১৩ জুলাই ২০২৪

পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, মিরসরাইয়ে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

পাহাড়ি ঢলে

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্ধী হয়ে দুর্বিসহ জীবন-যাপন কাটছে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা-আধাপাকা গ্রামীণ সড়ক ভেঙ্গে গেছে। অনেক এলাকায় পুকুর ডুবে লক্ষাধিক টাকার মাছ চলে গেছে।

মিরসরাই পৌরসভা, খৈয়াছড়া ইউনিয়ন, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন, করেরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে আছে ফেনাপুনি, সোনাপাহাড় গ্রামের ৫শতাধিক পরিবার। অনেক পরিবারের চুলায় পানি উঠায় বন্ধ রয়েছে রান্না-বান্না। এছাড়াও খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামের ভেন্ডার পাড়া এলাকায় একটি কালভার্ট ভেঙ্গে গিয়ে এতে চরম দূর্ভোগে পড়ছে এ এলাকার বাসিন্দারা।

মিরসরাই পৌরসভার উত্তর গোভনিয়া এলাকার বাসিন্দা আরিফুল হক ভূইয়াঁ বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আমাদের গোভনিয়া নামে একটি খাল ভেঙ্গে শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেকের বসত ঘরের আঙ্গিনায় পানি উঠে গেছে। অনেক পরিবারের রান্না ঘরে পানি উঠে যাওয়া রান্না-বান্না বন্ধ রয়েছে।

খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ফেনাপুনী এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, গোভনিয়া-ফেনাপুনী ও খৈয়াছড়া তিন স্থান দিয়ে পানি ডুকে, যায় আবুতোরাব বাজারের একটি খাল দিয়ে। কিন্তু সেটি আর খাল নেই, স্থানীয়রা সেই খালের উপর দোকান ও বসতবাড়ি করে দখলে নিয়ে গেছে। প্রতি বছর বর্ষা আসার আগে খাল খনন করবে বলে আশ্বাস দেয় কিন্তু বর্ষা চলে গেলে আর কোন খবর থাকেনা। দোকানপাট উচ্ছেদ ও খাল খনন অতিব জরুরি হয়ে পড়ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাল পার্শ্ববর্তী হাট-বাজারগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ দোকান-পাট ও স্থাপনা। এগুলোর কারণে বিভিন্ন খালে পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে প্রত্যেক বছর নিম্নাঞ্চল এলাকা পানির নিচে ডুবে যায়। এছাড়াও অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনের পথ না রেখে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে তোলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় প্রতি বছর।

যোগাযোগ করা হলে খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক জুন বলেন, মায়ানী ইউনিয়নের আবুতোরাবের ব্রীজের পাশের খালের উপর অবৈধ স্থাপনার কারণে আমার ইউনিয়নের অনেক আজ পানিবন্দী হয়ে পড়ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবেনা আমার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ কষ্ট করবে।তিনি আরও বলেন, আমি আমার ইউনিয়নের মেম্বারদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে তাদের একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পাঠিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সরকারি বরাদ্ধ দেওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন