২০ মে ২০২৪

যান্ত্রিক নগরে প্রশান্তির আরেক নাম ‘জাম্বুরি পার্ক’

নিজস্ব প্রতিবেদক »

ব্যস্ত নগরীর মাঝে, ব্যস্ত মানুষের মনের প্রশান্তির জন্য হিমেল হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দেয়ার জন্য গড়ে তোলা একটি পার্ক, যার নাম জাম্বরি পার্ক। বলছিলাম চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদস্থ জাম্বুরি পার্কের কথা। ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত বিভাগ ৮:৫৫ একর জমির উপর মনোমুগ্ধকর জাম্বুরি পার্ক গড়ে তোলে। এই পার্কটি ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

পার্কটিতে রয়েছে ৮ ফুট উঁচু দৃষ্টিনন্দন ফেন্সিংয়ের ভেতর ৮ হাজার রানিং ফুটের ওয়াকওয়ে। সাড়ে ৩ ফুট গভীর ৫০ হাজার বর্গফুটের কৃত্রিম লেক। মাঠজুড়ে ৫শ এলইডি লাইট। পার্কটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত সন্ধ্যার পর। তখন পার্কটি আলোয়-আলোকিত হয়ে নতুন এক মনোমুগ্ধকর রূপ নেয়।

পার্কটিতে রোপন করা হয়েছে ৬৫ প্রজাতির ১০ হাজার গাছের চারা। এর মধ্যে অন্যতম সোনালু, নাগেশ্বর, চাঁপা, বাঁধাচূড়া, বকুল, শিউলি, টগর, জারুলসহ সূর্যমুখী ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এছাড়া খোলা চত্বরে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন জাতের সবুজ ঘাস। গাছ পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের ১৫ কর্মী।

জানা গেছে, পার্কটি মূলত স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের শরীর চর্চা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু জাম্বুরি পার্কটি এখন চট্টগ্রামের মানুষের স্বপ্নের পার্ক। একই সঙ্গে হয়ে উঠেছে বিভিন্ন পেশা-শ্রেণি মানুষের প্রশান্তির উদ্যান। বিকেল হলে দেখা যায় পার্কজুড়ে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। নানা বয়সী মানুষের আনাগোনা এই পার্কে। কেউ দল বেঁধে হাঁটছেন কেউবা আবার ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত। কেউ কেউ বসে আড্ডা দিচ্ছেন।

এই কর্মব্যস্ত শহরে একটু নিঃশ্বাস ফেলতে জাম্বুরি পার্কে ছুটে আসে হাজারও ব্যস্ত মানুষ। অথচ একটা সময় এই পার্কটি ছিল একটি পরিত্যক্ত মাঠ। এখানে বসতো মাদকের আসর, আর এখন বসে প্রেমিক-প্রেমিকারা, পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব। তবে প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য পার্কটি আরও সুন্দর দেখায়— আঁধারঘেরা সেই জাম্বুরি মাঠে, আলো-আঁধারের খেলায়। বদলে যাওয়া পরিবেশের সাথে বদলে গেছে নামও। জাম্বুরি মাঠ এখন সকলের দৃষ্টিনন্দন জাম্বুরি পার্ক। একাকীত্ব সময় কাটানোর জন্য, মনের প্রশান্তির জন্য সকল শ্রেণির মানুষ আসেন এই পার্কে।

জাম্বুরি পার্কে কিছু উন্নত সুবিধা রয়েছে। বিনা পয়সায় প্রবেশ করা যায়, সকলের জন্য উন্মুক্ত। সর্বসাধারণের জন্য এই পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে। মাঠের প্রান্তে রয়েছে অতিথিদের বিশ্রামের জন্য কিছু স্থায়ী বেঞ্চ ও ৩টি দুই ধাপের গ্যালারি এবং নারী-পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা শৌচাগার। আরও আছে একটি বিদ্যুতের উপকেন্দ্র। পার্কে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৬টি গেট এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন ৬ নিরাপত্তাকর্মী। পার্কটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে ১৪টি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। জলাধারার পাশে রয়েছে দুটি পাম্প হাউস। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি দেকে সুরক্ষার জন্য পুরো পার্কটি সড়ক থেকে ৩ ফুট উঁচু করা হয়েছে। পার্কের ভিতরের ও বাইরের পানি নিষ্কাশনের জন্য রয়েছে মাস্টার ড্রেন।

তবে এই পার্কটিতে প্রবেশের কিছু নিয়মও রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে এই নিয়মটা করা হয়েছে। যেমন— পার্কে খাবার নেয়া যাবে না, গাছের ক্ষতি করা যাবে না, জলাধারে গোসল করা যাবে না।

জাম্বুরি পার্কে ঘুরতে আসা দুই বন্ধু পারভেজ ও আমিনুল ইসলাম মিলন বলেন, পার্কটি অনেক সুন্দর করে সাজিয়েছে। এই পার্কে কোন অনিয়ম নেই, পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসাটাও নিরাপদ। একইসাথে পার্কটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং পরিবেশেও অনেক সুন্দর।

বাংলাধারা/এনএএ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ