২৫ এপ্রিল ২০২৪

জনমানুষের নন্দিত নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী

সম্পাদকীয় »

কেবল শব্দের ঝংকার নয়, যিনি কাজ করে প্রমাণ করেছেন রূপকারের প্রকৃত অর্থ। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য তিনি ছিলেন একরোখা। চাটগাঁর প্রবল জনপ্রিয় নেতা হিসাবে তিনি যে পর্বতসম ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তার মূলে ছিল বৃহত্তর চট্টগ্রামের মাটি-মানুষের প্রতি তার নিখাঁদ ভালোবাসা। চট্টগ্রামে তাঁর এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়। বঙ্গোপসাগরের নোনা বাতাস আর পার্বত্যভূমির অক্সিজেনের ভিতরে বেঁড়ে উঠা সেই একটি নাম এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। সাগরের জোয়ার-ভাটা আর পাহাড়ের অটলতায় রয়ে গেছে, কিন্তু জাগতিক নিয়মে আজ আর তিনি নাই।

চট্টলার কিংবদন্তি আলহাজ এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আজ পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। মহান নেতার এই মৃত্যুবার্ষিকীকে বিশেষভাবে স্মরণ করছে সরকারি নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) প্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাধারা ডটকম পরিবার। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাধারা প্রকাশ করেছে বিশেষ ম্যাগাজিন ‘হৃদয়ে চট্টলবীর’।

আমরা জানি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কম কাজ করেননি চট্টগ্রামের প্রয়াত সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এই মেয়রের দীর্ঘ কর্মজীবনে চট্টগ্রামে পরিবর্তন এনেছেন অনেকখানি। বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী রাজনীতিরও বীর পুরুষ, বিপ্লবী নেতা, চাটগাঁ দরদি, ইসলাম দরদি, আলেম-ওলামা মাশায়েখদের অভিভাবক পৃষ্ঠপোষক এবং সংখ্যালঘুদের কাছেও ছিলেন আস্থাভাজন।

চট্টগ্রামের অনেক কিছুই তো তাঁর অবদান। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, বৃক্ষমেলা, বহুবিধ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড অনেক কিছুই তার সৃজনকৃত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে তাঁর অবদান অনেক বিস্তৃত। নাগরিক সেবা প্রসারে তিনি ছিলেন উদ্যমী। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজ করে গেছেন অফুরান প্রাণশক্তি নিয়ে। তিনি নিজ প্রচেষ্টা ও অন্যদের নিয়ে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন একটি উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অনন্য একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার নাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়। এটি আমাদের গর্ব করার মতো। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু বিভাগ আছে, যেগুলো দৃষ্টান্তযোগ্য।

চট্টগ্রামের যে লাইফ লাইন রাস্তাটি খুলশী অর্থাৎ ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের যোগাযোগের রাস্তা, সেটি করতে তাকে ব্যাপক প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তারপরও তিনি সফল হয়েছেন। তিনি ছিলেন উন্নয়ন ও সেবার প্রতীক। তার অবদান যেদিকে তাকাব, সেদিকেই দেখব আমরা। ছাত্রজীবন থেকেই তার সংগ্রামী জীবনের সূচনা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য তিনি সারাদেশে পরিচিতি পেলেও সব সময় নিজেকে চট্টগ্রামের রাজনীতির গণ্ডিতেই ধরে রেখেছেন। কারণ তার কাছে চট্টগ্রামই ছিল ধ্যান-জ্ঞান। তিনি চট্টগ্রামকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো রাজনীতিকরা যুগে যুগে জন্মান না। তাকে বলা হতো চট্টলবীর। রাজনীতিক ও একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে বরাবরই জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে গেছেন। কী করেননি তিনি। মহাপ্রয়াণের পঞ্চম বার্ষিকীতে চট্টল কিংবদন্তির মহান স্মৃতির প্রতি অবিরল শ্রদ্ধা।

আরও পড়ুন