বাংলাধারা প্রতিবেদন »
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও গত ১৬ বছর ধরে কোন সম্মেলন করতে পারেনি চট্টগ্রাম মহনগর যুবলীগ। এতে হতাশ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এ অঙ্গ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবশেষে আগমী মাসের মধ্যেই সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে।
যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নগরের প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে কেন্দ্রের কাছে কাউন্সিলরদের নাম জমা দিতে হবে। অক্টোবরেই করতে হবে সম্মেলন। চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলনও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
নগর ও উত্তর জেলায় তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আওয়ামী যুব লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হককে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী জনিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে কাউন্সিলরের তালিকা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় এমপি এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে সমন্বয় করে কমিটিগুলো গঠন করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে মহানগরের জন্য যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু এবং দক্ষিণ জেলার জন্য আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল হককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই দুই প্রেসিডিয়াম সদস্যের তত্ত্বাবধানে নগর এবং জেলা কমিটি ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করবে। অক্টোবরে অবশ্যই সম্মেলন হবে। এবিষয়ে গাইডলাইন দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের অনেক জেলা আছে যেখানে অতীতে কোন সম্মেলন হয়নি এমন জেলা এবং শহরেও সম্মেলন করেছি। সম্মেলন হতেই হবে। সবার সাথে আলোচনা করলে কমিটি করা কোন ব্যাপার না। কাউন্সিলরের ভোটে নির্বাচিত হবেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। যারা নির্বাচিত হবেন তারা সবার সাথে সমন্বয় করে কমিটি করবেন।
সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে নগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ জানান, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। যেসব ওয়ার্ডে এখনো কমিটি গঠন করা হয়নি সেখানে সবার সাথে সমন্বয় করে কমিটি গঠন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাউন্সিলর তালিকা জমা দেয়া হবে।
এদিকে ২০১৩ সালে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ছয় বছরের মধ্যে নগর যুবলীগ মাত্র পাঁচটি ওয়ার্ডের নগর যুবলীগ নিয়ে কমিটি গঠন করতে পেরেছে। এখন মাত্র এক মাসের মধ্যে বাকি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করতে হবে। দিনে একটি করে ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করলেও এক মাসের মধ্যে তা শেষ হবে না। অথচ যুবলীগ নিয়ে পদ প্রত্যাশীদের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা এই কমিটি কখন হবে, কিভাবে হবে তা নিয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন।
এছাড়া বর্তমান কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের অনেকেই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। কিন্তু বর্তমান আহবায়ক কমিটির প্রায় অর্ধযুগ কেটে গেলেও সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিতে পারেনি। বরং তাদের মনোভাব দেখে নবীনরা মনে করছেন, ‘বর্তমান কমিটি সময়ক্ষেপণ করছে।’ তাদের অভিমত, যারা ছাত্র রাজনীতি করে এসেছে তারা নিশ্চয়ই যুবলীগের কমিটিতে যেতে চাইবেন। কিন্তু নতুনদের সুযোগ না দিলে সংগঠনে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কেন্দ্র থেকে গঠন করা হয়েছিল নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি। নির্দেশনা ছিল তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। তবে ছয় বছর পার হলেও কমিটি করতে পারেনি আহ্বায়ক কমিটি। ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনেক নেতা আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা। ১৯৮৯-৯০ সালে নগর যুবলীগের ৬৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছিল, ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন নোমান আল-মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিকুল হাসান।
এরপর ২০০৩ সালের জুলাই মাসে মহানগর যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। কিন্তু কমিটি ঘোষণা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে তা প- হয়ে যায়। এর দেড় বছর পর চন্দন ধরকে আহ্বায়ক ও মশিউর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৩ সালের আবারও ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। সেই আহবায়ক কমিটিও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












