২৫ এপ্রিল ২০২৪

চয়েস বাস কি এখন কেউ ‘চয়েস’ করে!

মনিরুল হোসেন টিপু »

চয়েস বাস নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ অনেক প্রতিবাদ, লেখালেখি হচ্ছে কিন্তু অবস্থার কোন পরিবর্তন দেখি না। এটি নিয়ে কার্যকর কোন উদ্যোগও চোখে পড়ে না। চট্টগ্রাম-বারৈয়ারহাট রুটে চয়েস বাস এখন যাতায়াতে কারো মেইন চয়েসে নেই। লক্কর-ঝক্কর ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ভাঙা আর অত্যধিক ছোট সিট, যেখানে সেখানে বিরতি, পাম্পে তেল নেয়া আর পথিমধ্যে প্রায়ই গাড়ি বিকল হওয়া; সবমিলিয়ে চয়েস বাসের সার্ভিস নিয়ে এই রুটের যাত্রীরা একেবারেই বিরক্ত।

আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া। একই রুটে যেখানে লোকাল গাড়ি ভাড়া নেয় ৮০ টাকা; এবং দূরপাল্লার ভালো মানের বাসগুলো ভাড়া নেয় ১০০ টাকা সেখানে চয়েসের ভাড়া ১৩০ টাকা যা সার্ভিসের তুলনায় অনেক গুন বেশি।

এসব বিবেচনায় চয়েসকে বর্জন করাই আমার মনে হয় আসল সমাধান। শুক্রবার ছাড়া চয়েসের যাত্রী এখন খুবই কম। প্রতিদিন যারা এই রুটে অফিসে যাতায়াত করেন তেমন কেউই এখন চয়েসে উঠেন না। আস্তে আস্তে চাহিদা হারিয়ে চয়েস এমনিতেই হারিয়ে যাবে; যদি এর সেবা আর গাড়ির মান উন্নত না করে।

লোকাল বাসে যেতে চাইলে সকালে যারা অফিসে যান, সিডিএম ১৫ মিনিট পর পর গাড়ি ছাড়ে৷ ৮০ টাকায় বারৈয়ারহাট, ৭০ টাকায় মিরসরাই যাওয়া যায়। তবে সিডিএম থেকে এখন ভালো সার্ভিস দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটের গাড়িগুলো। শাপলা, শাহ আমানত এই দুইটা গাড়ি বেশ ভালো, দ্রুত যায়। হিলশা গাড়িও বেশ ভালোই টানে, যেটি একে খান সাড়ে আটটার আগে পরে পাওয়া যায়। আরো দ্রুত যেতে চাইলে প্রান্তিক, জোনাকি, সৌদিয়া, এস আলমে যেতে পারেন। গ্রাম বাংলা, তিশা প্লাস আর স্টার লাইনে উঠবেন খুব বেশি লেইট হয়ে গেলে; এরা ১৩০-১৭০ টাকার মধ্যে ভাড়া নেয়। হানিফ, শ্যামলি, এনা বাঁধন এরা বিভিন্ন কাউন্টারে দেরি করে সকালে।

বিকেলে অফিস শেষ করার পথে একটু চালাক হলে আরামসে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শহরে যাওয়া যায়। স্টেশন এর একটু সামনে বা পেছনে থাকলে উঠা যায়। তবে ওরা চেকারকে এভয়েড করতে চায়, তাই স্টেশনে থামে না।ঐ সময়টায় সিডিএমে না উঠা ভালো, অনেক সময় সিট পাওয়া যায়না৷ নিউ মুক্তা, শাপলা, দিগন্ত, খাজা বৈশাখী গাড়িগুলো কদমতলী যায়৷ জোনাকি, শাহী বড়পোল যায়। বিআরটিসির এসি বাসও এসময়টায় পাওয়া যায়।
তবে একটা জিনিস খারাপ লাগে, মাঝে মাঝে যাত্রীরা ভীষণ ক্ষেপে যায় বাসের স্টাফদের সাথে। তখন নিজের কাছে লজ্জা লাগে, কিন্তু কিছুই করার নেই। সময় সাশ্রয় আর আরামের জার্নির জন্য উঠতে হয়।

চয়েস বাসে এখন মানুষ উঠে ঠেকায় পড়ে, যদি অন্য গাড়ি না পায়। আর নয়তো যদি অতিরিক্ত গাট্টি গোট্টা থাকে। এটা হয়ে গেছে মালবাহী কাম যাত্রীবাহী বাস।

চয়েসের বিকল্প আমার মতো অসংখ্য মানুষ তৈরি করে নিয়েছে, সামনেও অনেকেই বিকল্প তৈরি করে নেবে।এই রুটে যাত্রী ক্রমেই বাড়ছে কিন্তু চয়েসের যাত্রী ক্রমান্বয়ে কমছে। এভাবে চলতে থাকলে চয়েসের চাহিদা হারাতে হারাতে একেবারেই হারিয়ে যাবে। চয়েসের বরং নিজেদের অস্তিত্ব টিকেয়ে রাখার জন্য ভাড়া কমানো আর ভালো সার্ভিস দেয়া জরুরি।

লেখক : ব্যাংকার
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

আরও পড়ুন