১৪ জুন ২০২৪

চট্টগ্রামে বাড়ছে অটোরিকশার আধিপত্য, আতঙ্কে নগরবাসী

চট্টগ্রামে বাড়ছে অটোরিকশার আধিপত্য, আতঙ্কে নগরবাসী

হাসান সৈকত : নগর জুড়ে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে অগনিত অবৈধ অটোরিকশা। নগরীর বিভিন্ন এলাকা, যেমন চকবাজার, টাইগারপাস, আমবাগান, ঝাউতলা, আগ্রাবাদ বেপারি পাড়া, সিএমবি মোড়, রাস্তার মাথা এবং বড়পুলে দেখা যায় এইসব বেপরোয়া অবৈধ অটোরিকশার আধিপত্য। কোনো কিছুই যেন ঠেকাতে পারছে না তাদের। প্রায় প্রতিদিনই চলে পুলিশ ও অটোরিকশা চালকদের চোর-পুলিশ খেলা।

নগরীর আমবাগান এলাকায় অবৈধ অটোরিকশার আধিপত্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। অল্প বয়স্ক চালক ও অতিরিক্ত বেগে ছুটে চলা এ সকল অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

আমবাগান এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন বাংলাধারাকে বলেন, অটোরিকশার দাপটে রাস্তায় হাঁটা মুশকিল হয়ে পড়েছে। মনের মধ্যে একটা আতঙ্ক নিয়ে রাস্তায় হাঁটা-চলা করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে পুলিশ অটোরিকশা চালকদের তাড়া করতে দেখা যায়। কিন্তু যতক্ষণ পুলিশ আছে ততক্ষণ। এর পর আবার শুরু হয় এদের দৌরাত্ম্য।

এলাকার আরেক বাসিন্দা কলিম মিয়া বলেন, এই সকল অটোরিকশার চালকদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এসব অবৈধ অটোরিকশার নেই নির্দিষ্ট কোনো গতিসীমা। যেকারণে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দূর্ঘটনা।

প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৮০ টা অবৈধ অটোরিকশা চলাচল করে নগরীর টাইগারপাস থেকে আমবাগান, ঝাউতলা বাজার, পোর্টসিটি ইউনিভার্সিটি ও ওয়ারলেস মোড় এলাকা পর্যন্ত। এইসব অটোরিকশার প্রভাবে প্রায় প্রতিদিন যানজটের শিকার হন এলাকার সাধারণ জনগণ।

পোর্টসিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আকিব চৌধুরী বলেন, তারা খুবই বেপরোয়া। কোন ধরনের ট্রাফিক আইন ও ট্রাফিক সিগনাল মানে না তারা। একারণে রাস্তায় অনর্থক যানযটের শিকার হতে হয় আমাদের।

তিনি আরও বলেন, একটা রিকশায় চালক থাকে একের অধিক। তাদের ব্যবহার ও খুব খারাপ। কথার একটু হেরফের হলেই ঝগড়া ও হাতাহাতিতে নেমে পড়ে তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর আমবাগান এলাকার একজন ব্যবসায়ি বলেন, অটোরিকশা চালকদের সাথে কোনো প্রকার কথা কিংবা প্রতিবাদ করার সাহস কারো নেই। তারা খুবই বেপরোয়া। মারামারি কিংবা হামলার ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে না।

একজন অটোরিকশা চালকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা পুলিশকে টাকা দিয়ে তারপর রাস্তায় গাড়ি নামাই। আগে পুলিশ ধরতে পারলে ১২০০ টাকা করে নিতো। তবে বর্তমানে ২০০ টাকা কমিয়ে ১০০০ টাকা করে নেয় তারা।

এই ব্যাপারে নগরীর আমবাগান এলাকায় টহলরত নগর পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এইসব অবৈধ অটোরিকশা পুরোপুরি নির্মূল করা একটু দুষ্কর। তবে আমরা সবসময় চেষ্টা করি তাদের দৌরাত্ম্য কমানোর। অটোরিকশার দৌরাত্ম্য কমাতে নিয়মিত জরিমানা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন