২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

পরিত্যক্ত বালুচরে তরমুজের আবাদ, ৩ মাসে আয় ৬ লাখ টাকা

বোয়ালখালীর বালুচরে ‘আনারকলির হাসি’

দেবাশীষ বড়ুয়া রাজু, বোয়ালখালী »

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কর্ণফুলি নদীর পার ঘেঁষে পরিত্যক্ত বালুর চরে তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিলেন সাংবাদিক আবুল ফজল বাবুল। পরীক্ষামুলকভাবে প্রায় ৬ একর অনাবাদি জায়গায় ১৩শ গর্ত তৈরি করে উন্নত জাতের (আনারকলি) তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। ফলনও হয়েছে বেশ। আগাম তরমুজ বিক্রি করে ইতোমধ্যে ৬ লাখ টাকার মতো আয় করে এখন একজন আলোচিত সৌখিন কৃষক বা উদ্যোক্তার পরিচয় বহন করছেন তিনি ।

আবুল ফজল বাবুল জানান, গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামুলকভাবে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ও সহযোগিতায় তরমুজের বীজ বপন করা হয় চরের বুকে। ১৩০০ মাদা তৈরি করে তাতে ৪ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছিল। এরপর দুইমাস পরিচর্যায় কাটে। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ফলন বাজারজাত করতে শুরু করি। প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে বিক্রি করছি। পাইকাররা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ছোট-বড় মিলিয়ে ৬ হাজার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ১০০ টাকা হলে ৬হাজার তরমুজের দাম দাঁড়ায় ৬ লাখ টাকা। ক্ষেতে আরও প্রায় ৩ হাজার তরমুজ রয়েছে। নতুন করে আরও ফলন আসছে। এপ্রিল মাস পর্যন্ত পাওয়া যাবে ফলন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল একটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ার। উপযুক্ত জায়গা না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুর এলাকার কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করে কর্ণফুলি নদীর চরখিজিরপুর এলাকায় জেগে থাকা বালুচরে জমির মালিকের কাছ থেকে ৪০ একর জায়গা ২০ বছরের জন্য চুক্তিতে নেওয়া হয়েছে।

চরের বুকে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে কাজ করে যাচ্ছি। তরমুজের পাশাপাশি বাদাম, মিষ্টি আলু, সরিষা, পেঁপে, শশা ও ক্ষীরাসহ নানা ধরনের শাক-সবজির আবাদ করেছি।

জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর মাঝে চরখিজিরপুরের স্থানীয়দের কাছে বোয়াইল্ল্যার চর নামে পরিচিত। দীর্ঘ দিন ধরে চরটি অনবাদী হয়ে পড়ে আছে। ঝোপঝাড় আর কাটা লতায় ঢাকা ৫২০ একরের চরটি।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুর সাতগড়িয়া পাড়া ঘাট থেকে নৌকা দিয়ে এই চরে আসতে হয়। নদীতে চলছে ড্রেজিং। ড্রেজিংয়ে বালু বিশাল আকৃতির পাইপ দিয়ে ফেলা হচ্ছে এই চরে। এই চরের ঠিক মাঝে আবুল ফজলের গড়ে তোলা তরমুজ ক্ষেত ড্রেজিংয়ের বালুর স্তুপের ওপর থেকে দেখা যায়। চরজুড়ে মহিষের পাল, গরুর পাল দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে চরের মাটিতে। সেই এক অপূর্ব দৃশ্য।

আবুল ফজল আরও বলেন, সমন্বিত বাগান করার তাগিদে বেছে নেন এই চর। এইজন্য সংঘবদ্ধ করেন প্রায় শতাধিক সমমনা মানুষকে। শেয়ার করেন বাগান গড়ে চরে ফসল ফলানোর। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা উপজেলা কৃষি অফিসার মো.আতিক উল্লাহকে জানালে তিনি চরটি পরিদর্শন করেন। এরপর তার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতায় নেমে পড়েন চাষাবাদে। এখন সফল হওয়ার পালা।

বালু চরে গর্ত করে বালু সরিয়ে নিয়ে গর্তে বাহির থেকে আনা পলিমাটিতে গর্ত পূরণ করে। প্রতিটি গর্তে জৈবসার দিয়ে মিশ্রণ করে তবে গর্ত প্রতি ৩/৪টি করে বীজ বপন করতে হয়। সবমিলিয়ে ইতোমধ্যে ১৩ লাখ টাকা পুঁজি খাটানো হয়েছে। এরমধ্যে তরমুজ বিক্রি করে আয় হয়ে গেছে ৬ লাখ টাকা। আরও বিক্রি হবে প্রায় ৩ লাখ টাকার তরমুজ। আশাকরি এই বছরই পুঁজি উঠে আসবে।

তরমুজ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, আগাম তরমুজের বেশ চাহিদা রয়েছে বাজারে। ক্রেতারা কিনছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ বলেন, ‘চরে বেলে দোঁয়াশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য খুবই ভালো। অনাবাদী জমিকে চাষাবাদের উপযোগী করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এ চরে আগাম তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। আশা করি, সমস্ত চর জুড়েই চাষাবাদের আওতায় আসবে। বাবুলের দেখাদেখি অন্যরা এগিয়ে আসলে কর্ণফুলির চর আর বালুকাময় থাকবেনা, পরিণত হবে শস্যভূমিতে।’

আরও পড়ুন