বাংলাধারা প্রতিবেদক»
ফেসবুকে পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে ফয়সালের সঙ্গে রিমির (ছদ্মনাম) গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। এক পর্যায়ে রিমি জানতে পারে ফয়সাল দুই সন্তানের পিতা। এরপর ফয়সালের সঙ্গে রিমি সম্পর্ক ছিন্ন করে। কিন্তু গোপনে তাদের মধ্যকার অন্তরঙ্গ ছবি কৌশলে মোবাইলে ধারণ করে রেখেছিল ফয়সাল। এরপর শুরু হয় নানাভাবে ব্লাকমেইল।
সেইসব ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ফের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যে চাপ দেয় ফয়সাল। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি ওই তরুণী। আর তাতেই ক্ষেপে যায় ফয়সাল। সে হোসাইন নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় সেই ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে দেয় রিমির পরিবারের কাছে। শুধু তাই নয়, সেই ছবি আপলোড করে ফেসবুকেও। এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নগরের কর্ণফুলী থনায় মামলা দায়ের করেন।
সোমবার (২৫ জুলাই) কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে র্যাব-৭।
গ্রেফতার মো. হোসাইন (৩৪) কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা গ্রামের অলি আহমদের পুত্র।
র্যাব জানায়, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে জনৈক ফয়সালের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে ভিকটিম যখন জানতে পারে যে ফয়সাল বিবাহিত এবং তার দুটি সন্তান আছে তখন সে ফয়সালের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
পরবর্তীতে ফয়সাল তার মোবাইলে কৌশলে ধারণ করা ভিকটিমের ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে আবারও তার সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় এবং তাকে হুমকি দেয় যে, ভিকটিম যদি তার সাথে শারীরিক সর্ম্পক না করে তবে সে ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে।
এভাবে ভিকটিমকে ব্লাকমেইল করে ফয়সাল বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে টাকাও আদায় করত। এক পর্যায়ে ভিকটিম তার প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ফয়সাল ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৫ জুলাই জনৈক মো. হোসাইনের সহায়তায় ভিকটিমের বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তার স্বজনদের মাঝে ছড়িয়ে দেয় এবং ফেসবুকে আপলোড করে।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) মো. নুরুল আবছার বাংলাধারাকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগ এনে ভিকটিম কর্ণফুলী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর আমরা অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেফতার করি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় ওই ঘটনার সঙ্গে সে সম্পৃক্ত।’
গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
বাংলাধারা/আরএইচআর