২৫ এপ্রিল ২০২৪

এস আলম সুগার মিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

‘চিনির কাঁচামাল পুড়েছে, এটির প্রভাব বাজারে পড়বে না’

কাঁচামাল

‘এস আলম সুগার মিলে অপরিশোধিত চিনির কাঁচামাল পুড়েছে। এটির প্রভাব বাজারে পড়বে না। এস আলমের বিভিন্ন গোডাউন কিংবা অন্যান্য কারখানায়ও পর্যাপ্ত চিনির মজুদ রয়েছে। কারখানার মালিকগণ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। সামনে রমজানের বাজারে দাম বৃদ্ধির মতো ক্রেতাদের আশঙ্কা পাওয়ার মতো কোন হুমকি নেই।’

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম রিফাইন্ড সুগার মিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দুপুর ২ টায় কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগরের বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় ৯ সদস্যের তদন্ত টিমসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজনের উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাটি ঘুরে দেখেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘পরিবেশকে অক্ষুন্ন রেখে কারখানার পোড়া বর্জ্য কারখানার ভেতরেই গভীর গর্ত করে সংরক্ষণ করতে হবে। এসব বর্জ্য নদীতে পড়লে বিভিন্ন জলজ প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে এক্ষুণি ব্যবস্থা নিতে বলছি। এখন থেকে নদীতে যেন কারখানার কোন তরল পানি না পড়ে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান আরও বলেন, ‘বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট তাঁদের স্ব স্ব অফিসও আগুন লাগার ঘটনাটি তদন্ত করছেন। তাঁদের রিপোর্টও আমরাও দেখবো। তারপর জানা যাবে বিস্তারিত। এমনকি ভূস্মিভূত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও কমিটিকে তদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।’

এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমানের নেতৃত্বে গঠন করা ৯ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম, এস আলম রিফাইন্ড সুগার মিলস লিমিটেডের ডিজিএম মো. রফিকুল ইসলাম, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা জান্নাত, উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি পিযুষ কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-পরিচালক আবদুল মালেক, চট্টগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ফেরদৌস আনোয়ার, এস আলম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত কুমার ভৌমিক, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের পাওয়ার প্লান্টের সহকারী ফিটার মনির, কর্ণফুলী থানার ওসি মো. জহির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গতকাল ৪ মার্চ পৌনে ৪ টার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন ইছানগর এলাকায় এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ নামের ওই চিনি কারখানায় আগুন লাগে।

এতে নির্বাপণ কাজে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের সঙ্গে কাজ করেছেন কোস্টগার্ড ও বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও রেড ক্রিসেন্টের লোকজন কাজ করেন। তাঁদের সকলের চেষ্টায় তিন দিন পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

যদিও এরপূর্বে গোডাউনে থাকা ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ১ লাখ ম্যাট্রিক টন চিনির কাঁচামাল পুড়ে গেছে ছাই হয়ে যায়।

আরও পড়ুন