২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রিক্সার চাকায় ভাগ্য ঘুরাতে চান দরিদ্র শিক্ষার্থী আসকর

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

কক্সবাজারের চকরিয়ার উপকূলীয় বদরখালীর ৪নং ওয়ার্ডের খালকাছা পাড়া দারিদ্রে ঘেরা একটি গ্রাম। সেই গ্রামের দিনমজুর জয়নাল আবেদীন ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে আসকর আলী।

শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান হলেও শৈশব থেকেই পড়া-লেখা খুবই টানত তাকে। তার ইচ্ছে পড়ালেখা করে সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্য হয়ে দেশের সেবা করা। তাই ৫ম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময় থেকেই নিজের স্বপ্ন পূরণে রিক্সার চাকায় ভর করে খুড়িয়ে এগুচ্ছে আসকর। এভাবে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়ে এখন পড়ছে উপকূলীয় বদরখালী কলেজের দ্বাদশ মানবিকে।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক আবু তৈয়ব জানান, খবর নিয়ে জেনেছি, জয়নাল-মনোয়ারার তিন ছেলে দু’মেয়ের মাঝে তৃতীয় আসকর আলী। তার বড় দুই ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছে। বাবা-মা ও ছোট দু’বোনকে নিয়ে আসকরের পৃথিবী। বাবা বদরখালী বাজারের দোকানে পানি সরবরাহ ও মা কয়েকটি রেস্তোরায় মরিচ পেশানোর কাজ করেন। বাবা-মায়ের এ আয়ে তিনবেলা খাবার আশা করাও দুরাশা। তাই শিশুবেলা থেকেই পরিবারের আয়ে যোগান দিতে রিক্সায় ভর করে আসকর আলী।

আসকর আলীর বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন, ছেলেটি ছোট বেলা থেকেই মেধাবী। কিন্তু তাদের তিন বেলা খাবারই ঠিক মতো যোগাড় করতে পারিনা। তাই পড়ালেখার খরচ দেয়া স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু ছেলেটি ঠান্ডামাথায় সব হজম করে ১০ বছর বয়স থেকেই রিক্সা চালিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি নিজের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে ছোট দু’বোনকেও পড়াচ্ছে। ছেলেটি সেনাবাহিনীতে চাকুরি করতে চাই। আমাদের দোয়া তার উপর রয়েছে। আল্লাহ অবশ্যই তাকে সফল করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

বদরখালী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আফসারুজ্জামান বলেন, আসকর আমাদের সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অনেক বিত্তবানের ছেলেরা সুযোগ পেলেও পড়া-লেখা করে না। আর সেখানে আসকর নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তার একাগ্রচিত্ততা দেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ আসকরকে উপবৃত্তির আওতায় এনে সহযোগিতা করছে।

আসকর আলী বলেন, গরীব ঘরে জন্ম হলেও পড়ালেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই আমি। এ কারণে রিক্সা চালিয়ে আমার লেখা-পড়ার খরচ যোগায়। পাশাপাশি ছোট বোনদেরও শিক্ষার আলো দিতে চেষ্টা চালাচ্ছি। আমার এ প্রচেষ্টাকে অনেকে তাচ্ছিল্য করেছেন। এসবে আমার কিছু যাই আসে না। লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেই আমি সফল হবো। এখন মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছি। ১৯ বছর হলেই সেনাবাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষায় দাঁড়াতে চাই। আমার স্বপ্ন সেনাবাহিনীর সদস্য হয়ে দেশের সেবা করা। লক্ষ্য পূরণে অনুগ্রহ নয় সবার দোয়া চান আসকর।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ