২০ মে ২০২৪

লকডাউনে জরুরি গমনে অনুমতি মিলছে না পুলিশের

বিশেষ প্রতিবেদক  »

কড়া লকডাউনেও কেবলমাত্র সিএনজি টেক্সি ও বাস ছাড়া বাকি সব গাড়ি মোটামুটি চলাচল করছে মেট্রোপলিটন ও জেলা পর্যায়ে। এর কারণ হচ্ছে পুলিশের ঢিলেঢালা দায়িত্ব পালন। সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারির কথা বলা হলেও তা মানছে না কেউ। রাস্তায় রাস্তায় পুলিশের বেশির ভাগ চেকপোস্টগুলো শূন্য পড়ে আছে। এদিকে, পুলিশ মানছে না জরুরি সংস্থাগুলোতে কর্তব্যরত মানুষের চলাচলে দ্বি-চাকার পরিবহনে দ্বৈত আসনের ব্যবহার। সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ করে বাংলাদেশ রেডিও ও টেলিভিশনে বার বার প্রচারণা চালানো হচ্ছে জরুরি সংস্থাগুলো লকডাউনের আওতা বহির্ভূত। কিন্তু পুলিশ চেকপোস্টের নামে জরুরি সংস্থার গাড়িগুলোকেই পাকড়াও করছে এমন অভিযোগ প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে চট্টগ্রামের রাস্তায়।

অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি সংস্থায় কর্মরতরা শহরের বাইরে এবং জেলা পর্যায়ে যাতায়ত করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। অথচ, পণ্য পরিবহণে যেমন ট্রাক ব্যবহার হচ্ছে, বিদ্যুত সংযোগ পুনর্স্থাপনে বিদ্যুতের গাড়ি চলাচল করছে। কিন্তু সংবাদপত্রের কাজে ব্যবহৃত গাড়িগুলোকে শহরের বাইরে যেতে দিচ্ছে না পুলিশ। সিএনজি টেক্সি ও বাস ছাড়া বাকি সব পরিবহণই চলছে যাত্রী নিয়ে। বিশেষ করে প্রাইভেটকার, মাইক্রোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ১ জুলাই সকাল থেকে অনেকেই পুলিশের মুভমেন্ট পাস নেয়ার চেষ্টা করলেও ফরম পূরণের মধ্যেই শেষ। পুলিশের কাছ থেকে মুভমেন্ট পাস বন্ধ থাকায় তা ইস্যু করা নিয়ে আরেক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। মুভমেন্ট পাস ছাড়াই যেখানে চলাচল করা যাচ্ছে সেখানে মুভমেন্ট পাসের প্রয়োজনীয়তা এখন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় নেই বললেই চলে। পুলিশের চেকপোস্টের অভাব নেই রাস্তায়। কিন্তু গণপরিবহন ব্যতীত অন্য পরিবহণও চলাচল বন্ধ নেই। আবার মেট্রো ও জেলা শহরে যেতে পুলিশের অনুমতি নিতে গিয়ে দেখা গেছে, তুঘলকি কাণ্ড। যেখানে অনলাইনে পুলিশ হেডকোয়ার্টাস পুলিশ আবেদনের প্রেক্ষিতে মুভমেন্ট পাস ইস্যু করার কথা, সেখানে পুলিশ আবেদনের বিপরীতে রিসিভি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দামপাড়াস্থ নগর বিশেষ শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, টিনশেডের একটি কক্ষে সিভিল পোশাকে ক’জন বসে আছেন। গাড়ি চালানোর অনুমতি নিতে গেলে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) বরাবর আবেদন করতে হয় এবং সে সঙ্গে গাড়ির যে কোন একটি ডকুমেন্টের ফটোকপি সরবরাহ করার জন্য। আবেদনপত্রের সঙ্গে গাড়ির ডকুমেন্টের ফটোকপি সাঁটিয়ে দেয়ার পর দেখা গেল সিটিএসবির দায়িত্বহীনতার পরিচয়। অনুমতি প্রদানের জন্য আবেদন করা হলেও সিটিএসবির পক্ষ থেকে তা করা হচ্ছে না। বরং আবেদনের দুটি কপি নিয়ে একটি কপিতে গাড়ির ডকুমেন্টের সাঁটানো ফটোকপিসহ রেখে দেয়া হচ্ছে, আরেকটি কপিতে অফিস সহকারির রিসিভিং দেয়া হচ্ছে নামবিহীন ও স্বাক্ষরসহ। সাঁটিয়ে দেয়া হচ্ছে আবেদনকারীর কাগজের ওপর একটি সীলমোহর। প্রশ্ন উঠেছে, শহর এলাকায় গাড়ি চালানোর অনুমতি চাওয়া হলেও কেন অনুমতিপত্র না দিয়ে আবেদনের ওপর রিসিভিং দেয়াকে অনুমতি বলা হচ্ছে। কারণ, এ ধরনের রিসিভিং কপি নিয়ে রাস্তায় নামলে বিভিন্ন চেকপোস্টে থানা পুলিশ বাকবিতন্ডা ছাড়াও গাড়ি ব্যবহারকারীর নামে মামলা ঠুকে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে সিটিএসবির এক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, লকডাউনের সময় গাড়ি চলাচলে জরুরি বিভাগগুলোর প্রয়োজনীয়তা সবচেযে বেশি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোন ছাপানো কাগজ বা কার্ড দেয়া হয়নি যাতে জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি সংস্থাগুলোকে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া হলেও পুলিশ কেন তা মানছে না এমন প্রশ্নের উত্তর মেলেনি সিটিএসবির এ কর্মকর্তার কাছ থেকে।

এদিকে, জেলা পর্যায় তথা চট্টগ্রাম-ঢাকা ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে হাইওয়েতে গাড়ি চালানোর জন্য অনুমতি চাওয়ার কথা জেলা স্পেশাল ব্রাঞ্চ (ডিএসবি) দফতরে। জেলা পুলিশের ডেসপাস কক্ষে বিশেষ কারণে গাড়ি চালানোর অনুমতির আবেদনে রিসিভিং স্বাক্ষর ও তারিখ দেয়া হচ্ছে। অথচ, ডিএসবির পক্ষ থেকে বিশেষ প্রয়োজনে গাড়ির মুভমেন্ট পাস দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না।

লকডাউন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও রেডিওতে বার বার প্রচারনা চালানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে শুধুমাত্র জরুরি সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে। এসব জরুরি সংস্থার মধ্যে রয়েছে, বিদ্যুত, টেলিফোন, বেতার, প্রচারণা সংস্থা, পোশাক শিল্প, খাদ্য পরিবহণ, ওষুধ পরিবহণ, সংবাদ মাধ্যমসহ বেশ কয়েকটি জরুরি সংস্থা ও দফতরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ