২০ মে ২০২৪

নগরীর ‘ফুসফুস’— প্রশান্তির খোঁজে নগরবাসী

আসমা আক্তার প্রিয়া »

চট্টগ্রাম নগরীর দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের নাম সিআরবি। প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ভিড় জমান এই জয়গায়। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি, আরাম আর মানসিক প্রশান্তির খোঁজে সময় পেলে নগরবাসী জমায়েত হন সিআরবির শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

পুরো এলাকায় দৃষ্টিনন্দন আঁকা-বাঁকা, সর্পিল রাস্তা উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড় টিলা, বন-বনানী ছায়া সুনিবিড় এই বিশাল এলাকাটি অঘোষিত ভ্রমণের জায়গা হিসেবে যুগ যুগ ধরে চট্টগ্রামের মানুষদের দিয়ে আসছে বিনোদনের আস্বাদন।

এখানে ঘুরত আসা চট্টগ্রাম পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী কাইয়ুম বাংলাধারাক বলেন, ‘সিআরবি নগরীবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দিনের কাজ শেষে যান্ত্রিক জীবনের মানসিক প্রশান্তির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রায়ই সময় এখানে এসে সময় কাটাই মানসিক প্রশান্তির জন্য। সত্যি বলতে পরিবেশটি খুব ভালো লাগে’

প্রাতভ্রমণে আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব কাজীর দেউড়ির বাসিন্দা মো. মহসিন আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সকালে এসে এখানে হাঁটি। সকালের বিশুদ্ধ বাতাস নিতে এখানে ছুটে আসি।’ এসময় তিনি সবাইকে সিআরবি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে সিআরবিতে হাসপাতালে নির্মাণের বিরোধিতা করে আন্দোলন করে আসছিল চট্টগ্রামবাসী। চট্টগ্রাম নগরীর ফুসফুস খ্যাত এই সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ না করতে রেলমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রামের সব এমপি এবং মন্ত্রীরা। এরপর হাসপাতাল নির্মাণের বিষয় থেকে সরে দাঁড়ায় রেল মন্ত্রণালয়।

সিআরবি রক্ষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম সাবের চৌধুরী বাংলাধারাকে বলেন, ‘সিআরবি আমাদের প্রাণের জায়গা। এটি চট্টগ্রামের সম্পদ। এখানে একটি চক্র হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করতে চেয়েছিল। আমাদের চট্টগ্রামের রাজনীতির অভিভাবক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ সর্বোপরি চট্টগ্রামবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই সিআরবি থেকে হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম মাননীয় প্রধামন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।’

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ