২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নিপা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্যের সতর্কবার্তা

এবারের শীতে নিপা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক জরুরি বার্তায় বলেছে, নিপা ভাইরাস থেকে বাঁচতে আংশিক খাওয়া ফল খাওয়া যাবে না। ফলমূল পানি দিয়ে ধুয়ে খেতে হবে।

কেউ কাঁচা রস খেতে চাইলে তা বিক্রি না করতে গাছি (যারা খেজুরের রস সংগ্রহ করেন) বা বিক্রেতাদের প্রতিও অনুরোধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় খেতে কোনো বাধা নেই বলেও স্বাস্থ্য বার্তায় জানায় অধিদপ্তর।

বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ানো এ রোগের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বরসহ মাথাব্যথা, খিঁচুনি, প্রলাপ বকা, অজ্ঞান হওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট হওয়া।

অধিদপ্তরের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, কারও এ রোগের লক্ষণ দেখামাত্র দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো এবং আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জুনেটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের ডেপুটি ম্যানেজার শ. ম. গোলাম কায়ছার সংবাদমাধ্যমে এ জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা পাঠিয়েছেন।

দেশে গত কয়েক বছরে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী এ রোগ। কাঁচা খেজুরের রসে বাদুড়ের বিষ্ঠা বা লালা মিশ্রিত হয় এবং ওই বিষ্ঠা বা লালাতে নিপা ভাইরাসের জীবাণু থাকে। ফলে খেজুরের কাঁচা রস পান করলে মানুষ নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

২০২২-২৩ সালের গত মৌসুমে দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনই মারা যায়। এ রোগে মৃত্যুর হার ৭০ শতাংশেরও বেশি। তাই প্রতিরোধই এ রোগ থেকে বাঁচার উপায় বলে পরামর্শ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

২০২৩ সালে রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী এবং নরসিংদীতে রোগী পাওয়া গেছে। এরমধ্যে নরসিংদী জেলায় নিপা ভাইরাস পাওয়া গেছে প্রথমবারের মতো। দেশের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বেশি পাওয়া গেছে।

দেশে মেহেরপুরে ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো নিপা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ২০০৪ সালে রোগটি বাড়তে থাকে ও মৃত্যুর ব্যাপকতা দেখা দেয়। ওই বছর ৬৭ জন আক্রান্তের মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৫ সালের পর থেকে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে। এ বছর ২০২৩ সালে ১৪ জন আক্রান্তের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ পর্যন্ত ৩৩৯ জন মানুষের নিপা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ এই রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর হার ৭০ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

দিন কয়েক আগে ঢাকায় এক সেমিনারে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এমন প্রেক্ষাপটে রস উৎসব নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেন, নিপা ভাইরাস বাংলাদেশে বড় মহামারী আকারে না এলেও রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে না তা বলা যায় না। এ রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি এজন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

ওই সেমিনারে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেছিলেন, আগে শুধু খেজুর গাছ আছে এমন জেলায় নিপা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া যেত। কিন্তু এখন খেজুর গাছ নেই এমন জেলায়ও রোগী পাওয়া গেছে।

‘এটা হয়েছে খেজুর রস নিয়ে প্রচারণার জন্য। মানুষ এক জায়গা থেকে রস খেতে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে। আবার অনলাইনের অর্ডার করলে খেজুর রস বাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে রোগটিও নতুন নতুন এলাকায় চলে যাচ্ছে।’

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেনও শীতের সময় খেজুরের রস খাওয়ার উৎসব নিরুৎসাহিত করার কথা বলেন।

আরও পড়ুন