১৪ জুন ২০২৪

সন্ধ্যায় শুরু বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মাঠের লড়াই

বাংলাধারা স্পোর্টস »

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ কমই পায় বাংলাদেশ। আর টি-টোয়েন্টিতে মাঠের লড়াই হয় না বললেই চলে। অজিদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চারটি টি-টোয়েন্টিতে দেখা হয়েছে টাইগারদের। সবগুলোই বৈশ্বিক আসরে। তবে জয় নামক সোনার হরিণ এখনো ধরা দেয়নি। টি-টোয়েন্টিতে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজই যে খেলা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

অনেক জল্পনা-কল্পনা আর আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মঙ্গলবার (০৩ আগস্ট) মাঠে নামছে দুদল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়।

করোনাকালীন এই সিরিজটিও মাঠে বসে বসে উপভোগ করতে পারছেন না ক্রিকেট ভক্তরা। বরাবরের মতো খেলা দেখতে হবে টিভি পর্দায় কিংবা অনলাইন মাধ্যমে। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে ক্রীড়াভিত্তিক চ্যানেল টি-স্পোর্টস, গাজী টিভি ও বাংলাদেশ টেলিভিশন। এ ছাড়া অনলাইনে খেলাগুলো দেখা যাবে র‍্যাবিটহোলস্পোর্টসে।

টিম অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় পা রাখার পর থেকে ক্রিকেট নিয়ে যতটা আলোচনা হয়েছে তার বেশি সমোলোচিত হয়েছে সফরকারীদের দেওয়া নানা শর্ত নিয়ে। জৈব-সুরক্ষা নিয়ে তাদের একের পর এক বিধি-নিষেধ, মাঠে অনুশীলন নিয়ে কড়াকড়ি, এমনকি ম্যাচের মধ্যেও নানা নিয়ম আনার ছড়াছড়ি। সবমিলে ক্রিকেটের চেয়ে মুখ্য হয়ে ওঠে নিয়মকানুন। তবে সব আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে দুদলের চূড়ান্ত লড়াই। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডেতে জয়ের স্বাদ পেলেও টি-টোয়েন্টিতে এখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এই সংস্করণে চারবার অসিদের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। সবগুলোই ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে। কিন্তু একটিতেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে এই ফরম্যাটে পেয়েছে বাংলাদেশ। তাই অসিদের বিপক্ষে নিজেদের অধরা জয়ের স্বপ্নকে পূরণ করার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

অনেকটা দুর্বল দল নিয়েই বাংলাদেশে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। চোট ও পারিবারিক কারণে আসেননি ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, নিয়মিত অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ, মার্কাস স্টয়নিস, প্যাট কামিন্স, কেন রিচার্ডসন ও জাই রিচার্ডসনদের মতো তারকারা। বাংলাদেশ দলেও নেই তামিম ইকাবাল, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিমদের মতো তারকারা। তাই বাংলাদেশকেও নামতে হবে খর্বশক্তির দল নিয়ে।

তাই সিরিজের আগে অতিথিদেরই এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। মূল লড়াই নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেরা সুযোগ (অসিদের হারানো) কিনা, সেটা বলা কঠিন। কারণ অস্ট্রেলিয়া ভালো দল। ওদেরকে হারাতে হলো ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা আমাদের স্কিলগুলো ম্যাচের দিন কতটা প্রয়োগ করতে পারি। ম্যাচের অবস্থা ও কন্ডিশন অনুযায়ী নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারি। এসবের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমার ধারণা, খুব ভালো একটি সিরিজ হবে।’

অধিনায়ক আরও বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি সংস্করণই এমন, নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেললে যে কোনো দলকে হারানো সম্ভব। র‍্যাঙ্কিংয়ে তারা যত ওপরের দলই হোক। ওদের কয়েকজন ক্রিকেটার আসেনি। আমরাও তেমনি কয়েকজনকে মিস করছি, তামিম-মুশফিক-লিটন নেই। আমাদের দলের জন্য ও প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্য বড় সুযোগ আমাদের মান দেখানোর। আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে, ঘরের মাঠে আমরা ভালো দল এবং এটা দেখানোর চেষ্টা করব এবারও। দলের সবার প্রতিই আমাদের আস্থা রাখতে হবে। দল হিসেবে আমাদের ভালো করতে হবে। এটাই আমাদের শক্তির জায়গা। যখন আমরা দল হিসেবে পারফর্ম করি, ছোট ছোট জায়গাগুলি ঠিকঠাক করতে পারি, তখন দল হিসেবে আমরা শক্তিশালী থাকি এবং মনে করি, এটাই আমাদের শক্তি।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে সাফল্যে আশাবাদী অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডও। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের আগে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ওয়েড বলেন, ‘অবশ্যই আমরা এই সিরিজ জিততে চাই। প্রতিটি ম্যাচই আমরা সবসময় জিততে চাই। তবে এটা একটা সুযোগ সবাইকে দেখার যে বিভিন্ন ভূমিকায় তারা কেমন করছে, যাতে বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের সময় বোঝা যায় কোন ভূমিকায় কে কেমন করছে। সেই সুযোগটি নিতে সবাই রোমাঞ্চিত। নানা জায়গায় নিজেদের তুলে ধরতে মুখিয়ে থাকবে অনেকেই।’

অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক আরও বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রত্যাশিত ফল আমরা পাইনি। তবে কিছু কিছু ব্যাপার আমরা পেয়েছি, যা দেখতে চেয়েছিলাম। মার্শ, টার্নারদের কাছ থেকে যা চেয়েছি, পেয়েছি। আরও কয়েকজন আছে, তারা দেখিয়েছে যে এই পর্যায়ে তাদের সামর্থ্য আছে।’

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন