বাংলাধারা প্রতিবেদন »
অতিথি শূন্য হওয়ার পথে চট্টগ্রামের তারকা হোটেলগুলো। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে জানুয়ারি মাস থেকে তারকা হোটেলগুলোতে অতিথিদের আগাম বুকিং বাতিলের হিড়িক পড়ে। একইসঙ্গে কমতে থাকে নতুন করে অতিথিদের বুকিং। নতুন করে অতিথি না আসলে হোটেলগুলো শূন্য হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে চিন্তিত হোটেল মালিকরা। আর্থিক ক্ষতির মুখে কর্মীদের বেতন-ভাতা নিয়ে শঙ্কিত আছেন তারা।
তারকা হোটেলগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যবসায়িক কাজে বিদেশিরা বেশি আসেন। তারকা হোটেলে তারা থাকার পাশপাশি ব্যবসায়িক মিটিং করেন। এছাড়া পর্যটকরাও ঘুরতে এসে অনেকে তারকা হোটেলে ওঠেন। অন্যদিকে হোটেলের বলরুমগুলোতে হয় নানা রকম মেলা, সভা, সেমিনার ও অনুষ্ঠান। প্রায় প্রতিটি হোটেলেই এ সময়ে ৭০-৮০ শতাংশ রুমে অতিথি থাকেন। কোনও কোনও হোটেলে শতভাগ রুম অতিথিতে পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে ক্রমাগত বুকিং বাতিল হয়েছে। নতুন করে অতিথিরা বুকিং করছেন না। যারা খুব প্রয়োজনে এসেছিলেন তারাও সফর সংক্ষিপ্ত করে নিজে দেশে ফিরে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করেছে কয়েকটি দেশ। এদিকে ইউরোপে ফ্লাইট বন্ধ করেছে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামে তারকা হোটেল আছে হাতেগোনা কয়েকটি। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত হোটেলগুলোর অতিথির চাপ থাকে সব চেয়ে বেশি।
বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে তারকা হোটেলগুলোর একটি হচ্ছে রেডিসন ব্লু বে-ভিউ। এই হোটেলের যোগাযোগ কর্মকর্তা রাহফাত সালমান আবির বাংলাধারাকে বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ক্রমাগত অতিথি কমছে। পুরনো বুকিং তো বাতিল হচ্ছেই, নতুন কোনও বুকিং হচ্ছে না। শুধু রেডিসন না, এখানকার প্রায় সব হোটলেই এ অবস্থা বিরাজ করছে। অবস্থার উন্নতি না ঘটলে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়তে হবে।’
হোটেল পেনিনসুলার অপারেশন ম্যানেজার রমেন দাশ গুপ্ত বাংলাধারাকে জানান, বছরের এ সময়টা অতিথিদের সেবায় ব্যস্ত সময় পার করার কথা। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রতিনিয়ত কমছে অতিথির সংখ্যা। নতুন করে অতিথি না আসলে হোটেলগুলো শূন্য হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা বড্ড চিন্তিত। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা দেখছি।
ওয়েল পার্কের সহকারী ব্যবস্থাপক রেজওয়ানুল ইসলাম বাংলাধারাকে জানান, ব্যবসায়িক কারণে বা ভ্রমণে বিদেশ থেকে পর্যটকরা চট্টগ্রামে আসতেন বলে আমাদের হোটেল সব সময় জমজমাট থাকতো। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করেছে কয়েকটি দেশ। এদিকে ইউরোপে ফ্লাইট বন্ধ করেছে বাংলাদেশ। তাই অতিথি সংকটের কারণে আমরাও আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছি।
তারকা হোটলগুলোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা)। এই সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে বিদেশি অতিথিদের বেশির ভাগই আসেন চীন, জাপান, ভারত, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও শ্রীলঙ্কা থেকে। সাধারণত বছরের এ সময়ে ৭০ শতাংশের বেশি রুমে অতিথি থাকলেও করোনার প্রভাবে সেটি ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কার্যত সারাবিশ্ব বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যার কারণে অতিথি আসছে না। বরং সবাই আটকা পড়ার ভয়ে নিজ থেকে ফিরে যাচ্ছেন। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত এ পরিস্থিতি থাকলে হোটেলগুলো একেবারেই অতিথি শূন্য হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিহা) প্রেসিডেন্ট এইচ এম হাকিম আলী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তার মন্তব্য জানা যায়নি। তবে সংগঠনটির সচিব মহসিন হক হিমেল বলেন, ‘সংগঠনের সদস্য হোটেলগুলো থেকে তথ্য আসছে যে, অতিথির সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। আয় কমে গেছে। ফলে হোটেল পরিচালনায় লোকসান হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে।পরিস্থিতি খারাপ হলে হোটেলগুলো একেবারে অতিথি শূন্য হয়ে পড়বে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












