২০ মে ২০২৪

নগরের জলাবদ্ধতা; বিব্রত নগরবাসী

ঋতুর পালাবদলের পরিক্রমায় প্রকৃতিতে শুরু হলো বর্ষাকাল। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহের পর বর্ষা আসে শ্যামল সুন্দর রূপে। তাপ শুষ্ক পৃথিবীকে সুধারসে ভরিয়ে দেয়ার জন্য। বর্ষাকে বলা হয় কবিতার ঋতু; আবেগের ঋতু। বর্ষায় বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের মধ্যে আমাদের সমস্ত আবেগ যেন উথলিয়ে ওঠে। প্রতিবারের মতো এবারের বর্ষাও বিছিয়ে দিয়েছে তার ব্যথিত হৃদয়। কারণ, এই নগরে বর্ষার মোহন রূপের চেয়ে দুঃখদুর্দশা আর দুর্ভোগের চিত্রই চোখে পড়ছে বেশি। মহুত্বে হয়ে যায় জলাবদ্ধতা। আর এই জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা বারবার বিব্রত করছে নগরবাসীকে। একটু বৃষ্টি হলেই মাঠ-ঘাট, নদী-নালা, অলিগলি বৃষ্টির পানিতে সয়লাব। কোথাও বেরুনোর এতটুকু অবসর মেলে না। রাস্তায় জমে যাওয়া পানিতে পথ হাঁটা তো দূরের কথা, ফ্লাইওভারেও গাড়ি অচল হতে দেখেছি। কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম শহর যেন পরিণত হয় সমুদ্রে। এ অবস্থা কয়েক যুগ থেকে চলে আসছে।

বর্তমান সময়ে নগরজুড়ে নানা মেগা প্রকল্পের সমন্বয়হীন কর্মে জলাবদ্ধতা প্রকোট আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পরপরই নগরবাসীর দুর্ভোগ চিত্র গণমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যমে এসে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। এই জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্নসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা’র বিরুদ্ধে নাগরিক ক্ষোভ দেখা যায়। আবার ওই দুই সংস্থাকে অনেকসময় দেখা যায় দায় এড়িয়ে একে অন্যকে দোষারোপ করতে। এই পরিস্থিতিতে জনগণ একপ্রকার অসহায়ভাবে এই সমস্যাকে মেনে নিতে শুরু করেছে।

পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম খালগুলো অবৈধ দখল ও কঠিন বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে। নগরের খাল, ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও ব্রিক স্যুয়ারেজ লাইন দিয়ে পানি নদীতে যেতে পারছে না। ফলে ভারি বর্ষণে শহরের অলিগলি, প্রধান সড়ক, ফুটপাথ পর্যন্ত তলিয়ে যায়। ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের বাৎসরিক বাজেটে খাল পরিষ্কারে বেশ ভাল অংকের বরাদ্দ থাকলেও তা খরচের পদ্ধতিগত বিষয়ে নানা অসঙ্গতি নানাসময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। খাল পরিষ্কার করে সেই ময়লা আবার খালের পাড়েই রেখে দেয়া হয়সহ নানা অভিযোগের কথা শোনা যায়। স্বল্পকালীন কিছু পদক্ষেপ থাকলেও টেকসই সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বললে ভুল হবে না।

জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম নগরের রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্বল্পসময়ে। গণপরিবহনসহ জনগণের সম্পত্তিরও ক্ষতি হচ্ছে সমানুপাতিক হারে। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ নগরে জলাবদ্ধতা নতুন করে সমস্যা তৈরি করতে যাচ্ছে বলে আমাদের শঙ্কা। বিশেষ করে নদী-খাল খনন ও শুষ্ক মৌসুমে পরিকল্পিতভাবে সংস্কার কাজ না করাসহ সেবা সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির জন্য এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগ বলে মনে করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি সময়ের দাবি।

আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট সব মহল এ বিষয়ে কার্যকর মনোযোগ দেবেন।

লেখক : সম্পাদক, বাংলাধারা।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ