১৪ জুন ২০২৪

নজরুলের গান ব্যবহার হয়েছে নাচার জন্য, নিন্দার ঝড়

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে রাজা কৃষ্ণ মেনন পরিচালিত ছবি ‘পিপ্পা’। ছবির যে দৃশ্যে ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানটি ব্যবহার হয়েছে, তাতে গানটির ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। গুরুত্বও হারিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। যার ফলে ভারতে ও বাংলাদেশে একযোগে শুরু হয় প্রতিবাদ।

নজরুল ইসলামের যেসব সৃষ্টির কারণে তিনি ব্রিটিশ রাজশক্তির রোষে পড়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ‘ভাঙার গান’। সেই সৃষ্টিরই অংশ ‘কারার ওই লৌহ কপাট’। নজরুলের এইসব রচনাই তাকে ‘বিদ্রোহী’ কবির তকমা এনে দিয়েছিল। অথচ ছবিতে বুকে আগুন জ্বালানো সেই গান ব্যবহার হয়েছে নাচার জন্য!

ছবির প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধ। গল্পের মূল হিরো ‘পিপ্পা’ অর্থাৎ, পিটি-৭৬ ট্যাঙ্ক। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাক সেনাদের নাস্তানাবুদ করতে রাশিয়ার থেকে কেনা এই ট্যাঙ্ক রণপ্রাঙ্গণে নামিয়েছিল ভারত। ট্যাঙ্ক সামলানোর দায়িত্ব ছিল ভারতীয় সেনার ৪৫ ক্যাভালরি রেজিমেন্টের ওপর। মাটির পাশাপাশি পানিতেও চলতে পারত ট্যাঙ্কটি। আর সেই কারণেই রেজিমেন্টের পক্ষ থেকে ট্যাঙ্কের নামকরণ করা হয় ‘পিপ্পা’। পঞ্জাবিতে যার অর্থ ‘ফাঁকা ঘিয়ের কৌটো’। বাংলাদেশের যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল ‘পিপ্পা’। সেই গল্পই মোটামুটিভাবে তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে। পাশাপাশি এই ছবিতে ধরা পড়েছে এক সেনা পরিবারের তিন ভাইবোনের গল্প, তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের বোঝাপড়া এবং কীভাবে একসঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তিন জনেই। তিন ভাইবোনের চরিত্রে ঈশান খট্টর, প্রিয়াংশু পাইনুলি এবং ম্রুনাল ঠাকুরের অভিনয় ভালো হলেও তা মনে দাগ কাটার মতো নয়।

এই ছবিতে যুদ্ধ নিয়ে আহামরি কিছু নেই। ইতিহাসের বই ঘেঁটে এবং প্রায় এক ডজন সিনেমা দেখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি অনেকেরই জানা। তাই যুদ্ধ নিয়ে নতুন কিছু দেখার নেই ছবিতে। ছবিতে, তিন ভাইবোনের সম্পর্কের যে ওঠানামা দেখানো হয়েছে, তাও সেভাবে মনে ধরেনি।

এবার আসা যাক ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গান এবং সেই গান নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কথায়। ছবিতে পুরো গান ব্যবহার করেননি রহমান। ছবিতে মেরেকেটে ৪৭ সেকেন্ড রয়েছে নতুন সুরের নজরুলগীতি। সেই সুর নিয়েই যত বিতর্ক। তবে গানের প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সুবিচার করেননি নির্মাতারা।

ছবির গল্পে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করতে নাম ভাঁড়িয়ে বাংলাদেশে যান এক ভারতীয় সেনা। এক দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, সেই ভারতীয় সেনাকে নিয়ে আনন্দে মেতেছেন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। তাকে ‘সর্ষে ইলিশ’ রেঁধে খাওয়ানোর কথা ভাবছেন। একই সঙ্গে চলছে আমোদপ্রমোদ। গলা ছেড়ে ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গান গাইছেন (অন্য সুরে) মুক্তিযোদ্ধারা। গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকে নেচেও চলেছেন। সুর নিয়ে বিতর্ক তো হয়েছে, ব্যবহার নিয়েও কম বিতর্ক হওয়ার কথা নয়। কিন্তু হয়নি।

আরও পড়ুন