১৫ জুলাই ২০২৪

‘পুলিশের ফাঁসানো মামলা’য় কারাবন্দি ছেলেকে ছাড়াতে মুক্তিযোদ্ধা পিতার আকুতি (ভিডিও)

মিজানুর রহমান ইউসুফ »

আকবর শাহ থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার দেয়া মিথ্যা মাদক মামলায় ছেলে দেড়মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্দি রয়েছে জেলে। ছেলেকে ছাড়াতে মুক্তিযোদ্ধা পিতা ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। ছেলেকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার বরাবরে করেছেন অভিযোগ।

প্রাথমিক তদন্তে আকবর শাহ থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে সিএমপি। তবে সিএমপি কর্তৃপক্ষ ‘তদন্ত প্রতিবেদন’ কে গোপনীয় ও আভ্যন্তরীণ আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদনের কপি না দেয়ায় জামিন করানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভুগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক।

আব্দুল মালেক জানান, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে আমার ছোট ছেলে হাবিবুর রহমানকে নিউ পাঞ্জাবী লাইনে তার চায়ের দোকান থেকে আকবর শাহ থানার পুলিশ কর্মকর্তা পিএসআই মোহাম্মদ আফছার ও এএসআই নাছেরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এসময় থামানোর চেষ্টা করলে পুলিশদল আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হাবিবকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন ১৬০০ পিস ইয়াবা পাচারের অভিযোগে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে চালান দেয়।

তিনি বলেন, আমি জানি আমার ছেলে নির্দোষ তাই গত ২৭ এপ্রিল আকবর শাহ থানার পিএসআই মোহাম্মদ আফছার ও এএসআই নাছেরের বিরুদ্ধে সিএমপি কমিশনারের কাছে একটি অভিযোগ দেই। তদন্ত শেষে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সাপ্লাই) জয়নুল আবেদিন ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শাস্তির সুপারিশ করেছেন বলে জানিয়েছেন আমাদের।

এবিষয়ে বিস্তরিত জানতে পড়ুন: চা-দোকানিকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে শাস্তির মুখোমুখি ২ পুলিশ কর্মকর্তা

মুক্তিযোদ্ধা মালেক অভিযোগ করেন, তদন্ত প্রতিবেদনের কপির জন্য সিএমপি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু জাফর শিকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ‘তদন্ত প্রতিবেদন’ গোপনীয় ও আভ্যন্তরীণ বলে আমাদের দেয়া যাবে না বলে জানান। তবে তিনি জানান প্রতিবেদন (স্মারক নং ২৫৬/১৩/০৫/২১৯) উপ-কমিশনার (উত্তর) এর কাছে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা আরো বলেন, সিএমপির তদন্তে যদি আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর সত্যতা মিলে তবে জামিন পাওয়া তার অধিকার।

ঈদের আগেই তাঁর ছেলেকে জামিনে মুক্ত করার জন্য পুলিশকে আন্তরিক হওয়ার আকুতি জানান বয়:বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান বাংলাধারাকে জনান, কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যখন কোন অভিযোগ আসে আমরা তার নিরপেক্ষ তদন্ত করি। প্রাথমিক তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে বিভাগীয় শাস্তিও দেয়া হয়। এই তদন্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ আভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় তাই বাইরের কাউকে এর কপি দেয়ার সুযোগ নেই।

তবে, আদালত যদি অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন চায়, কপি আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানান সিএমপি কমিশনার।

ভিডিও দেখতে কিলক করুন

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন