২০ মে ২০২৪

বর্ণাঢ্য আয়োজনে হোটেল ওশানে ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বরণ

বর্ণাঢ্য

করোনা ও পবিত্র রমজানের কারণে টানা কয়েকবছর বন্ধ ছিল বাংলা নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান। কিন্তু এবার ঈদের ছুটির সাথে নববর্ষের ছুটিও একীভূত হয়েছে। ফলে পুরোনো দিনের মতোই জমকালো আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ হয়েছে পর্যটন শহর কক্সবাজারে। বাঙালীয়ানার ষোল আনা পূরণে পহেলা বৈশাখের দিন থেকে তিনদিন মেলার আয়োজন করেছে কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেড। বর্ণাঢ্য র্যালী ও নানা আয়োজনে পর্যটন শহরে ১৪৩০ বঙ্গাব্দকে বিদায় ও ১৪৩১ বরণ করা হয়।

রোববার (১৪ এপ্রিল) সকালে চৈত্রের তীব্র দাবদাহের মাঝেও কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরী শহীদ দৌলত ময়দানে গানে-গানে শুরু হয় বৈশাখ উদযাপনের অনুষ্ঠান। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কক্সবাজার শাখার আয়োজনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের পরিবেশনা করে। এরপর বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। বিশ্বব্যাপী শান্তির আহবানে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরানের নেতৃত্বে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক পদক্ষিণ করে আবার দৌলত ময়দানে ফিরে আসে। র্যালীতে জেলা প্রশাসন ও প্রশাসনের নানান বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এদিকে, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে তিনদিনের মেলার আয়োজন করেছে হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। বেলা ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান, ওশান প্যারাডাইসের চেয়ারম্যান এম এন করিম, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের যৌথভাবে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন। এরপরই শুরু হয় বৈশাখ নিয়ে লেখা নানা গানের পরিবেশনা। উদ্বোধনের পর বাঙালীর ঐতিহ্য নিয়ে বসা মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন অতিথিরা। মেলায় আসেন, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদ্য এসপি হওয়া) মো. রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্তা ব্যক্তি ও তাদের পরিবার বর্গ।

হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, বাংলা নববর্ষ বরণে হোটেল-মোটেল জোনে আমরাই তিনদিনের বর্ণিল বৈশাখী মেলার আয়োজন করি। হোটেল লবি, পার্কিং এলাকায় নানা রঙের স্টল, মেলার অনুষঙ্গ বসিয়ে ‘বাঙালিয়ানার শোষ আনা’র স্বাদ দেয়ার চেষ্টা করেছি। অতীতের মতো কুমারের কারখানা, রসুইঘর, পালকি, মিষ্টিপানের দোকান, পার্কিং এললাকায় নাগরদোলা বসানো হয়েছে। আলপনায় রঙিন করা হয়েছে হোটেলের চারপাশ।

তিনি আরো জানান, মেলা উপলক্ষে হোটেলে অবস্থান করা অতিথিদের নিয়ে বালিশ বদল, অতিথির সন্তানদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পিরিচ হতে মুখ দিয়ে লজেন্স আহররণ, বাচ্চাদের বিস্কিট ও বেলুন ফেটে লজেন্স নেয়াসহ নানান ধরণের খেলার আয়োজন চলে। এতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করাদের মূল্যবান পুরস্কার দেয়া হবে। রাতে জলের গান শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, দেশী-বিদেশী পর্যটক, স্থানীয় বিনোদন প্রেমিরা অংশ নিচ্ছেন।

খেলায় অংশ নিয়ে প্রথম হওয়া অতিথি বগুড়ার কামাল উদ্দিন বলেন, এটা অকল্পনীয় আয়োজন। পহেলা বৈশাখে তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস এতসুন্দর আয়োজন পর্যটকদের গ্রামীণ আবহের সাথে নিবিড় সম্পর্ক মনে করিয়ে দেয়। আমরা খুবই আনন্দিত।

অপরদিকে, কক্সবাজারের অন্যকোন হোটেল দৃশ্যমান কোন আয়োজন না রাখলেও খাবারের প্যাকেজ ঘোষনা দিয়েছিল। পান্থা ইলিশসহ নানা রসনায় ভরা খাবারের দাম ছিল ১২০০ টাকা হতে ২০০০ টাকা। জেলা উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলা নববর্ষকে বরণ করেছে।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ জানান, গরমের তীব্রতা বাড়লেও এবার পহেলা বৈশাখকে ঘিরে পর্যটকে টইটম্বুর বলা চলে কক্সবাজার।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বর্ষবরণ ঘিরে শহরের বিশেষ বিশেষ স্থানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। পোশাকধারী সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) টহলে ছিল।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ