১৩ এপ্রিল ২০২৪

মানিকছড়িতে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে অবৈধ ইটভাটা

বাংলাধারা প্রতিবেদক» পার্বত্য খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বছরের পর বছরজুড়ে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মানিকছড়ি উপজেলার পান্নাবিল এলাকায় গড়ে উঠা থ্রি স্টার ইটভাটা (টিএসবি)। এছাড়াও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে জারি কারা হাইকোর্ট আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফসলী জমির টপসয়েল ও পাহাড়ের মাটি কেটে পরিবেশ বিধ্বংসী টিনের চুল্লিতে ইট পোড়ানো অব্যাহত রেখেছে ইটভাটাটির মালিকপক্ষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের কোনো প্রকার অনুমতি কিংবা ছাড়পত্র ছাড়াই বিগত ৫ বছর যাবত ইট তৈরীর সকল প্রকার কার্যক্রম চলছে ওই ইটভাটায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে ৪ থেকে ৫টি মিনি ট্রাকে স্কেভেটর দিয়ে পার্শ্ববর্তী ফসলী জমির টপ সয়েল ও পাহাড়ের মাটি এনে ভাটায় স্তুপ করারও। এছাড়াও ভাটাটিতে ইট পোড়ানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বনের কাঠ।

জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন চাঁদের গাড়ি যোগে থ্রি স্টার ইটভাটায় আনা হয় শত শত মণ বনের কাঠ। এতে যেমন বন উজাড় হচ্ছে, তেমনি পরিবেশে কাঠ পোড়ানোর কালো ধোঁয়া মিশ্রিত হয়ে দূষিত করে তুলছে চারপাশের বাতাস। হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য। দিন দিন নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে আশেপাশের শিশু, নারী ও বয়োবৃদ্ধরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, থ্রি স্টার ইটভাটায় কাজ করছেন অর্ধ শতাধিক শ্রমিক, যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইটভাটার পার্শ্ববর্তী পান্নাবিল ও বড়বিল এলাকার স্থানীয়রা জানান, খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার দুইজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ওই ইটভাটাটি পরিচালনা করছেন। কাটছেন ফসলী জমির মাটি, পোড়াচ্ছেন বনের কাঠ।

অভিযুক্ত ইটভাটা মালিকপক্ষ সময় নিয়েও থ্রি স্টার-টিএসবি ইটভাটা পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত ছাড়পত্র কিংবা কোনো প্রকার বৈধ কাগজ পত্র প্রদর্শন করতে পারেননি। আর এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বাংলাধারার প্রতিবেদক’কে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন থ্রি স্টার (টিএসবি) ইটভাটার ম্যানেজার মো. রুহুল আমিন।

থ্রি স্টার (টিএসবি) ইটভাটা পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক ও বন বিভাগের কোনো ছাড়পত্র কিংবা অনুমতি নেই বলে জানান ইটভাটার বর্তমান মালিক মোহাম্মদ তারেক। থ্রি স্টার ইটভাটায় টিনের চিমনি ব্যবহার ও বনের কাঠ পোড়ানোর কথাও স্বীকার করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়ি জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ছাড়পত্র প্রাপ্ত সম্পূর্ণ বৈধ কোনো ইটভাটা নেই।

এদিকে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ অমান্য করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রবিহীন, ইটভাটায় নিষিদ্ধ টিনের চুল্লির মাধ্যমে দেদারসে সনাতন পদ্ধতিতে ইট পোড়ানোর যাবতীয় কার্যক্রম চললেও বিষয়টির প্রতি কোনো নজর নেই জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের। ইটভাটা মালিক পক্ষ প্রকাশ্যে উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করলেও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা বিষয়টি দেখেও যেন না দেখার ভান করছেন। যার ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

এবিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করায় থ্রি স্টার ইটভাটা মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানিকছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনা নাসরিন জানান, পান্নাবিল থ্রি স্টার ইটভাটা পরিচালনার জন্য কোনো বৈধ কাগজ পত্র নেই। সেখানে গিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ জারি করে ইটভাটার সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বনের কাঠ পুড়িয়ে সনাতন পদ্ধতিতে ইট পোড়ানোর অপরাধে ওই ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বন বিভাগের কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন