বাংলাধারা প্রতিবেদন »
লক্ষীপুরে অপহরণের মাত্র ১০ ঘন্টার মধ্যে ১৭মাসের এক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে মায়ে কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
অপহৃত শিশু মিনহাজ লক্ষীপুর পৌরসভার মামুন উদ্দিনের ছেলে। মামুন পেশায় রাজমিস্ত্রি।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনকার মত রোববার রাতে মামুন ও তার স্ত্রী কোহিনুর তাদের ১৭ মাসের ছেলে মিনহাজকে নিয়ে তাদের ঘরে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে ছিল। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে দেখতে পায় তাদের ছেলে ঘরের কোথাও নাই। এসময় কোহিনুরের মোবাইলটি খুঁজে পাওয়া যায় নি। পরে মামুনের মোবাইলে অপরিচিত নম্বর থেকে একজন কল করে জানায় মিনহাজকে তারা অপহরণ করেছে এবং তাকে ফিরে পেতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দিতে হবে।
অপহরণ ও মুক্তিপন দাবির খবর পেয়ে সোমবার সকালে লক্ষীপুরের পুলিশ সুপার ড. এএইচ এম কামরুজ্জামান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এর পরপরই অভিযানে নেমে দুপুর ১২ টার দিকে লক্ষীপুর পৌরসভার লাহারকান্দি গ্রামের একটি ডোবা থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে কস্টটেপ লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশে পরিদর্শক মোহাম্মদ সোলাইমানের নেতৃত্বে একটি দল।
লক্ষীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আননোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে তদন্তে নেমে পড়ে পুলিশ। তাক্ষনিক অভিযান পরিচালনা করে আপহরণের মাত্র ১০ ঘন্টার মধ্যেই শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপহরণের সাথে জড়িদের সনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
লক্ষীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল আফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, শিশুটির অবস্থা বর্তমানে ভাল আছে। তবে প্রায় ১০ ঘন্টা অভুক্ত থাকার কারণে একটু দূর্বল এবং অপরিচিত লোকের সাথে থাকার কারণে ট্রমায় আছে। আরো কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বলা যাবে তার কি অবস্থা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া পরিদর্শক সোলাইমান বলেন, আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা শিশুটির মুখে লাগানো টেপ খুলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












