২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

গাছে গাছে আমের সোনালি মুকুল, সৌরভ ছড়াচ্ছে বাতাসে

দেবাশীষ বড়ুয়া রাজু, বোয়ালখালী »

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ঋতু বৈচিত্রে মাঘ মাসে শীতের বিদায়লগ্নে স্বর্ণালী মুকুল জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ছোট-বড় প্রায় গাছে ঝুলছে থোকা থোকা আমের মুকুল। বাড়ির আঙিনা পুকুরপাড় ব্যক্তিউদ্যেগে করা বাগানসহ সকল আম গাছ মুকুলে ঝেঁকে পড়েছে। এতে বেড়েছে ভ্রমরের আনাগোনা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালীতে প্রতি বছরই গড়ে উঠেছে নতুন নতুন আম বাগান। গত বছরের তুলনায় এবারও বেড়েছে ৪/৫ টি নতুন আম বাগান। বাগানগুলোতে ছোট বড় ও মাঝারি অধিকাংশ গাছেই মুকুলে ছেয়ে গেছে।

কিছুদিন পরই এসব গাছে গাছে ঝুলতে দেখা যাবে নানা জাতের সুমিষ্ট আম। ভাল ফলন পেতে এখন থেকেই বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত আম চাষিরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ভালো ফলন হবে বলে জানান বাগানমালিকরা।

উপজেলার সারোয়াতলি ইউনিয়নের খিতাপচর এলাকায় ২০২০ সালে আড়াই একর জায়গাজুড়ে আম বাগান করেছেন দুই সহোদর তানভিরুল হক ইমন ও সায়দুল হক তুহিন। তাদের বাগানে রয়েছে আম্রপালি, বারি-৪, কিউজাই, রেডপালমার, ব্যানানা ও কাটিমনসহ নানান প্রজাতির ৬০০ আম গাছ।

তানভীর জানান, স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৪ বছর ধরে আমের আবাদ করে যাচ্ছেন। ছোট-বড় মাঝারি গাছ মিলিয়ে বেশ ভালই মুকুল এসেছে আম গাছগুলোতে। মুকুল থেকে গুটি ধরার পরে গাছে পিঁপড়া লাগতে পারে। পিঁপড়া আমের গুটির ক্ষতিসাধন করে। সঠিক পরিচর্যা আর আবহাওয়া ঠিক থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ বলেন, অধিকাংশ গাছে আমের মুকুল বেরিয়েছে। কুয়াশা ও পোকা-মাকড় থেকে গুটি রক্ষায় আম চাষী ও বাগান মালিকদের ছত্রাক নাশক প্রয়োগসহ নানা পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আম গাছে আগাম মুকুল এসেছে।

তিনি বলেন, বোয়ালখালীতে স্থানীয় দেশি জাতসহ বারি ৩, (অম্রপালি) বারি-৪, বারি -১১ কাটিমনসহ নানা জাতের ৪০/৪৫ টি আম বাগান রয়েছে। প্রতিটি বাগানের গাছে গাছে এসেছে পর্যাপ্ত মুকুল। বর্তমানে আমের মুকুল ধারণের জন্য পর্যাপ্ত আবহাওয়া বিরাজমান রয়েছে। এছাড়া গাছে যে পরিমাণ মুকুল আসছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশানুরূপ ফলন হবে।

তবে মুকুল আসার আগে ১ বার, ফুল ফোঁটার পর ১ বার ও গুটি হওয়ার পর ১ বার ছত্রাক নাশক ওকীটনাশক মিশিয়ে স্প্রে করে আমের ক্ষতিকর রোগ বালাই প্রতিরোধ করতে হবে। এ বিষয়ে বাগানমালিক ও আমচাষীদের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন