১৪ জুন ২০২৪

প্রার্থীতা ফিরে পেলেন জুনু, স্থগিত জসিমের পরোয়ানা

# চট্টগ্রামের চন্দনাইশের নির্বাচন

# জসিমের প্রার্থীতা প্রত্যাহার চায় পদ্মা ব্যাংক, আবেদন

বাতিলের একদিন পর প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু আহমদ চৌধুরী জুনু। অন্যদিকে রোববার ঋণখেলাপির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আরেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমদকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে এই আদেশ সোমবার ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে হাই কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। তবে এই আদেশ জানার পর ক্ষুব্ধ পদ্মা ব্যাংক পিএলসির খাতুনগঞ্জ শাখা। তারা বলছে, এই ‘খেলাপী গ্রাহকের’ বর্তমান সুদ আসলে ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। তাই জসিম উদ্দিন আহমদের প্রার্থীতা বাতিল চায় শাখাটি। এমন আহ্বান জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসারের নিকট।

জানা যায়, আগামী ২৯ মে ৩য় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই ধাপে হবে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। এতে চেয়ারম্যান পদের জন্য চারজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন জমা দেন। কিন্তু মাঝ পথে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান আরিফুল ইসলাম চৌধুরী। বর্তমানে মাঠে রয়েছেন আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ, আবু আহমেদ চৌধুরী, আহম্মদ হোসেন।

এর মধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে রোববার (২৬ মে) দুপুরে আবু আহমেদ চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। বাতিলের একদিন পর প্রার্থিতা ফিরে পেলেন চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু আহমদ চৌধুরী জুনু। সোমবার (২৭ মে) আবু আহমেদ চৌধুরী জুনুর করা এক রিটে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু আহমেদ চৌধুরী জুনু বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের মাধ্যমে আমি আমার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি। আমার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। জনগণই আমার একমাত্র ভরসা। আমি আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে এবং আচরণবিধি মেনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।
অন্যদিকে রোববার চট্টগ্রামে ঋণ খেলাপির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমদকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অর্থঋণ আদালত চট্টগ্রামের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এই নির্দেশ দেন।

অর্থঋণ আদালত চট্টগ্রামের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম বলেন, পদ্মা ব্যাংকের ৮৯ কোটি টাকা ঋণখেলাপির মামলায় গত ৩০ এপ্রিল আদালত জসিম উদ্দিনকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে তার স্ত্রী তানজিনা সুলতানাকেও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন। কিন্তু প্রকাশ্যে প্রচারণা চালালেও পুলিশ জসিমকে গ্রেপ্তার করছে না। ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি), চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন জসিমকে গ্রেপ্তারের।

আদালতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় পদ্মা ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ৬০ কোটি ও সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা উল্লেখ করলেও খেলাপির ঘরে তিনি লিখেছেন ‘প্রযোজ্য নহে’।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে পদ্মা ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে জেসিকা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার জসিম উদ্দিন ৬০ কোটি টাকা ঋণ নেন। এক বছরের মধ্যে তা পরিশোধ করার চুক্তি থাকলেও আট বছরে তা করেননি। ২০২২ সালে সম্পূর্ণ সুদ মওকুফ–সুবিধা নিয়ে তিনি ওই ঋণ পুনঃতফসিল করেন। কিন্তু তারপরও পরিশোধ না করায় ওই ঋণ সুদাসলে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা হয়েছে। ঋণের বিপরীতে নগরের লালদীঘি এলাকার ১৬ দশমিক ৫৯ শতক জমির ওপর নির্মিত সাততলা মহল মার্কেট তিনি ব্যাংকের কাছে জামানত রেখেছেন। ঋণ শোধ না করায় ২০২০ সালের ১৮ জুলাই জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে পদ্মা ব্যাংক। ওই মামলায় গত ২৯ জানুয়ারি জসিমকে সুদসহ ঋণ পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত। তারপরও ঋণ শোধ না করায় তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

তবে রোববারের সেই আদেশের একদিন পর নতুন আরেক আদেশ জারি করেছেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতের দেওয়া আদেশ ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন তিনি।

এই খবর জানার পর ক্ষুব্দ হয় পদ্মা ব্যাংক পিএলসির খাতুনগঞ্জ শাখা। সোমবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসারের নিকট পৃথক দুটি আবেদন করেন শাখাটির এভিপি ও প্রধান মো. নুরুল আলম। কালবেলাকে তিনি বলেন, এই ‘খেলাপী গ্রাহকের’ বর্তমান সুদ আসলে ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার অনুযায়ী তিনি একজন ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি। তাই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা পূর্বক ব্যাংক তথা জনগণের অর্থ আদায়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসারের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছি।

আরও পড়ুন