা হচ্ছে না। সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান করে তা প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া কারাগার সম্প্রসারণের চেয়ে জরুরী বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ