২৫ এপ্রিল ২০২৪

শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হার বাংলাদেশের

সিরিজের প্রথম ম্যাচে খুব কাছে গিয়েও হার। দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতায় ফিরেছিল বাংলাদেশ। সিলেটে শান্তদের সামনে ছিল সিরিজ জয়ের হাতছানি। তবে নুয়ান থুশারার হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট বাংলাদেশের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর রিশাদের অবিশ্বাস্য এক ইনিংসেও শেষরক্ষা হয়নি বাংলাদেশের। শেষ ম্যাচে ২৮ রানে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ।

লক্ষ্যটা ছিল ১৭৫। ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার লিটন-সৌম্য দেখেশুনেই এগুচ্ছিলেন। বিপত্তির শুরু তৃতীয় ওভারে। ইনজুরির কারণে ম্যাথিউস মাঠ ছাড়লে তার পরিবর্তে বোলিংয়ে আসেন ডি সিল্ভা। তার প্রথম বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরে ৭ রান করা লিটন। পরের ওভারেই আসে সেই মুহূর্ত। এক ওভারের ঝড়েই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচের ফলাফল। পরপর তিন বলে শান্ত, হৃদয়, মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেন থুসারা। শান্ত, হৃদয় হয়েছেন বোল্ড, রিয়াদ পড়েছেন এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে। ষষ্ঠ বোলার হিসাবে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক পেলেন থুসারা।

১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন দিশেহারা বাংলাদেশ। ২৫ রানের মাথায় সৌম্যকেও বোল্ড করেন থুসারা। সিরিজে দারুণ ফর্মে থাকা জাকেরই ছিল বাংলাদেশের ভরসা। সেই জাকেরও ৪ রান করে আউট হয়েছেন হাসারাঙ্গার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ৩২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের হার।

কিন্তু তখনো বাকি ছিল চমক। অন্য প্রান্তে যখন সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিল, তখন এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে গেছেন এই রিশাদ হোসেন। একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে বড় হারের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন তিনিই। ৭ ছক্কায় ৩০ বলে ৫৩ রান করে রিশাদ প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন থিকসানার বলে আউট হয়ে। রিশাদ ফেরার পর কার্যত শেষ হয়ে যায় দলের জয়ের সামান্য আশাটুকুও। তাসকিন অবশ্য বেশ আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে কিছুটা বিনোদন দিয়েছেন দর্শকদের, কমিয়েছেন হারের ব্যবধানও। ৩ চার ও ২ ছয়ে ২১ বলে ৩১ রান করেছেন তাসকিন। শেষ পর্যন্ত ২৮ রানের হার নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। ২-১ ব্যবধানে সিরিজতা নিজেদের করে নিল শ্রীলংকা।

দিনের শুরুতে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সিরিজের তিন ম্যাচেই টস জিতে আগে বোলিং নেন শান্ত। তাসকিন আহমেদ শুরুতেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দিয়েছেন। নতুন বলে আজ দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ। সঙ্গে শরিফুল ইসলাম আজও ধারাবাহিক ছিলেন। মাঝের ওভারগুলোতে লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন খুব হিসেবি বোলিং করেছেন।

দলীয় ১২ রানের মাথায় ৮ রান করা ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ফেরান তাসকিন। একপ্রান্ত থেকে শুরু থেকেই উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশি বোলাররা। কিন্তু কুশল মেন্ডিস অপরপ্রান্তে ছিলেন দুর্দান্ত। শুরুতে কিছুটা সময় নিয়েছেন। তবে উইকেটে জমে যাওয়ার পর দাপুটে ব্যাটিং করে গেছে লংকান তারকা। একটা সময় মনে হচ্ছিল, সেঞ্চুরি পেলেও পেতে পারেন কুশল। কিন্তু ইনিংসের ১৭তম ওভারে কাটা পরেছেন তাসকিন আহমেদের বলে। সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়ার আগে ৫৫ বলে ৮৬ রান করেছেন কুশল মেন্ডিস। তার ইনিংসে চার-ছয় সমান ৬টি করে।

শেষ দিকে দাসুন শানাকা ৯ বলে ১৯ রান করে শ্রীলংকার স্কোর বড় করেছেন। দুই ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পর ফেরা ওয়েনান্দু হাসারাঙ্গা ১৫ রান করেছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন। রিশাদ হোসেন ৩৫ রান নিয়েছেন দুই উইকেট।

আরও পড়ুন