২৬ মে ২০২৪

বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপে টাইগারদের উড়ন্ত শুরু

বাংলাধারা ডেস্ক »

ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টসে হেরে বেটিং এ নামে টাইগাররা। বেটিং এ নেমেইে রেকর্ড বুক এলোমেলো করে দেয় সৌম্য-সাকিব-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহরা গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহসের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৩৩০। ফিল্ডিং এ নেমে দায়িত্ব পড়ে বোলারদের উপর। ফিজ-সাইফ-সাকিব-মেহেদিরা সুনিপুণ হাতে ২১ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে এনে দিয়ে আনন্দে ভাসালেন ১৬ কোটি বাঙালিকে। 

লন্ডনের দ্য ওভালে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছিলেন মাশরাফীরা। ওয়ানডেতে এর আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ছিল ৩২৯। আর আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টাইগাররা ৩৩০ রান করেন।

জবাবে খেলতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে আট উইকেট ৩০৯ রানে থেমে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। সর্বোচ্চ ৬২ রান আসে ডু প্লেসির ব্যাট থেকে। মার্করাআম ৪৫ ও ডুসেন ৪১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। জেপি ডুমিনি বাংলাদেশের হুমকি হয়ে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত পারেননি। ফিজের বলে বোল্ড হয়ে ৪৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এ ছাড়া ডেভিড মিলার করেন ৩৮ রান। 

টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়ে জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেষ মুহূর্তে ডুমিনিকে আউট করা ছাড়াও নেন দুটি গুরত্বপূর্ণ উইকেট। সাইফ উদ্দিন নেন দুটি উইকেট। এ ছাড়া একটি করে উইকেট নেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী মিরাজ।

টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে সাকিব-মুশফিকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর মোসাদ্দেক-মাহমুদুল্লাহর ঝোড়ো ইনিংসে নির্ধারিত ওভার শেষে ছয় উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রান করেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশ এর আগে মাত্র একবার ৩০০ রান টপকাতে পারে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যন্ডের বিপক্ষে ৩২২ রান করেছিলেন টাইগাররা।

তামিম-সৌম্য শুভসূচনা এনে দিয়েছিলেন দলকে। তামিম আউট হয়ে গেলে ৬০ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি। তামিম যাওয়ার অল্পকিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে যান সৌম্য সরকার। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪২ রান। পরপর দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠে সাকিব-মুশফিকের ব্যাটে। সর্বোচ্চ ৭৮ রান আসে মুশফিকের ব্যাট থেকে। সাকিব আউট হন ৭৫ রান করে।

মাঝে মিথুন বড় ইনিংসের সম্ভবনা দেখিয়ে ফিরে যান ২১ রান করে। তবে সাব্বিরের জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক নিজের প্রতি সুবিচার করেন। মাহমুদুল্লাহ ও মোসাদ্দেক জুটি গড়ে পরপর তিন উইকেট হারানোর চাপ সামলে ওঠে বাংলাদেশ।

মোসাদ্দেক মাত্র ২০ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফিরে গেলেও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ মাত্র ৩৩ বলে ৪৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৩ বলে ৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

৩৩১ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দশম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজের বল ঠিকমতো খেলতে পারেননি ওপেনার ডি কক। ক্যাচ উঠলেও মুশফিক বল গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি। আইডেন মার্কারামের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ডি কক। বল কুড়িয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন মুশফিক। বিদায়ের আগে ডি কক ৩২ বলে চারটি চারের সাহায্যে করেন ২৩ রান।

দলীয় ৪৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। এরপর ৫৩ রানের জুটি গড়েন দলপতি ফাফ ডু প্লেসিস এবং ওপেনার আইডেন মার্কারাম। ইনিংসের ২০তম ওভারে সাকিব বোল্ড করেন মার্কারামকে। দলীয় ১০২ রানের মাথায় প্রোটিয়ারা দ্বিতীয় উইকেট হারায়। বিদায়ের আগে মার্কারাম ৫৬ বলে চারটি চারের সাহায্যে করেন ৪৫ রান।

২৭তম ওভারে মিরাজের দুর্দান্ত এক ঘূর্ণিতে বোকা বনে যান প্রোটিয়া দলপতি ফাফ ডু প্লেসিস। বোল্ড হওয়ার আগে ৫৩ বলে ৫ চার আর এক ছক্কায় করেন ৬২ রান। ইনিংসের ৩০তম ওভারে সাকিবের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ডেভিড মিলার। সৌম্য সরকার লাফিয়ে ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি।

ব্যক্তিগত ১৮ রানে জীবন পান কিলার মিলার। ব্যক্তিগত ৩২ রানের মাথায় মোস্তাফিজের বলে আবারো ক্যাচ তুলে দেন মিলার। থার্ডম্যানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ক্যাচটি নিতে পারেননি। ৩৬তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে মিরাজের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন ডেভিড মিলার। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মিরাজের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ৪৩ বলে দুই বাউন্ডারিতে করেন ৩৮ রান।

৩৮তম ওভারের প্রথম বলে মোস্তাফিজের ডেলভারি জেপি ডুমিনির প্যাডে লাগলে আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। রিভিউয়ে বেঁচে যান ডুমিনি। ৪০তম ওভারের প্রথম বলে সাইফউদ্দিন বোল্ড করেন ভ্যান ডার ডুসেনকে। দলীয় ২২৮ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। ডুসেন সাজঘরে ফেরার আগে ৩৮ বলে দুই চার আর এক ছয়ে করেন ৪১ রান। ৪৩তম ওভারে সাইফ ফিরিয়ে দেন ফেলুকাওয়োকে। কাভারে সাকিবের দুর্দান্ত এক ক্যাচে বিদায় নেওয়ার আগে তিনি করেন ১৩ বলে ৮ রান।

ইনিংসের ৪৬তম ওভারে মোস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন ক্রিস মরিসকে। ডিপ মিড উইকেটে সৌম্যর হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ১০ বলে করেন ১০ রান। ইনিংসের ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে ৪৫ রান করা জেপি ডুমিনিকে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ। প্রোটিয়ারা দলীয় ২৮৭ রানে অষ্টম উইকেট হারায়। কেগিসো রাবাদা ১৩ আর ইমরান তাহির ১০ রানে অপরাজিত থাকেন। ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস থামে ৩০৯ রানের মাথায়।

মিরাজ ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে তুলে নেন একটি উইকেট। সাকিব ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে তুলে নেন একটি উইকেট। আর এই এক উইকেটের মধ্যদিয়ে সাকিব গড়েন দারুণ এক কীর্তি। ২০০ ওয়ানডে ম্যাচের কম খেলে ২৫০ উইকেট সঙ্গে ব্যাট হাতে ৫ হাজার রানের বিরল এক রেকর্ড গড়েন সাকিব। সাইফউদ্দিন ৮ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে তুলে নেন দুটি উইকেট। মাশরাফি ৬ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। মোসাদ্দেক ৬ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থাকেন। মোস্তাফিজ ১০ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে পান ৩ উইকেট।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন