১৬ জুলাই ২০২৪

হাটহাজারীতে সেবাপ্রার্থীর কাছে ঘুষ চেয়ে শাস্তির মুখোমুখি কর্মচারী

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

হাটহাজারীর ১৫ নং বুড়িশ্চর ইউনিয়নের বাসিন্দা আরেফিন। জন্ম তারিখের সাথে জন্ম নিবন্ধন মিল না থাকায় সে পাসপোর্ট করতে পারছে না। দুইদিন আগে জন্মসনদ সংশোধন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসে আরেফিন।

ইউএনও‘র অনুপস্থিতি ও আরেফিনের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঘুষের টাকা দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মচারী কার্যালয়ের স্টাফ আব্দুল মালেক।

রবিবার (১৬ মে) আরেফিনের অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে আরেফিনের সমস্যার সমস্যার সমাধানসহ অভিযুক্ত স্টাফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।

রুহুল আমিন বাংলাধারাকে জানান, আরেফিন আজ দুপুরে আমাকে জানায় যে, জন্মসনদে ভুল থাকায় তা সংশোধন করার জন্য সে আমার অফিসে আসে। আমার অফিস ‘উপজেলা পরিষদের’ স্টাফ আব্দুল মালেক তাকে জানায়, এখন ডিসি অফিসে কোনো সংশোধন হয় না, সব ঢাকায় হয়। তাই ঢাকায় কাগজপত্র নিয়ে যেতে ১২ হাজার টাকা লাগবে।

তিনি আরও বলেন, আসলে মূল কাজ আমি ডিসি অফিসে ফরোয়ার্ড করে দিলেই কাজ শেষ। এই সামান্য একটা চিঠির জন্য ১২ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার কথা শুনে আমি অবাক হই। আমি তাকে আমার কার্যালয়ে আসতে বলি। বিষয়টি আমাকে জানানোর দুই ঘন্টার মধ্যে আরেফিনকে তার সেবা বুঝিয়ে দিয়েছি। আর ওই পিয়ন কে শো কজ করি এবং বিভাগীয় মামলার উদ্যোগ নিয়েছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আরেফিন বাংলাধারাকে জানান, আমার জন্ম তারিখের সাথে জন্ম নিবন্ধন মিল না থাকায় পাসপোর্ট করতে পারছিলাম না। বিষয়টি সমাধান করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে দুই দিন আগে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাই। প্রায় তিন ঘন্টা সময় অতিবাহিত করার পর ওই অফিসের স্টাফ আব্দুল মালেক আমাকে জানায়, এ কাজগুলো নাকি এখন আর ডিসি স্যার করে না, সব কাজ ঢাকায় হয়।

আরেফিন বলেন আমি যদি তাকে ১২ হাজার টাকা দিই তাহলে চার দিনের মধ্যে সব কাজ করে দেবেন। পরে আমি বিষয়টি হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল স্যারকে জানালে তিনি সাথে সাথেই আমার সমস্যা সমাধান করে দিয়ে মালেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

আরও পড়ুন