২০ মে ২০২৪

চন্দ্রনাথ পাহাড়— প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমির নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক »

বিশাল পাহাড়। এর উপরেই শিবমন্দির। সাধু-সন্ন্যাসীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্ত অনুরাগীদের তীর্থ স্থান এটি। সেইসঙ্গে পর্যটকদের জন্যও রোমাঞ্চকর এক স্থান। এই পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান। অনেকেই সু-উঁচু এই পাহাড়ে উঠতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে নিচে নেমে যান। আবার অনেকেই পাহাড় জয় করার আনন্দ নিয়ে ফেরেন। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সীতাকুণ্ড পাহাড়ি আর সমতলের মিশ্রণের এ জনপদটি শুধু হিন্দুদের বড় তীর্থস্থানই নয় ভ্রমণপিয়াসীদের প্রিয়স্থানও বটে।

বলছি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কথা। অনেকেই হয়তো এরই মধ্যে এক বা একাধিকবার ঘুরে এসছেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে সাড়ে ৩ কিলোমিটার পূর্বে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অবস্থান। এর সর্বোচ্চ চূড়ার উচ্চতা ১১৫২ ফুট বা ৩৬৫ মিটার।

পৌরাণিক স্মৃতিবিজড়িত অসংখ্য মঠ-মন্দির আছে এই পাহাড়ে। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসে শিবচতুর্দশী মেলা হয় চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। দেশ-বিদেশের অনেক সাধু-সন্ন্যাসী আসেন মেলায়। প্রচলিত আছে, নেপালের এক রাজা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পৃথিবীর পাঁচ কোণে পাঁচটি শিবমন্দির নির্মাণ করেন। এর মধ্যে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের শিবমন্দির অন্যতম।

ধর্মগ্রন্থ ও ইতিহাস মতে, এখানে মহামুনি ভার্গব বসবাস করতেন। অযোদ্ধার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র তার বনবাসের সময় এখানে এসেছিলেন। তারা আসবেন জানতে পেরে মহামুনি ভার্গব এখানে স্নানের জন্য তিনটি কুণ্ড সৃষ্টি করেন। এরপর রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতা এই কুণ্ডে স্নান করেন। এরপর থেকেই স্থানের নামকরণ করা হয় সীতাকুণ্ড।

যেটিতে রাম স্নান করেছিলেন সেটির নামকরণ করা হয় রামকুণ্ড। তবে বর্তমানে কুণ্ডগুলো শুকিয়ে গেছে। ইটের দেয়াল দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে স্থানগুলোকে। চন্দ্রনাথ মন্দিরের পাদদেশে আছে উল্টা পাতালকালী মন্দির, ক্রমধেশ্বরী কালী মন্দির, ভোলানন্দগিরি সেবাশ্রম।

আরও আছে কাছারি বাড়ি, গিরিশ ধর্মশালা, বিবেকানন্দ স্মৃতি পঞ্চবটি, মহাশ্মশানভবানী মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দিরসহ আরও অনেক সনাতনী স্থাপনা। চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাওয়ার পথে ব্যাসকুণ্ডের পশ্চিম পাড়ে এবং ভৈরব মন্দিরের বাম পাশে একটি বিশাল বটবৃক্ষ আছে। এটি অক্ষয় বট নামে পরিচিত।

বাংলাধারা/এসএস

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ