২৫ এপ্রিল ২০২৪

বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের ৪ পিলারে ফাটল, পাঠদান ব্যাহত

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন নাসিরাবাদ কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের ৪টি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নির্ধারিত শ্রেণী কক্ষের বাইরে একটি ক্লাবে নেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ক্লাস। বিদ্যালয়টিতে ১ম থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত হাজারের অধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে কলোনির একটি ক্লাবে মাত্র ৩ টি কক্ষে ৩ শিফটে ভাগ করে চলছে শ্রেণী কার্যক্রম। যেসব কক্ষগুলোতে একসাথে ক্লাস করতে পারে ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী।

দিন দিন পিলারের ফাটল বাড়তে থাকলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন এলজিইডি মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়রের মূল ভবনে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফারহানা নাজনীন জানান, ‌‘বিদ্যালয়টি ফাটল দেখা গেলে আমরা সিটি থানা শিক্ষা অফিসকে জানাই।পরবর্তী এলজিইডি মন্ত্রণালয় থেকে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে এটিতে ক্লাস নিতে না করেছেন। এখন পাশের একটি ক্লাবে ক্লাস নিতে হয়।

নগরীর ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যালয়টিতে আগে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত থাকলেও এলাকার শিক্ষার্থীর চাপ সামলাতে ক্রমে তা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়টির বর্তমান সংকটের কারণে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরাও জানান তাদের নানা অসুবিধার কথা।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষিকা পাপড়ি বড়ুয়া জানান, ‘নাসিরাবাদ কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন একটি স্কুল এটি।এখান থেকে যেসকল শিক্ষার্থীরা বের হয়েছে তারা এখন বিভিন্ন ভালো ভালো যায়গায় কর্মরত আছে। আমাদের এই সাময়িক সমস্যা যদি আমরা সমাধান করতে না পারি স্কুলটি তার ঐতিহ্য হারাবে।’

নাসিরাবাদ কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি মোঃ জাহেদ বাংলাধারাকে জানান, ‘স্কুলটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা ওখানে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। আপাতত কলোনীর একটি ক্লাবে ক্লাস নিচ্ছি। কিন্তু তাতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আমরা বিকল্প চিন্তাভাবনা করতেছি’।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেরও আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই স্কুলটির শিক্ষার্থীরা আলো ছড়াচ্ছেন সারা দেশব্যাপী। বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারলে ঐতিহ্য হারাবে নাসিরাবাদের এই স্কুলটি। তাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন