২০ মে ২০২৪

ভ্রমণ পিপাসুদের নজর কাড়ছে ঝরঝরি ঝর্ণা

সাজেদা সুলতানা সাথী »

ঝর্ণার নাম শুনেই নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন! পর্যটকদের কাছে কিন্তু বেশ পরিচিত এই ঝর্ণার নামটি। সীতাকুণ্ডে গিয়ে ঝরঝরি ঝর্ণার সৌন্দর্য না দেখে ফেরা না কেউ! সীতাকুণ্ড ঝর্ণার জন্য পর্যটকদের কাছে বিখ্যাত। সীতাকুণ্ডকে বলা হয় বাংলাদেশের ঝর্ণার স্বর্গ। অপরূপ সব ঝর্ণার দেখা মেলে সীতাকুণ্ডে। আরও আছে ক্যাসকেড ও ঝিরিপথ। এই রুটে মোট ট্রেইল আছে ১০টি।

সীতাকুণ্ড মধ্যে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও সুন্দর ট্রেইলগুলোর মধ্যে ঝরঝরি অন্যতম। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এটি অনেক জনপ্রিয় স্থান।

ঝরঝরি ঝর্ণার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখলে আপনি বিস্মিত হয়ে পড়বেন। প্রকৃতির মধ্য দিয়ে হেঁটে ঝর্ণার কাছে পৌঁছালেই যেন সব ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয়ে যায়।

ঝরঝরি ট্রেইলের ধরে ঘণ্টাখানেক হাঁটলেই প্রথমে যে ঝর্ণাটি দেখতে পাবেন সেটিই হলো ঝরঝরি ঝর্ণা। ঝরঝরির পাশ দিয়ে আরও কিছুদূর পাহাড় বেয়ে উপরে উঠলে দুটি ক্যাসকেড ও ঝর্ণার দেখা পাবেন।

সেখানকার সবচেয়ে সুন্দর ক্যাসকেড হলো প্রাকৃতিক সিঁড়ি। যা স্বর্গের সিঁড়ি নামেও পরিচিত। প্রাকৃতিকভাবেই সিঁড়ির মতো খাঁজকাটা। শেষ ক্যাসকেড থেকে আরও দু’ঘণ্টা ট্র্যাকিং করলে পৌঁছে যাবেন মূর্তি ঝর্ণায়।

একদিনের রোমাঞ্চকর ভ্রমণে অনেকেই বেছে নেন সীতাকুণ্ডের এই ঝরঝরি ট্রেইল। কারণ একসঙ্গে কয়েকটি ঝর্ণা দেখার লোভ সামলাতে পারেন না অনেক পর্যটক।

সীতাকুণ্ড ভ্রমণে আরও যা দেখবেন

ঝরঝরি ট্রেইল ভ্রমণের পাশাপাশি হাতে সময় থাকলে কমলদহ ঝর্ণা, সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক, চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দির, কুমিরা ঘাট, গুলিয়াখালী বীচ ও বাঁশবাড়িয়া বীচ ঘুরে আসতে পারেন।

কীভাবে যাবেন ঝরঝরি ঝরনায়?

ঢাকা থেকে যে কোনো বাসে করে মিরসরাই পার হয়ে পন্থিছিলা নামক বাজারে নামতে হবে। সেখানে কারও কাছ থেকে জেনে নেবেন রেললাইনের পথ কোন দিকে। এরপর সেখান থেকে বামের পথে ৪-৫ মিনিট হাঁটলেই পেয়ে যাবেন ডান দিকে মাটির রাস্তা।

ঝিরি ধরে আধাঘণ্টা হাঁটলেই ঝরঝরি ঝর্ণার দেখা পাবেন। পান্থছিলা থেকে ঝরঝরি ঝর্ণা পর্যন্ত পুরো রাস্তা প্রায় ১ ঘণ্টার। ঝরঝরি থেকে বাম দিক দিয়ে পাহাড়ের উপর দিয়ে উঠে গেলে আছে দুটি ক্যাসকেড ও একটি খুম।

পুরো ট্রেইল দেখে ফিরতে প্রায় ৫ ঘণ্টার মত সময় লাগবে। যদি চিনতে অসুবিধা হয় তবে স্থানীয় যে কাউকে বললেই রাস্তা দেখিয়ে দেবে। পুরো ট্রেইল সম্পন্ন করতে প্রয়োজনে গাইডের সাহায্য নিন।

থাকবেন ও খাবেন কোথায়?

সীতাকুণ্ডে উন্নত না হলেও সাধারণ মানের হোটেল পাবেন। তবে আরও ভালো কোথাও থাকতে চাইলে আপনাকে চট্টগ্রাম চলে আসতে হবে। সীতাকুণ্ডে খাবার জন্য বেশ কয়েকটি হোটেল পাবেন। আর যদি চট্টগ্রাম যান তবে এখানে সব ধরনের খাবার রেস্টুরেন্ট পাবেন।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ