২০ মে ২০২৪

চট্টগ্রামের ১২ আসনে জয়ী নৌকা, অন্যান্য ৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের ভোটের বেসরকারী ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ফলাফলে ১২টি আসনে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। এছাড়া ১ আসনে জাতীয় পার্টি ও বাকি ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

রোববার (৭ জানুয়ারি) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল ইসলাম এসব ফলাফল ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে জয়লাভ করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান রুহেল। তিনি ১০৬টি কেন্দ্রে ৮৯ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন পান ৫২ হাজার ৯৯৫ ভোট।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ১ লাখ ৩৭০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব তরমুজ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৮৭ ভোট।

চট্টগ্রাম -৩ (সন্দীপ) আসনে ৫৫ হাজার ৬৫৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ২৮ হাজার ৬৫৬ ভোট।

চট্টগ্রাম -৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস.এম আল মামুন। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির প্রার্থী দিদারুল কবির পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৮০ ভোট। এছাড়া ঈগল প্রতীক প্রার্থী মো. ইমরান পেয়েছেন ৪ হাজার ৫০০ ভোট।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ৫০ হাজার ৯৭৭ ভোট পেয়ে টানা চতুর্থবারের মত জয়লাভ করেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহজাহান পেয়েছেন ৩৬ হাজার ২৫১ ভোট।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ২ লাখ ২১ হাজার ৫৭২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফজলে করিম চৌধুরী। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিউল আজম পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৯ ভোট। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সফিক-উল আলম চৌধুরী পেয়েছেন ২ হাজার ৬৫৪ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের স ম জাফর উল্লাহ চেয়ার প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৯৩৭ ভোট ও তৃণমূল বিএনপির (সোনালি আঁশ) প্রার্থী মো. ইয়াহিয়া জিয়া চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৯ ভোট।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাছান মাহমুদ। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইকবাল হাছান (মোমবাতি) পেয়েছেন ৯ হাজার ৩০১ ভোট। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির মুসা আহমেদ রানা (লাঙল) ২ হাজার ২০৬ , তৃণমূল বিএনপির খোরশেদ আলম (সোনালি আঁশ) ১ হাজার ৩৩১, ইসলামিক ফ্রন্টের আহমদ রেজা (চেয়ার) ১ হাজার ৩৯০, সুপ্রিম পার্টির মোরশেদ আলম (একতারা) ১ হাজার ১৩০ ভোট পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী+ চান্দগাঁও) আসনে ৭৮ হাজার ২৬৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস ছালাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয় কুমার চৌধুরী পেয়েছেন ৪১ হাজার ৫০০ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সোলাইমান আলম শেঠ পেয়েছেন ৮ হাজার ২৩২ ভোট।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী সনজিদ রশিদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮২। এ ছাড়া এ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী আবু আজম পেয়েছেন ১ হাজার ৫৩২ ভোট।

চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং) আসনে ৫৯ হাজার ২৪ ভোট ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু। এ আসনে ফুলকপি প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনজুর আলম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৩৫ ভোট ও কেটলী প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ মাহমুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৩৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ৫১ হাজার ৪৯৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এম এ লতিফ। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জিয়াউল হক সুমন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫২৫ ভোট।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১ লাখ ২০ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। সেখানে সামশুল পেয়েছেন ৩৫ হাজার ২৪০ ভোট। এছাড়া আরেক প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুচছফা সরকার (লাঙ্গল) প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৩৭৮ ভোট। এ আসনে মোট কেন্দ্র রয়েছে ১০৮টি।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ৬০ হাজার ৭৯ ভোট পেয়ে ৪র্থ বারের মত জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের মাস্টার আবুল হোসেন (মোমবাতি) পেয়েছেন এক হাজার ৬৬১ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রব চৌধুরী টিপু (লাঙ্গল) পেয়েছেন এক হাজার ৯২ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্টের স ম হামেদ হোসাইন (চেয়ার) পেয়েছেন ২৯৩ ভোট, খেলাফত আন্দোলনের মৌলভী রশিদুল হক (বটগাছ) পেয়েছেন ২৮৫ ভোট, তৃণমূল বিএনপির মকবুল আহমদ চৌধুরী সাদাদ (সোনালী আঁশ) পেয়েছেন ২৭৮ ভোট, সুপ্রিম পার্টির মো. আরিফ উদ্দিন (একতারা) পেয়েছেন ১৮২ ভোট।

চট্টগ্রাম -১৪ (দোহাজারী) আসনে ৭১ হাজার ১২৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল জাব্বার চৌধুরী পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৮৪ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ৮৫ হাজার ৬২৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম.এ মোতালেব সিআইপি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও গত দুই বারের সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুউদ্দিন নদভী পেয়েছেন ৩৯ হাজার ২৫২ ভোট।

চট্টগ্রাম -১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৫৭ হাজার ৪৯৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান সিআইপি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ কবির লিটন (ট্রাক) পেয়েছেন ৩২ হাজার ২২০ ভোট। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ মহিউল আলম চৌধুরী (মোমবাতি) ১ হাজার ১২৫, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল মালেক পেয়েছেন ৫০৩ ভোট।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ