২০ মে ২০২৪

পেকুয়ায় পাহাড়ের মাটিভর্তি চার মিনি ট্রাকসহ ৪ জন আটক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় রাতের অন্ধকারে সংরক্ষিত বন বনের পাহাড় কেটে পরিবেশ বিনষ্ট করার দায়ে ৪টি ডাম্পার ট্রাক জব্দ করেছে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। এসময় গাড়িরহেল্পার-চালকসহ চারজনকে আটকও করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ভোর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের হাজিবাজার এলাকা থেকে এসব গাড়িগুলো জব্দ করা হয়েছে।

ইউএনও জানান, উপজেলার টইটং ইউনিয়নের রমিজপাড়া এলাকা থেকে গত দু’মাস ধরে রাতের আধারে পাহাড়ি লাল মাটি কেটে আসছিল একটি চক্র। খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে ছদ্মবেশে রাস্তায় নামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম। রাস্তার দু’পাশ থেকে আনসার সদস্যরা অস্ত্র তাক করলে মাটিভর্তি ডাম্পার রেখে পালিয়ে যান চক্রের অন্যরা। এসময় একে একে জব্দ হয় ৪টি মাটি ভর্তি ডাম্পার (মিনি ট্রাক)। আটক হয় ড্রাইভারসহ ৪ জন।

আটকরা হলেন— টইটং সোনাইছড়ি মাঝের পাড়া এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে আরশাদুল ইসলাম, টুনু মিয়ার ছেলে আলী হোসেন, বটতলি এলাকার সেনায়েত আলির ছেলে আহমদ হোছেন ও হিরাবনিয়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে আবুল বাশার।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, আমি পেকুয়া যোগদানের পর থেকে পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ পাচ্ছিলাম। সাথে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছও কেটে নিয়ে যাচ্ছে তারা। এ কারণে গত ১৫ দিন ধরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এখানে যেসব করাতকল রয়েছে ইতোমধ্যে ১৮টি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আরো কয়েটা অবৈধ আছে সেগুলো বন্ধ করা হবে।

পাহাড়ে মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য আমরা বিভিন্ন ইনফর্মার লাগিয়েছি, এখন থেকে পেকুয়ার কোথাও পাহাড় কাটার খবর আসলেই রাত বা দিন যখনই হউক আমরা অভিযানে যাচ্ছি। যাদের যে রকম দায়িত্ব তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করলে পাহাড় খেকোরা সুযোগ সুবিধা পেয়ে যায়।

পাহাড় কাটার পিছনে মূলহোতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের বিষয়ে ইউএনও বলেন, স্পটে আমার গেলে শুধুমাত্র পাহাড় কাটার শ্রমিক, ট্রাক চালক ও হেলপারদের পায়। মূলহোতা যারা তারা কিন্তু বাসা বা অফিসে বসেই সব নিয়ন্ত্রণ করে। আটকৃতরা সব ইনফরমেশন দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই পরিবেশ আইনে মামলা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ