১৯ মে ২০২৪

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়া স্কুলে প্রাক্তনদের মিলনমেলা

কথামালা, স্মৃতিচারণ, আড্ডা, গান আর সেলফিবাজিতে জমজমাট প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে ফটিকছড়ির শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ হাইদচকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে। ‘এসো মিলি প্রিয় ক্যাম্পাসে, প্রাক্তনদের প্রাণের উচ্ছ্বাসে’ শিরোনামে শনিবার (১১ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুই সহস্রাধিক প্রাক্তনের আড্ডায় মুখরিত ছিল বিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

সত্তরোর্ধ থেকে ২০২৩ সালের প্রাক্তনরা একে অপরকে কাছে পেয়ে ফিরে কৈশোরের স্মৃতি রোমন্থনে। ছিলেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ও প্রাক্তন শিক্ষকরাও।

সকালে আয়োজনের শুরু হয় প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা, প্রাক্তন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের আত্মার শান্তি কামনায় মিলাদ মাহফিল। তারপর শুরু হয় স্মৃতিচারণ। প্রাক্তনদের সাথে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আলোচনায় অংশ নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। গেস্ট অব অনার ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইদরিস আলী।

প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন কিডনিরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এমএ কাশেম, ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রাক্তন ছাত্র, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য, সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার চৌধুরী, বিএফইউজে’র যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, স্থানীয় চেয়ারম্যান সরওয়ার হোসেন স্বপন, জয়নাল আবেদীন কাঞ্চন প্রমুখ।

সাবেক শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন, তপন দেবনাথ ও রণজিৎ চক্রবর্তীর আলোচনা এবং সাবেক শিক্ষক শাহ কামাল, রফিকুল আলম, মাহবুব আলম, নাজিম উদ্দীন, আবদুস সালামের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের আবেগ-উচ্ছ্বাস, আনন্দে নতুনমাত্রা যোগ করে।

ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের সভাপতি আ ন ম মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী টুটুল দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, ও সুলতানা কাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে চমক ছিল প্রাক্তন ছাত্র ও ঢাকা মিউজিক কলেজের ছাত্র দীপু, শাপলা চৌধুরীর লালন, লোকগীতি ও মাইজভাণ্ডারী গান। এছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী জিয়াউদ্দিন বাদশা, শিমুল ও মুন। সাথে ছিল স্কুল ছাত্রীদের নৃত্য।

সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি বলেন, হাইদচকিয়া হাইস্কুলের প্রাক্তনদের এই জম্পেশ মিলনমেলা একে অপরের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধনে অনন্য ভূমিকা রাখবে। এ ধরণের আয়োজন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। আশাকরি প্রাক্তনদের সম্মিলিত উদ্যোগে স্কুলের শিক্ষার মানসহ সামগ্রিক সমৃদ্ধি ঘটবে।

পরিবেশ বিজ্ঞানী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইদরিস আলী বলেন, সম্প্রীতির বন্ধন ও বিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে প্রাক্তনদের ঐক্যবদ্ধ আয়োজন প্রতিষ্ঠানের জন্যও ভাল। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তনরা চাইলে স্কুলের সামগ্রিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারেন।

আরও পড়ুন