২০ মে ২০২৪

আমিরাতে বন্যা

শারজাহ বিমানবন্দরে আটকা চট্টগ্রামের ১৫০ যাত্রী

নজিরবিহীন বৃষ্টি আর আকস্মিক বন্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যাওয়ার মধ্যে শারজাহয় আটকা পড়েছেন চট্টগ্রামের প্রায় দেড়শ যাত্রী। এয়ার অ্যারাবিয়ার জি ৯-৫২৬ ফ্লাইটটির প্রায় ১৫০ যাত্রী ওমরাহ শেষে মদিনা থেকে চট্টগ্রাম ফেরার পথে মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে আটকে আছেন। বৃহস্পতিবার সকালেও তারা পরের ফ্লাইট পাননি।

ফ্লাইটের যাত্রী চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার গর্জনিয়া গ্রামের আবু সালেকের ছেলে আবু বক্কর ওমরাহ শেষে মা, ছোট ভাই ও বোনকে নিয়ে চট্টগ্রাম ফিরছিলেন। তিনি জানান, যাত্রীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী-শিশু, তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

আবু বক্কর বলেন, এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এখনও জানানো হয়নি তাদের পরবর্তী ফ্লাইট কখন। যাত্রীদের খাবার দেওয়া হলেও হোটেল দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দরের মেঝেতে কিংবা চেয়ারে শুয়ে-বসে তাদের সময় পার করতে হচ্ছে।

একই ফ্লাইটে চট্টগ্রামের কোরবানিগঞ্জের যাত্রী জুবায়ের আকতার তার পরিবারের চার সদস্যসহ ফিরছিলেন মদিনা থেকে। শারজাহ বিমানবন্দরের ৭ নম্বর অ্যারাইভাল গেইটে তারা অবস্থান করছেন।

চট্টগ্রামের কালা মিয়া বাজারের নাদিয়া ফেরদৌস, সীতাকুণ্ডের মোহাম্মদ আবদুল লতিফ ও রবিউল হক, ফেনী সদরের মোহাম্মদ ইউনুস এবং চট্টগ্রামের চকবাজারের মোহাম্মদ জহির উদ্দিন উষ্মা প্রকাশ করেছেন এয়ারলাইন্স কর্তৃক তাদের হোটেল না দেওয়ায়।

দুবাই ও শারজাহ বিমানবন্দর এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন সড়ক জলমগ্ন হওয়ায় স্বাভাবিক বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দ্বিতীয় সচিব সাজ্জাদ জাহির। তিনি বলেন, ‌‌‘দুবাই ও শারজাহ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের রানওয়েতে পানি ওঠায় এমিরেটস, ইজিপ্ট এয়ার, এয়ার অ্যারাবিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বহু এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আটকে আছে। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর রানওয়ে থেকে পানি সরলে আজ বিমানজট কমবে।’

সাজ্জাদ বলেন, ‘বহু ভিআইপি প্যাসেঞ্জারও এয়ারপোর্টে আটকা পড়ে আছেন। বাংলাদেশি যাত্রীরা বিপাকে পড়ায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, শারজাহ, আজমান ও আবুধাবির কিছু অংশে নজিরবিহীন বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত টানা বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকা। ৭৫ বছরে এ ধরনের বৃষ্টির নজির সে দেশে নেই।

দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বোচ্চ ২৫৪ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে, যা দেশের দুই বছরের মোট বৃষ্টিপাতের সমান। বিভিন্ন সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে আছে। সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ