শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত »
একটি জাতি স্বপ্নের মাপকাঠি ততটা শক্ত যতটা তার শিক্ষার গোড়া পাকাপোক্ত। তবে কেমন আছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, কোথায় দাঁড়িয়ে আছে আমাদের মেরুদণ্ড। এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ঠিকই কষতে হবে গত একটি বছরের হিসাব।
২০২০ সালে পৃথিবী ব্যাপী করোনার হানা, চারদিকে মৃত্যু আর থমকে যায় জীবনযাত্রা। ঘরে আবদ্ধ ছিলো জীবন-জীবিকা। সামাজিক দূরত্ব, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সমারোহ। বিশ সালের করোনার বিষে ক্ষত বিক্ষত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। ঐ বছরের ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লকডাউন যেন থামতেই চায় না, কখনো মৃদু, কখনো কঠোর, আবার কখনোই বা চোর পুলিশ খেলার মতো হাস্যরসাত্মক কাহিনী।
পেরিয়েছে আরো একটি ২৬ মার্চ, আরো একটি বছর, লকডাউনের ভীড়ে আমজনতার ভীড় যেন থামানো যায় নি কখনো। তবে এতকিছুর পর একদিনের জন্যেও দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণীকক্ষে বসেনি পাঠদানের আসর। এক বছরেরও বেশী সময় ধরে বন্ধ ছিলো দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে অনলাইন মুখী পাঠদানের ব্যাপকতা ছিলো লক্ষণীয়। জুম অ্যাপের মাধ্যম পাঠদানের ব্যবস্থা ছিলো প্রশসংনীয়। তবে সেই অনলাইন মুখী পাঠদানের প্রভাব এখন অকালেই বিনষ্ট। অনলাইনের পাঠ তৈরীর কথা বলে হাজার খানেক টাকা দিয়ে গিগাবাইট (জিবি) কিনে সেই ইন্টারনেট প্যাক গুলো ব্যবহৃত হচ্ছে অনলাইন গেমস গুলোতে। দল বেঁধে দেশ ব্যাপী গেমস নেশার ব্যাপ্তি বেড়েছে। পাবজি, ফ্রি ফায়ারের মতো আরো নানা গেমসে দিনের অধিকাংশ সময় পার করছেন কোমলমতী শিক্ষার্থীরা।
অনলাইন কার্যক্রমের এই বিষয়টাকে অনেকটা নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন শুরুর দিকে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে এটির প্রভাব পুরোপুরি নেতিবাচকের দিকে হাঁটছে। এদিকে করোনার এই পরিস্থিতিতে কবে নাগান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে তা নিয়ে আছে উৎকণ্ঠা, রয়েছে সংশয়। একের পর এক তারিখ ঘোষণার পরও আবার পিছিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দিনক্ষণ।
২০২১ সালের এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি কবে হবে তা নিয়েও বেশ চিন্তায় আছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজটের আংশকা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
এরই মধ্যে শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে সুপারিশ করেছে ফ্রি ফায়ার ও পাবজির মতো জনপ্রিয় দুই গেমস বন্ধের জন্য।
দুই মন্ত্রণালয় থেকে এমন সুপারিশ পেয়ে এ নিয়ে আলোচনা করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি থেকে সরে আসে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী ড. রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশের মোট প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচকতার চেয়ে নেতিবাচকতা বেশী। তবে এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তি প্রয়োজনীতা অনুধাবন করতে পেরেছি। আজ থেকে ৫ বছর আগেও আমরা জুম, গুগলমিটসহ আরো বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপস গুলো সাথে পরিচিত ছিলাম না।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম এটি আমার পাঠদানের মূল পদ্ধতি নয়, করোনার এই পরিস্থিতিতে আমরা ছাত্রছাত্রীদের অনেকটা বাধ্য হয়ে এই পদ্ধতিতে পাঠদান দিয়ে যাচ্ছি। জোরপূর্বক এই পাঠদানের ফলে শিক্ষার্থীরা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে অনলাইন গেমস গুলোর দিকে ঝুঁকেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ ড. কাজী খসরুল আলম কুদ্দুসী বলেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের জন্য জরুরী। তবে অতি দ্রুত যদি আমাদের শিক্ষা কার্যক্রমের মূল মাধ্যমে ফিরে না যাওয়া যায় তাহলে রাষ্ট্র শিক্ষাক্ষেত্রে তার কাঙ্ক্ষিত গ্রহণ যোগ্যতা হারাবে।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আমাদের শিশুদের জন্য অনলাইন গেমসগুলো নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












