২০ মে ২০২৪

নৈসর্গিক সৌন্দর্যে পর্যটক টানছে গুলিয়াখালী সি-বিচ

নিজস্ব প্রতিবেদক »

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সীতাকুণ্ড। পূর্বে পাহাড় আর পশ্চিমে সুবিশাল সমুদ্র আর মধ্যখানে সবুজারণ্য, লেক, পাহাড়ি ঝর্ণা, ঘন বন, পাখপাখালি, বানর-হরিণের বিচরণ, উপজাতীর বসবাস, প্রাচীন স্থাপনা, ফেরী ঘাট, জাহাজ ভাঙা শিল্প সব মিলিয়ে গিরি সৈকতের সীতাকুণ্ড পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে বসে আছে। সবুজের মাঝ দিয়ে এঁকে বেঁকে গেছে সরু নালা। নালাগুলো জোয়ারের সময় পানিতে ভরে উঠে। পাখি, ঢেউ আর বাতাসের মিতালীর অনন্য অবস্থান দেখা যায় এই সমুদ্র সৈকতে। অনিন্দ্য সুন্দর এই গুলিয়াখালি সী বিচ’র সাজসজ্জায় প্রকৃতির কার্পন্যতা ছিলনা। একদিকে দিগন্তজুড়ে সাগর জলরাশি আর অন্য দিকে কেওড়া বন এই সি-বিচ’কে করেছে অনন্য।

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত নান্দনিক এক প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি। গাঁয়ের মেঠোপথ পেরিয়ে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। ফসলি জমি, আঁকাবাঁকা খাল, বাতাসে ঘাসের দোলা আর রোদের ঝিকিমিকি প্রকৃতিকে করে তুলেছে বৈচিত্র্যময়। বেড়িবাঁধ পের হলেই বাঁকা খাল, জেলেরা নৌকা নিয়ে বসে থাকে ভাটার অপেক্ষায়, উজানে পাড়ি দেবে বলে।একটু হেঁটেই দেখা মেলে সবুজ গালিছা বিস্তৃত ঘাসের মাঠ। খন্দ খন্দ এই সবুজের সমারোহ দূর থেকে তাকালে কতই না অপূর্ব লাগে। অতি অল্প সময়ে বাংলাদেশের পর্যটকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে তার আপন সৌন্দর্যে। তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য টানছে পর্যটকদের।

এখানে রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্যের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, সুবিশাল পাহাড়, ভাটিয়ারী লেক, সুপ্তধারা ও সহস্রধারা ঝর্ণা, কমলদাহ ঝর্ণা, সন্দ্বীয় ফেরী ঘাট, এশিয়ার বৃহত্তম বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন মঠ-মন্দিরসহ প্রাচীন স্থাপনা, পাহাড়ের কিনারে উপজাতীদের বসবাস। উপজেলার সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত। প্রকৃতি ও গঠনগত দিক থেকে এটি অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

এই বিচে বাহারি রঙের বৃক্ষ আর আর সবুজের সমারোহ পরিবেশকে আরও সৌন্দর্য মণ্ডিত করেছে। আছে সবুজগালিচার বিস্তৃত ঘাস। তার মাঝে বয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা নালা। জোয়ারের পানিতে সবুজ ঘাসের ফাঁকে নালাগুলো কানায় কানায় ভরে ওঠে। জোয়ার চলে গেলে ফিরে যায় আগের অবস্থায়। মৃদু বাতাস আর গাছের পাতার ফিসফিসানিতে তপ্ত দুপুর, স্নিগ্ধ বিকেল কিংবা বিষণ্ণ সন্ধ্যাটি যে কাউকে রাঙিয়ে তুলবে বর্ণিল আলোকছটায়। খাল ধরে এগিয়ে গেলে মিলবে সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য উপভোগের এক অভাবনীয় মুহূর্ত।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতকে গত ১০ জানুয়ারি পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত এলাকার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ২৫৯.১০ একর এলাকায় পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে বা ভবিষ্যতে আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প ও সেবা খাতের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে এবং পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকায় অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ বা অন্য কোনরূপ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকল্পে বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল আইনের ক্ষমতাবলে এই এলাকা পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এখন পর্যটনের অপার সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে সীতাকুণ্ড। খুব কাছ থেকে পাহাড়ি ঝর্ণা ও সমুদ্রের উত্তর তরঙ্গ উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা। সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটকের ভিড় জমতে থাকায় গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতকে পর্যটনে রূপ দিতে নেওয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা। ধীরে ধীরে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করলে গুলিয়াখালী বিচকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দেওয়া যাবে।

স্থানীয়দের কাছে সৈকতটি ‘মুরাদপুর সি-বিচ’ নামে পরিচিত। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাজার থেকে দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া না লাগলেও এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলবেঁধে অনেক দর্শনার্থী ছুটে আসছেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এই সৈকতে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গুলিয়াখালী বিচ হতে পারে দেশের পর্যটনের অন্যতম একটি স্থান। আর তা সম্ভব হলে দেশের পর্যটন খাতে অনেক বড় অবদান রাখতে পারবে এটি।

বাংলাধারা/এসএস

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ